Skip to main content

ইসলামি ফাইন্যান্সের পিএইচডি

 


আজকে আমাদের সিইওর সাথে আলোচনা করতে করতে বললাম, "দেখেন আমি বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ফাইন্যান্সের পিএইচডির অফার পেয়েছি আরও চার বছর আগে।

তিনি প্রশ্ন করলেন, গেলেন না কেন? এইটা দিয়ে কোন কাজ হবে না তাই? আমি বললাম, দুনিয়া আসলে ট্র্যাডিশনাল ফাইন্যান্স ও ইকোনমিক্সের মানুষই চালাবে। কীভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলে, কীভাবে বাজেট করতে হয়, এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট পলিসি লেভেল ডিসকাশন প্রচলিত নিয়মেই চলে। কোন ইসলামি স্কুল এগুলো শেখায় না। সবাই তৈরি করে ইসলামি ব্যাংকের ইমপ্লয়ী এবং ইসলামী বীমা কোম্পানির ম্যানেজার। এখন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যেখান থেকে পিলিসি লেভেলের ডিসকাশন তৈরি করতে পারে। কারণ প্রচলিত আইন কানুন, আই এম এফ নীতি, ম্যাথেমেটিকাল এনালাইসিস, একনোমেট্রিক্স ইত্যাদি নিয়ে কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতি চালাতে হবে এই ভিসন কারো নেই। সবাই চিন্তা করে হালাল মাংসের দোকানের মত। সেজন্য আপনাকে যখন প্রশ্ন করবে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ভালো যাচ্ছে না, এই এই খাত পিছিয়ে আছে। এখন কী কী করা যেতে পারে, তার জন্য ডাকবে প্রচলিত অর্থনীতির লোককে। এমন একটি ইসলামি অর্থনীতি প্রতিষ্ঠান নেই যে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে প্রচলিত ধারার চেয়ে ভালো ভাবে রাষ্ট্রকে আরও এগিয়ে নেয়ার কাজ করবে। এগুলো শেখায় না কেউ। কেবল ইসলামি ব্যাংক, বিক্রির শর্ত, বীমা ইত্যাদি নিয়ে পড়ে আছে। এজন্য বিশ্ব চালায় প্রচলিত অর্থনীতিবীদরা, এর মাঝে কেবল কিছু প্রতিষ্ঠান হবে সে সবকিছু মেনে নিয়ে একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে হালাল করার খেলা খেলবে। এভাবে আসলে হয় না।


বর্তমান অর্থ কাঠামোর সংস্কার ব্যতীত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। এই ব্যাপারে আমার প্রস্তাবনা সমূহ হচ্ছে ব্যাংক বা সরকার নতুন টাকা ছাপাতে পারবে না। বর্তমানে যেই পরিমাণ টাকা আছে সেইটা স্থির রাখতে হবে। অর্থনীতির আকৃতি বড় হবার সাথে সাথে মুদ্রার মান বৃদ্ধি পাবে। সরকার কোন ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে না। বরং বর্তমানে যেই দেনা আছে তা ধীরে ধীরে পরিশোধ করবে। সবশেষে, কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠান গুলো ঋণ ভিত্তিক ফাইন্যান্সিং থেকে বিনিয়োগ ভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এ প্রতিস্থাপিত হবে - ভেনচার ক্যাপিটাল মডেল। এমনটা নিশ্চিত করলে ১ দ্রব্য মূল্যের উর্ধ গতি কমবে। ২ সরকার স্বাধীন হবে ৩ লাভের ভাগ মানুষের মাঝে বন্টন হবে এবং কোম্পানি গুলো ঋণের চক্রে আবদ্ধ থাকবে না।


by mohaimen patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...