বিকাশের চেয়ে নগদে টাকা পাঠানোর খরচ কম।রকমারির থেকে ওয়াফিলাইফে বইয়ের দাম কম। তারপরেও মানুষ বিকাশ এবং রকমারি ব্যবহার করে। তার কারণ কী? এমন যদি হতো যে তারা গুণে মানে আলাদা পণ্য বিক্রি করে তাহলে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া যেতো। কিন্তু তারা একদম একই প্রোডাক্ট বিক্রি করে। উভয়ের সার্ভিস ভালো। কেউ কাউকে ঠকায়নি। মার্কেটিংও করছে উভয়ে। কিন্তু তারপরেও কেন মানুষ এক দিকে যাবে? অর্থনীতির থিওরী দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। কারণ যদি দুইটা জিনিস যদি একই রকম হয় এবং একটার দাম আরেকটার চেয়ে কম হয়, সবাই কম দামের জিনিসটা পছন্দ করবে স্বাভাবিক। তাহলে একটি শহরে পাশাপাশি বিকাশ ও নগদ থাকা স্বত্বেও কেন একই দোকান থেকে মানুষ বিকাশে টাকা লেনদেন করে? আপনি হয়তো বলবেন দশ বিশ টাকার পার্থক্য নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন ঠিক একই ব্যক্তি বাসের হেল্পারের সাথে দুই টাকা কম রাখার জন্য ঝগড়া করে। আমার মতে ব্যাখ্যা একটাই। মানুষ খুব বেশী চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয় না। মাথায় যা আসে তা করে। সবাই যা করে, যা ভালো মনে করে তাই করে। সেজন্য যখন আমরা দেখি সবাই বসুন্ধরা মার্কেটে যাচ্ছে, আমিও যাই, সবাই বিকাশ ব্যবহার করছে, আমিও করি, সবাই ভাংতির অভাবে দুই টাকা না দেওয়ার জন্য হেল্পারের সাথে ঝগড়া করছে, আমিও করি। ইত্যাদি। মার্কেটারের জন্য অন্যতম একটি লাভজনক কাজ হবে ট্রেন্ড তৈরি করতে পারা এবং তা ধরে রাখা। একবার তা হয়ে গেলেই ছক্কা। খেয়াল করে দেখবেন টিভিতে যতো পণ্যের বিজ্ঞাপণ চলে তার প্রায় সবই অদরকারী যেমন পেপসি, কোক, ডিওডোরেন্ট, ফেয়ারনেস ক্রিম, চিপস, বিস্কুট সহ নানা অস্বাস্থকর খাদ্য। এগুলো ছাড়া মানব প্রজাতি হাজার বছর ভালোভাবে বেঁচে ছিল এবং বাঁচতে সক্ষম। এগুলো কোন প্রযুক্তিও না যা দ্বারা আমরা নতুন কিছু সাধন করতে পারি। এক কথায় সমাজে এদের না থাকায় কিছুই যায় না আবার এদের উপস্থিতি খুব একটা দরকারী না। তাহলে কীভাবে এগুলো সমাজের অংশে পরিণত হয়েছে? জি, আমি আমার বাবাকে দেখেছি কোক খেতে, বড় ভাইকে দেখেছি বেনসন সিগারেট খেতে বোনকে দেখেছি ফেয়ার এন্ড লাভলী মাখতে এভাবে সবাইকে দেখেছি বিকাশ ব্যবহার করতে, রকমারি থেকে বই কিনতে তাই নিজেও তাই করছি কোন চিন্তা ভাবনা করা ছাড়াই। এক কথায় মানুষ সব সময় যৌক্তিক চিন্তা করে না যা অর্থনীতির তত্বকে কিছু কিছু স্থানে অকার্যকর করে ফেলে এবং কিছু কিছু ব্যবসাকে লাভবান করে।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
জি, আমি আপনার মতন মানুষগুলোর জন্যই কলম ধরেছিলাম। কারণ বিদেশে থাকতে আমাকে মানুষ প্রশ্ন করতো ইসলামে সুদ হারাম কেন? আমার কাছে উত্তর ছিল না। আমি অনেক লজ্জাবোধ করতাম সারা জীবন সুদ নিয়ে পড়েছি ইসলাম ধর্মকে ধারণ করি কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই।
ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলাম অন্যান্য মুসলিম পণ্ডিতরাও এই বিষয়ে গভীরে উত্তর দিন নাই যা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে এবং সবাই মাথা নাড়িয়ে বলবে সুদ আসলে একটা খারাপ জিনিস। শিক্ষক শ্রেণী কক্ষে বলবে সুদ আসলে অর্থনীতির জন্য ভলো না। আইন প্রণেতারা বলবে সুদ জিনিসটা খারাপ আমরাও স্বীকার করি। সাধারণ মানুষ এর খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
ব্যক্তি জীবনে আমি পাপিষ্ট হতে পারি কিন্তু আল্লাহ আমাকে এগুলোর উত্তর শিখিয়েছেন। এখন প্রচার করি। আপনরাও করবেন। আর কোন বই না পড়তে পারলে অন্তত ব্যাংকব্যবস্থা ও টাকার গোপন রহস্য বইটি পড়বেন।
অন্যকে বুঝাবেন। এভাবেই তো ইসলাম বুদ্ধি-বৃত্তিকভাবে প্রচারিত হবে। ব্যাপারটা সুন্দর না?
মোহাইমিন পাটোয়ারী
==============================================================
অবসর পেলেই টিকটক বা ফেইসবুকে না ঢুকে ইবাদত করার অভ্যেস গড়ে তুলুন। আমরা যদি উম্মাহ হিসেবে অগ্রসর হতে চাই আমাদেরকে সোনালী যুগের মানুষদের মতো ইবাদতে আগ্রহী হতে হবে।
অবসরে ইবাদত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন— নফল নামাজ পড়তে পারেন, কুরআন পড়তে পারেন, জিকির করতে পারেন, হাদিস পড়তে পারেন, কুরআন মুখস্ত করতে পারেন। এভাবে টার্গেট রাখতে পারেন যে এই সপ্তাহে আমি অমুক সূরাটি মুখস্ত করব, তারপর সেটা নামাজে তিলাওয়াত করব। কয়েক বছর পরে দেখবেন আপনার অনেকগুলো সূরা মুখস্ত হয়ে গেছে।
তারপর ওই সূরার তাফসীর পড়তে পারেন বা কোন আলেমের তাফসির শুনতে পারেন ওই সূরার উপরে। হিসনুল মুসলিম অ্যাপ থেকে দোয়া মুখস্ত করতে পারেন। হাদিস মুখস্ত করতে পারেন।
এভাবে কয়েক মাস পরে নিজের মাঝে উন্নতি দেখতে পাবেন। তরুণ বয়সেই যদি এই অসাধারণ সুন্দর অভ্যেসগুলো নিজের মাঝে গড়ে তুলতে পারেন, বার্ধক্যটা আপনার অতি সুন্দর কাটবে।

Comments
Post a Comment