যেই ছেলেগুলো মারা গেল তার খুনের বিচার তো হওয়া লাগবে। আমি একটা ছবি দেখলাম টিনের পাত সামনে দিয়ে কিছু মানুষ বন্দুকের সামনে আন্দোলন করছে। কিন্তু বুলেট ঠেকাতে তো মোটা লোহার পাত লাগবে। সেই পাত দিলে উপরে হেলিকপ্টার এসেছে। এবারে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল হেলিকপ্টার। বহু জীবন ও সাহস দিয়ে যেখানে মানুষ রাস্তা ছাড়ে নাই সেখানেও হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ করে সব হিসেব বদলে দিয়েছে। ঢাকার আকাশে মিলিটারি এয়ারক্র্যাফট চক্কর দিয়েছে। লাগলে হয়তো সেখান থেকেও আক্রমণও চালানো হতো।
এবারে যদি বিচার না হয় সামনে থেকে পুলিশ প্রশাসন আরও মরিয়া হয়ে উঠবে। কারণ খুন করা আরও নরমালাইজ হয়ে যাবে। বেড়ে যাবে চাঁদাবাজি ও ঘুষ। তাই স্ট্রিট প্রোটেস্টের পাশাপাশি সিভিল প্রোটেস্টকে আমি গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট হিসেবে দেখছি । বিষয়টা আপনাদেরও ফোকাস করা উচিৎ।
পুলিশকে আঙ্কেল ডেকেও শেষ রক্ষা পায়নি ইফাত ।
আমার ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না। গুলিবিদ্ধ একটা ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় সে। বিষয়টি দেখে ওই হাসপাতাল থেকে আমার ছেলেকে পুলিশ টেনে বের করে নিয়ে বুকে গুলি করে মেরে ফেলে।’- কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন যাত্রাবাড়ীর অনাবিল হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া ইফাত হাসানের (১৬) মা কামরুন নাহার।বাবা বললেন, ছেলের প্রাণের বিনিময়ে এদেশ শান্ত থাকুক
খাটের পাশে ট্রাঙ্কের ওপর পড়ে আছে বই-খাতা। ফাঁকা চেয়ার-বিছানাও। আদরের বিড়ালটাও খুঁজছে তাকে। সবকিছুই আছে আগের মতোই, শুধু নেই সাগর।
বছরখানেক আগে ময়মনসিংহ নগরীর চৌরঙ্গীর মোড় এলাকায় নতুন একটি দালান তুলেছেন বাবা আসাদুজ্জামান। এখানেই ছেলের বাকি জীবন কাটবে- এমন ভাবনাই ছিল তার। ছেলেকে নিয়ে দেখেছিলেন অনেক বড় স্বপ্নও। সবকিছুই যেন এখন শূন্য।
এদের কাছের মানুষ যখন জিজ্ঞেস করে কেমন করে পারলি এতো পাষাণ হতে, উত্তর হয় "কিছু করার নেই, উপরের অর্ডার।"
ইনশাআল্লাহ একদিন এমন হবে, তারা জিজ্ঞেস করবে কেন আমরা চিরস্থায়ী জাহান্নামে? ফেরেশতারাও বলবেন "কিছু করার নেই, উপরের অর্ডার!"
সংগৃহীত

Comments
Post a Comment