Skip to main content

সন্তানকে আদর থেকে বঞ্চিত করছেন নাতো?

 


মনের ও পরিচর্যা করুন:

শরীরের মত মনেরও অসুখ হয়৷ শরীরের অসুস্থতা যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি সমস্যায় আমরা যেমন সহজেই ডাক্তারের কাছে যাই তেমনি মনের বা মানসিক সমস্যায় ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর কাছে যাওয়া দরকার৷ দিনদিন মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা বাড়তেছে আমাদের দেশে কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে এখনও আমাদের সমাজে মানুষ মনোবিজ্ঞানী বা মনোবিদদের কাছে যেতে চায় না৷ Strong stigma এখনও অনেক শক্ত আমাদের দেশে যেটা ভাঙা (Breaking Stigma) আপনার আমার কর্তব্য। তাই আপনি আমি নিজে মানসিক সমস্যার বা মানসিক জটিলতায় মানসিক রোগের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আজই শুরু করি৷ তবে মানসিক সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য নিজের মনের পরিচর্যা করুন আগেই৷ নিজেকে সময় দিন, বই পড়ুন, ভ্রমন করুন, প্রিয় জনের সাথে সময় কাটান, স্ক্রিনে সময় কম দিন (reduce device use), পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমান, সুষম খাবার খান, মনের কষ্ট গুলো বিশ্বস্থ কাউকে শেয়ার করুন, অনুভূতি গুলো প্রকাশ করুন সঠিকভাবে, রাগের নিয়ন্ত্রণ করুন অথবা healthy way তে রাগ প্রকাশ করুন। বর্তমানে অনলাইনে অনেক Psycho-Quak (যারা পেশাদার মনোবিজ্ঞানী নন কিন্তু নিজেকে মনোবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দেন) লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানসিক সমস্যায় সেবা অফার করে থাকেন৷ এদের থেকে সাবধান৷ মানসিক রোগের সমস্যায় একমাত্র চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী এবং সাইকিয়াট্রিস্ট চিকিৎসা প্রদান করেন৷ কারো মানসিক জটিলতা থাকলে ঢাকার শ্যামলিতে অবস্থিত মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শাহবাগে পিজি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে পারেন৷ এর বাহিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটেও চিকিৎসা নিতে পারেন। ছাত্র ছাত্রীরা ঢাবির টিএসসিতে সাহায্য নিতে পারেন। সবাই কে অনেক ধন্যবাদ৷ মো: আকবর হোসেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী
=========
সন্তানকে আদর থেকে বঞ্চিত করছেন নাতো?
একটি পরিবারে মূল শিকড় হচ্ছে Care এবং ভালোবাসা। মা বাবার কাছ থেকে ভালোবাসা, আদর পাওয়া প্রতিটি সন্তানেরই অধিকার। কিন্তু আমরা অনেক সময়েই আমাদের আশেপাশে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখতে পাই। অনেক সন্তানের জীবনে বাবা মায়ের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য ভালোবাসা পায় না, যত্ন পায় না। যার ফলে তারা তাদের জীবনের বেশির ভাগ সময়েই হীনমন্যতায় ভুগে। একটা নির্দিষ্ট সময়কাল পরে তারা হয়ত নিজেই নিজের কাজ করতে শিখে যায়, নিজের খেয়াল রাখতে শিখে যায়। কিন্তু এর বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই ব্যক্তির পরবর্তীতে জীবনে। সে যখন প্যারেন্ট হয়, তখন দেখা যায় সেও তার সন্তানদের ভালোবাসতে পারছে না, তাদের কেয়ার করতে পারছে না। সে নিজে একসময় যেই অবহেলা টা তার বাবা মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিল, সেটি সে তার বর্তমান পরিবারের উপর বিস্তার করছে। এবং এটি একটি Legacy-এর মত চলতেই থাকে।
সমাজের এই প্রথা ভেঙ্গে, নিজেদের মনের সেই অবহেলাকে ভুলে গিয়ে আমাদের এমন একটি সমাজ তৈরি করতে হবে যেখানে আদর-ভালোবাসা থাকবে, স্নেহ, মায়া মমতা থাকবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারি, যেখানে আমাদের সন্তানেরা খারাপ আচরণ বা Negative Parenting দ্বারা Traumatized হবে না। ===========================================


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...