বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোকে দ্রুত বদলাতে হবে। হাস্পাতালগুলোর মান্ধাত্মা আমলের অরগানোগ্রাম দিয়ে আধুনিক সময়ের হাসপাতাল চালানো যায়না। এটা অবাক করার মতো বিষয় যত বড় সরকারী হাসপাতালই হোক না কেন কোন হাসপাতালে লণ্ড্রী বিভাগ নাই। হাসপাতালের লিনেন মানে অপারেশন থিয়েটারের ড্রেস, বিছানার চাদর, রোগীর পোশাক, জানালার পর্দা, বালিশের কভার এসব ধোয়া হয় বাইরে ধোপার কাছে থেকে। মাঝে মাঝে অপারেশন থিয়েটারের পোশাকের পিছনে পাখির গু দিয়ে ভর্তি থাকে, কাদা থাকে। এমনকি দুর্গন্ধ থাকে। সরকারি হাসপাতালে যারা কাজ করেছেন তারা জানেন। তো এই হাসপাতালে ইনফেকশন হবেনা তো কী হবে? হাসপাতালগুলোকে ঠিকাদারের মাধ্যমে লিনেন ধুতে দিতে হয় বাইরে। সকল হাসপাতালেরই একই দশা। ঠিকাদারেরা এটা ধুতে দেয় দরিদ্র ধোপাদের কাছে, তাঁরা খালে বিলে ধুয়ে খোলা আকাশের নিচে শুকাতে দেয়। পাখি তো ওই কাপড়ে হাগবেই। কোন সরকারী হাসপাতালে সিকিউরিটি বলে কোন ডিপার্টমেন্ট নাই। এতো মানুষ আসছে যাচ্ছে, এতো সম্পদ থাকে সেই হাসপাতালগুলোতে, এতো মারপিট হয়, ভাংচুর হয়; এমন কোন সরকারী হাসপাতাল আছে কিনা জানা নেই যেখানে ভাংচুর হয়নি। তাও সেখানে সিকিউরিটি বলে কোন ডিপার্টমেন্ট নেই। কোন সরকারী হাসপাতালে সাপ্লাই চেইন ডিপার্টমেন্ট নেই। অপারেশন ম্যানেজমেন্টের জন্য কেউ নেই। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেই, এপিডেমিওলজিস্ট নেই। এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট নেই। হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট নেই। রিসার্চ এণ্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট নেই। পেশেন্ট এডভাইস ডিপার্টমেন্ট বা কাস্টোমার কেয়ার ডিপার্টমেন্ট নেই। হেলথ ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, আইটি ডেটা সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট নাই, কোয়ালিটি এসিউরেন্স ডিপার্টমেন্ট নাই। অথচ হাসপাতালে মালীর পদ আছে, আছে মশালচির পদ। মশালচি মানে জানেন? বৃটিশ আমলে এই পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল যখন বৈদ্যুতিক বাতি আসেনি, এই মশালচি, মশাল বহন করতো। এই পদ এখনো আছে। আর কি কিছু বলবার দরকার আছে যে বাংলাদেশের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আমুল সংস্কার না করলে আমাদের এই হাসপাতাল দিয়ে আমাদের রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে যে আকাংখ্যা তা পূরণ হবেনা।
by pinaki Bhattacharya

Comments
Post a Comment