Skip to main content

কয়েক হাজার বছর আগের কথা..


 আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের কথা...

প্রাচীন ব্যাবিলনে একজন রাজা ছিল... তাকে "মেলিশপিক" নাম দেওয়াটা একটু কঠিন কিন্তু মেলিশপিক তার সময়ে একটা অদ্ভুত পাথর খনন করেছিল... বরং সত্যি কথা বলতে কি... খোদাই করিয়েছিল। আমার কাছে এই পাথরের একটা ছবিও আছে যা আমি পোস্টের শেষে আপনাদের সাথে শেয়ার করব.... এটি বর্তমানে ফ্রান্সের এক জাদুঘরে রাখা আছে। এখন, এই পাথরে একটা গল্প খোদাই করা আছে যে রাজা মেলিশপিক... তার মেয়েকে একজন পুরোহিতের কাছে উপস্থাপন করছে, সমর্পণ করছে। কিন্তু এটাই মূল বিষয় নয়... বরং মূলত, আমি এখানেই আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই... যা রয়েছে সেই পাথরের চূড়ায়। ভালোভাবে তাকিয়ে দেখুন! একটা সূর্য, একটা চাঁদ আর একটা তারা। এই তিনটি চিহ্ন আসলে প্রাচীন ব্যাবিলনের তিন দেবতার নিদর্শন। সূর্য মানে "Venugreek" দেবতার চিহ্ন... চাঁদ মানে দেবতা "Sin" এর চিহ্ন... এবং তারপর তারা... যা দেবী "Ashtar" এর প্রতীক ছিল। আর এখানেই আছে গল্পের আকর্ষণীয় অংশ... ব্যাবিলনের লোকেরা তাদের দেবী আশতারের একটি তারকা চিহ্ন তৈরি করে রিপ্রেজেন্ট করত... এবং এটিকে ভেনিস বলা হত। এটি একটি আট কোণার নক্ষত্রের আকৃতির যা আজও ইংরেজিতে আছে... এটাকে "The Star of Ashtar" বলা হয় কিন্তু... ব্যাবিলন এবং সামারাতে অন্য আরো একজন ছিলেন, যার জীবনে একটা মহান ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। আর তা সূরা আল আনামে পাওয়া যায়। আর ঘটনাটি আমি আপনাকে একবার সহজ ভাষায় বলতে চাই যে একদিন সেই মানুষটি সূর্যের দিকে তাকিয়ে বলেন, "ওই আমার প্রভু।" কিন্তু তারপর সূর্য অস্ত যায়। অতঃপর তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, "ইনি আমার প্রভু।" কিন্তু তারপর সেই চাঁদও অস্ত যায়। এবং তারপরে রাতে সেই মানুষটি একটি কাওকাব জ্বলতে দেখেন এবং বলেন, "সম্ভবত এটি আমার প্রভু", কিন্তু সেই কাওকাবটিও অস্তমিত হয়।" এবং তখন সেই মানুষটি বলেন যে আমি তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আসমান ও জমিন তৈরি করেছেন এবং আমি তাঁর সাথে অংশীদার করব না। এরূপ টা কেন? কেননা এই ঘটনার মাঝে এমন একটি স্থান আসে যে, আমি ইব্রাহীমকে আসমান ও জমিনের সৃষ্টিগুলো দেখিয়েছিলাম, যাতে সে পূর্ণ ঈমান আনতে পারে। (আল-আনম 06:75) হজরত ইব্রাহিমকে দেখানো হয়েছিল যে এই ভেনাস ... এই আশতার তারা ... এটি কোন তারকা নয় ...যা ব্যাবিলনের লোকেরা একটি তারা তৈরি করে দেখায়। বরং সেই কাওকাবদের একজন ... এটা একটা কাওকাব... এটা একটা গ্রহ এবং এটা জাস্ট একটা প্লানেট... সূর্যের। দেখ, হে ইব্রাহীম!..... আপনার পালনকর্তা তিনি... যিনি আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। প্রাচীন ব্যাবিলনের মানুষ... তারা জানত না তারা কাকে উপাসনা করে এবং যেটাকে তারা তারকা হিসেবে চিত্রিত করে... সে তারকা নয়। বরং কয়েক হাজার বছর পর আল-কুরআনে তার জন্য সঠিক শব্দটি নজম নয়, কাওকাব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। "আমি একটি তারা দেখছি" মানে তিনি একটি কাওকাব দেখেছেন, তিনি একটি গ্রহ দেখেছেন। পবিত্র কুরআন... এগুলো কোন মানুষের কথা নয়... বরং এটা একটা মীরাকেল..... এক ও অদ্বিতীয় মহান সৃষ্টিকর্তার কালাম। চৌদ্দশত বছর আগে কুরআন ব্যাবিলনীয়দের এই ভুল সংশোধন করে বলেছিল... "যে আমার প্রভু ভুল করেন না... তিনি ভুলে যান না" (তাহা 20:52) - ফুরকান কুরেশি, পাকিস্তান Original Post: ফুরকান কুরেশি (পাকিস্তান) বাংলায়: The Divine Signature

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...