Skip to main content

গল্প -বাজেভাবে আসক্ত

 


আমি যখন পর্ন দেখার প্রতি খুব বাজেভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম তখন আমার বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর!

একদিন স্কুলে টিফিনের পর দেখলাম কয়েকজন বন্ধু মিলে জটলা পাকিয়ে কি যেন করছে।আমি কৌতূহলী হয়ে তাদের কাছে গেলাম।আমাকে দেখেই তারা কিছু একটা লুকোনোর চেষ্টা করতে লাগল।আমিও নাছোড়বান্দা। আকুতি- মিনতির সুরে বললাম- তোরা কি করছিস আমাকেও দেখা। তাদের মুখে ক্ষাণিকটা চিন্তার ভাজ পড়ল।তারপর সবাই সবার সাথে চোখে চোখে কিছু একটা বলে নিল।আমি তখনও কৌতূহলী হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। -তোকে দেখাতে পারি এক শর্তে, তুই কাউকে বলবি না তো?গম্ভীর স্বরে বলল আদিব। কি এমন করছে তারা যেটার কথা কাউকে বলা যাবে না।মনে মনে ভাবতে লাগলাম। এর মধ্যেই আদিবের গম্ভীর স্বর- যদি পারিস তাহলে হাতে হাত রেখে প্রমিস কর। আমি আস্তে আস্তে আমার ডান হাতটা এগিয়ে দিলাম আদিবের হাতে। তারপর প্রমিস করলাম কোনদিন এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলব না। একটু পর দেখলাম অাদিব পেছন থেকে একটা ফোন বের করল।স্মার্ট ফোন।তখনকার সময় আমাদের কারো কাছেই ফোন ছিল না।স্মার্ট ফোন তো অনেক পরের ব্যাপার। আর স্কুলেও ফোন আনা নিষেধ ছিল।কিন্তু আদিবের কাছে অনেক আগে থেকেই স্মার্ট ফোন ছিল।তার বাবা বিশাল বড়লোক। প্রতিবছর তার বার্থডের সময় নানা কিছু গিফট দিত।এই ফোনটাও দিয়েছিল হয়তো। একটু পর আদিবের ফোনে কিসব নোংরা ভিডিও চলতে শুরু করল।তাদের সবার চোখে কেমন যেন অদ্ভুত দৃষ্টি এবং কেমন অচেনা অঙ্গভঙ্গি করতে লাগল। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-এগুলো কি আদিব?এগুলো দেখা তো পাপ।তোরা সবাই মিলে কি করে এসব দেখছিস! -পন্ডিতমশাই আপনার দেখতে মনে না চাইলে আপনি চলে যেতে পারেন। সাদ বলল। সাদের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সবাই জোরে জোরে হাসতে লাগল।আমার ঘেন্না লাগতে শুরু করল তাদের উপর। আর একটুও দেরি না করে চলে আসতে শুরু করলাম ওখান থেকে। পেছন থেকে আদিবের আওয়াজ -প্রমিসের কথা মনে থাকে যেন। পরদিন রাতে একফোঁটাও ঘুমাতে পারলাম না।সারা শরীরে কেমন যেন উত্তেজনা অনুভব করতে লাগলাম।আমার ভেতরের 'আমিটা' যেন জেগে উঠেছে। আদিবের দেখানো ভিডিও ক্লিপটা বারবার চোখের সামনে ভাসতে লাগল। পরদিন স্কুলে মনমরা হয়ে সারাক্ষণ পেছনের বেঞ্চে বসে ছিলাম।প্রতিদিনের মত আজকেও আদিব ও আরো কয়েকজন মিলে টিফিনের পরে জটলা পাকিয়েছে বাথরুমের পেছনে। আমি জানি তারা কি করছে। কিন্তু আমার সেখানে যাওয়া চলবে না।নিজেকে মনে মনে বুঝাতে লাগলাম।যাওয়ার সময় আদিব একবার চোখের ইশারায় ডেকে গেছে।কিন্তু আমার ভেতরের কোন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বারবার টানছে সেখানে যাওয়ার জন্য। সেদিন রাতে খুব বিচ্ছিরি আর নোংরা স্বপ্ন দেখতে থাকলাম।সেদিনই আমার ভেতরের এক নতুন পরিবর্তনকে আবিষ্কার করলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্যান্টের সাথে কিছু একটা লেগে থাকতে দেখলাম।এতদিন আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক নতুন জগতকে আবিষ্কার করলাম। পরদিন টিফিনের সময় আমি আর বেঞ্চে বসে থাকতে পারলাম না।আমার সততাকে বিলীন করে কোন এক অদ্ভুত, অচেনা অনুভূতির ডাকে সাড়া দিয়ে আমি চলে গেলাম আদিবদের অচেনা রাজ্যে। আমাকে দেখেই সাদ বলল- কি পন্ডিতমশাই খুব তো সাধু সেজে ভাব নিচ্ছিলেন।এখন কি ভেবে আসলেন? -আরে এসব মজা-মাস্তির ব্যাপারে সাধু সাজতে নেই,ইনজয় করতে হয়। সামি বলল। -আরে তোরা কি শুরু করলি? পোলাটা নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমাদের দলে চলে এসেছে।ওকে এবার ওয়েলকাম কর।আদিব বলল। -ওকে নতুন আইটেমটা দেখিয়ে ওয়েলকাম করা যাক।কি বলিস আদিব?রিপু বলল। তারপর সবাই একসাথে হেসে উঠল এবং সবাই মিলে নতুন জগতে ডুবে গেলাম। এরপর থেকে আমি প্রতিদিন আদিবদের সাথে যেতাম।মাঝেমধ্যে স্কুল বা কোচিং ফাঁকি দিয়ে পাড়ি দিতাম অচেনা অনুভূতির নতুন রাজ্যে। গ্রুপ স্টাডির নাম করে একসাথে সবাই মিলে এডাল্ট মুভি দেখতাম। নতুন নতুন আইটেম আনতে চলে যেতাম পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরের দোকানে। এর মধ্যেই স্মার্ট ফোনের জন্য বাবাকে চাপ দিতে শুরু করলাম।নানা বাহানা দেখিয়ে বলতাম স্মার্টফোন না দিলে পড়ালেখা হবে না।বাবার সে সামর্থ্য ছিল না।কিন্তু তাও তিনি নানা চেষ্টা তদবির করতে লাগলেন। মাঝেমধ্যে স্কুল ফাঁকি দেয়াটা একসময় নিয়মিত হয়ে গেল। পড়াশোনায় মন বসত না।সবসময় কেমন যেন বিভোর, মাতালের মত হয়ে থাকতাম।মাথা ঘুরাত,ঘুমঘুম ভাব থাকত সবসময়। পরিবারের সবার সাথে খারাপ অাচরণ করা শুরু করলাম।বড়পা এবং মায়ের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারতাম না।শত বন্ধন ছিন্ন করে নারী রূপটা আমার কাছে প্রাধান্য পেয়ে যেত।অস্বস্তি লাগত সে সময়। নিজেকে খুব বেশি একা লাগত।মাঝেমাঝে নিজের প্রতি ঘৃণা হতো প্রচন্ড রকমের। কারো সাথে শেয়ার করতে পারতাম না কিছুই।আগে আমি যাদের সাথে চলাফেরা করতাম এখন তারা অনেকেই আমাকে অন্য চোখে দেখত।আমি যাদের সাথে মিশতাম তারা সবাই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিল।আমি আরো বেশি এই অন্ধকার জগতে ডুবে যেতে লাগলাম। একবছর পর বার্ষিক পরিক্ষায় আমার রেজাল্ট খুব খারাপ হলো।শুধু আমার না আমরা যারা যারা আসক্ত ছিলাম তাদের অনেকেরই রেজাল্ট খারাপ হলো। আমি এক বিষয়ে ফেইল! অথচ আমার রোল সবসময় দশের মধ্যে থাকত।রেজাল্ট শুনে বাবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।তিনি অনেক বেশি অবাক হলেন।হেডস্যারের কাছে নানা আকুতি মিনতি করলেন যেন আমাকে প্রমোশনটা দিয়ে দেয়। হেডস্যার আমাকে ভালো ছাত্র হিসেবে চিনতেন।বাবার সাইন নেয়া হয় যেন পরের বার ফেইল করলে আমাকে সরাসরি ডিমোশন দিতে পারে।বাবা কাঁপা কাঁপা হাতে সাইন দিলেন। বাসায় আসার পর রাতে বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমার কোন সমস্যা আছে কিনা। আমি বাবাকে সত্যি কথাটা বলতে পারলাম না।শুধু বললাম কাল থেকে ভালো করে পড়ব বাবা। -দেখ বাবা সাইকেল রিপেয়ারিং করে আর ক'টাকা পাই।যা পাই তা তো তোর পেছনেই খরচ করছি।তুই ভালো রেজাল্ট করলেই আমরা খুশি।নয়তো আমার এতো পরিশ্রম বৃথা যাবে। কিন্তু আমি আমার কথা রাখতে পারিনি,কাল থেকে ভালো করে পড়তে পারিনি। আমি আরো বেশি ডুবে যেতে থাকলাম অন্ধকার থেকে গভীর অন্ধকারে। || একদিন আদিব বলল- এভাবে আর কতদিন শুধু ভাচুর্য়াল ফিলিংস নিব।এবার নতুন কিছু করতে হবে। -হুম।এভাবে আর থাকা যায় না।হাত কচলাতে কচলাতে বলল সাদ। সন্ধ্যায় মিটিং বসল সামিদের পুকুর পাড়ের বটতলায়। জায়গাটা সুনশান। কোন মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া এখানে আসে না। সবাই মিলে বিরাট প্ল্যান করলাম।প্রথমে কারো কারো দ্বিমত ছিল প্ল্যানটায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবার মুখেই ফুটে ওঠল ক্রুর হাসি। সাতদিন পর পাড়ার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মিতুকে আমরা রেপ করলাম।শুধু রেপ না সাথে গলার এক-তৃতীয়াংশ কেটে ফেটেছিলাম!মেয়েটা অনেক বেশি ছটফট করছিল।লাশ লুকিয়ে রেখেছিলাম সামিদের বটতলায়। এর ঠিক পাঁচদির পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাব।কিন্তু তার আগেই আমরা ধরা পড়ে যাই। পুলিশ যখন আমাকে বাড়ি থেকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল মা কাঁদতে ছিল আর বলতেছিল- আমার ছেলে নির্দোষ।ও এত বড় পাপ কাজ করতে পারে না।ও ছোট মানুষ ওকে ছেড়ে দেন। বাবা একবার এসে জিজ্ঞেস করলেন- রাতুল তুই কি এই খুনের সাথে কোনভাবে জড়িত? আমি কিছু বলতে পারলাম না।শুধু চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম। পুলিশ আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। শেষবারের মতো বড়পা কেঁদে কেঁদে বললেন- রাতুল তুই বল তুই এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িত না।তোকে ফাঁসানো হচ্ছে। বল,ভাই আমার,বল। এবারেও আমি কিছু বলতে পারলাম না।শুধু দুফোঁটা চোখের জল ফেললাম। পেছনে মায়ের গগনবিদারী চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসছে। || প্রথম প্রথম মা এবং বড়পা আমাকে দেখতে যেত জেলে।বাবাও যেতেন মাঝেমাঝে। একদিন জেলে বড়পা চুপিচুপি এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল- রাতুল তুই কি আসলেই এ পাপ কাজ করেছিস? যে বড়পা আমাকে ছোট থেকে কোলে করে বড় করেছে,যে বড়পা আমার মাংস পছন্দ বলে তার পাতের মাংসটা আমার পাতে তুলে দিত,যে বড়পা তার টিউশনির টাকা দিয়ে আমাকে নতুন জামা কিনে দিত তার কাছে আমি কি করে বলতাম যে আমি ধর্ষক,আমি খুনি! আমি রীতিমতো চুপ করে রইলাম।বড়পার বুঝতে বাকি রইল না। -কেন তুই এ পাপ করলি।তোর কারণে প্রতিদিন মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া হয়,মা রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে ওঠে, বাবাকে সবাই ধর্ষকের বাপ বলে ডাকে,আমার কলেজ যাওয়া বন্ধ, পাড়ার লোকেরা বাড়িঘর ভাঙতে আসে।তুই কেন এ পাপ করলি!বড়পা কাঁদতে কাঁদতে বলল। এরপর আমার নয় বছরের জেল হলো।আমি এবং আরেজন বন্ধু বাদে বাকিরা কিভাবে যেন ছাড়া পেয়ে গেল! ছোট হওয়ায় ফাঁসি থেকে রেহাই পেয়ে গেলাম। আমার পরিবারের কেউ আর কোনদিন দেখা করতে আসেনি। বছর ঘুরতেই নাকি বড়পার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু মেয়ের ছোট ভাই একজন ধর্ষক এবং খুনি এটা জানার পর বিয়েটা ভেঙে গেল। কোন এক মাঝরাতে বড়পা নাকি তার প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল।বাবা অনেক খোজাখুজি করেও পাননি। বাবার হার্টের অসুখ ছিল আগে থেকেই। সেটা একসময় বড়মাত্রার রূপ নিল। কয়েকদিন পর বাবা হার্ট অ্যাটাক করলেন।তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।কিন্তু আমার নির্মল হৃদয়ের বাবা এত কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সুখের দেশে চলে গেলেন।মা অনেকটা পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। পাড়ার অনেকের কাছেই নাকি বলত তাকে খুন করতে।আর বলত তার ছেলে অনেক ভালো ছিল। এসব কথা আমাকে আমার বাল্যবন্ধু নিজাম জানাত।তার ডিউটি ছিল জেলে। একদিন কাক ডাকা ভোরে নিজাম আমাকে ডাকতে লাগল।এত সকালে কয়েদিদের কেউই উঠে না।নিজামের কন্ঠে উৎকন্ঠা। কাঁপা কাঁপা সুরে বলল একটা দুঃসংবাদ আছে। আমার পুরো জীবনটাই আমার কাছে দুঃসংবাদ মনে হতো।তাই নতুন করে আর কি দুঃসংবাদ আসতে পারে এটা ভাবতে লাগলাম। মায়ের কিছু হয়েছে?উৎকন্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। -তোর মা বোধহয় একা থাকতে খুব ভয় পায়। তাই না। -এসব বলছিস কেন?নিজামকে জিজ্ঞেস করলাম। -তোর মা তোর বাবার দেশে চলে গেছে। এখন তাকে আর একা থাকতে হবে না। আমি নিস্তব্ধ হয়ে রইলাম। -তোর মায়ের মরণের জন্যে বোধহয় তর সইছিল না।তাই শেষ পর্যন্ত গলায় দড়ি দিল। এতদিনের এই যন্ত্রণা সইতে সইতে আমার মনটা পাথরের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছিল। চোখ দিয়ে পানি পর্যন্ত আসত না।কিন্তু এবার পাথরের মত শক্ত মন বরফের মত গলে তারপর সেই পানি চোখ দিয়ে বর্ষিত হতে লাগল।আমি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলাম।নিজাম আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল যেভাবে ছোটবেলা আমার মা আমাকে ধরে রাখত। || আজ নয় বছর পর জেল থেকে ছাড়া পেলাম।গ্রামের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু আমার প্রতি মানুষের ঘৃণা বোধহয় আজও রয়ে গেছে। তাই দিনে আসার সাহস পেলাম না।একজন বন্ধুর সাহায্য নিয়ে মা-বাবার কবরের পাশে এলাম।বন্ধুগুলোও কেমন তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে এখন। এতদিন পর কবর দুটো প্রায় ধ্বংসাবস্তায়। মাঝখানে একটা গোল গর্ত হয়ে আছে।চারপাশে ছোট ছোট গাছপালায় ভর্তি হয়ে আছে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আজ নিজেকে অনেক বেশি অসহায় মনে হতে লাগল। মা-বাবা বোধহয় কোনদিন আমাকে ক্ষমা করবে না।আমাকে শুধু একজনকে খুন করিনি আমি তিনজনকে খুন করেছি! আমি খুনি! আমি খুনি! চিৎকার করে বলতে লাগলাম। এ শহরের প্রতিটা গাছের পাতাও জানে আমি খুনি, আমি ধর্ষক। আমাকে এ শহর ছেড়ে পালাতে হবে। অনেক দূর চলে যেতে হবে।নয়তো তাদের অবহেলা আমাকে তিলে তিলে মেরে ফেলবে।এতকিছুর পরেও আমি বাঁচতে চাই।আমি পুরনো দিনগুলো ফিরে পেতে চাই। পাশের আম গাছে হুতুম পেঁচা ডাকছে। তার ডাকের সাথে সাথে আমি চলে যাচ্ছি নতুন শহরে।নতুন শহরে সবাই জানবে আমি অনেক ভালো মানুষ।আমাকে তারা দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতে পারবে না। আমাকে বাঁচতে হবে,যন্ত্রণাবিহীন একটা রাতের জন্যে হলেও বাঁচতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...