Skip to main content

'ফ্রি মিক্সিং' সমাজ ব্যবস্থা

 


আজকে মেয়েদের বিবাহ সমস্যা, যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, মেয়ে হাইজ্যাক এ সমস্তের মূলে রয়েছে 'ফ্রি মিক্সিং' সমাজ ব্যবস্থা। নিহার বানু হত্যা, শেফালী হত্যা, রীনা হত্যা, আরও অসংখ্য নারী হত্যা, এ সমস্ত হত্যার মূলে ফ্রি মিক্সিংয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষা ব্যবস্থাকেও দায়ী করা যেতে পারে। ছেলেদের বখাটেপনা, উচ্ছৃঙ্খলতা, শিক্ষকের অবাধ্যতা, পড়ালেখায় বিমুখতা ইত্যাদি সবকিছুর মূলে রয়েছে সহশিক্ষা এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও পর্দাহীনতা।

ফ্রি মিক্সিং সমাজে মেয়েরা ছেলেদের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায়। তখন সেখানে যদি শিক্ষা ক্ষেত্রে বা পরিবারে নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ছেলেমেয়েরা বিয়ে অর্থহীন ভাবতে শুরু করে। তখন ছেলেরা দায়িত্বপূর্ণ বিয়েতে অবহেলা প্রকাশ করে এবং দায়িত্বহীন ব্যভিচারের সুযোগ পায়। তখন যদি একান্ত বিয়ে করতেই হয় তাহলে মেয়ের পক্ষ কি দেবে তা নিয়ে দর কষাকষি শুরু হয়ে যায়। তারপর মা বাবা বহু কষ্ট করে যদিও বা কোনো রকমে যৌতুকের ব্যবস্থা করে মেয়ে বিয়ে দেন, কিন্তু তারপরও ফ্রি মিক্সিং সমাজে ছেলেরা বিভিন্ন অশালীন কর্মকাণ্ডের সংস্পর্শে এসে ঘরের স্ত্রী নায়িকার মতো সুন্দরী নয় বলে তার প্রতি চালায় জুলুম নির্যাতন। শেষ পর্যন্ত হত্যাও সংগঠিত হয়ে যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। আজকের ফ্রি মিক্সিং সমাজে ছেলেমেয়েদের প্রেম করে বিয়ের রেওয়াজ বেড়েছে। বিয়ের আগেই তারা মেলামেশা শুরু করে। এ মেলামেশার পর কোনো কোনো সময় ছেলেরা মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়, আবার কখনো কখনো বিয়ে করতে রাজি হয় না। ফলে মেয়েটার জীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ বোঝাস্বরূপ, বিকারগস্থ অথবা দুঃখময়। এভাবে আমার জানামতে এ সমস্ত কারণে বহু ছেলে মেয়েকে বর্তমান সমাজে অবিবাহিত নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতে দেখা যায়। অনেক ছেলেও কোনো কোনো মেয়ের জন্য আত্মাহুতি দিচ্ছে। সবকিছুর ক্ষেত্রে একটিই কারণ বর্তমান, আর তা হচ্ছে স্রষ্টার বিধানের অবাধ্যতা। স্রষ্টার দেয়া নারী পুরুষের কর্মবন্টন ব্যবস্থার বিলুপ্তি ও শরিয়ত সম্মত পর্দার প্রতি অবজ্ঞা ও উপেক্ষা। বর্তমানে নারীর উপর নির্যাতন, হত্যা, অত্যাচারের মূল কারণ হচ্ছে - নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অশ্লীল সিনেমা, টিভি, অশালীন সাহিত্য ও পত্রিকা, বিজ্ঞাপনে নগ্নতা, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা। এসব কিছু পুরুষের চরিত্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বিবর্জিত বস্তুবাদী শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমান নারী পুরুষকে আত্মসুখ সর্বস্ব স্বার্থপর করে তুলছে। তদুপরি ফ্রি মিক্সিং সমাজে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছে। আজকাল প্রায় পরিবারেই অশান্তি, বিবাহ বিচ্ছেদ, তালাক, নির্যাতন, হত্যা সংঘঠিত হচ্ছে। এ সমস্ত নির্যাতন ও হত্যার কারণে নারীরা অর্থনৈতিক দিক থেকে আত্মনির্ভরশীল নয় বলে যে ধারণা করা হচ্ছে তা সঠিক নয় এবং এ ধারণা করাটা মারাত্মক ভুল৷ আমাদের দাদী, নানী, মা, চাচীরা কোনোদিন বাইরে কাজ করতেন না। তারা সাজসজ্জা করে মেকী প্রসাধনী করে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও বেড়াতেন না। তাই বলে কি তারা পরিবারে অবহেলিত হয়েছেন? বরং তাদের কোনো বিয়ে সমস্যাও হয়নি। শ্বশুর পরিবার তাদেরকে সম্মান করেই নিয়েছে। আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি নির্ভয়, পরকালের প্রতি অবিশ্বাস, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, চরিত্রহীনতা, জন্ম-নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক প্রসারই আজকের সমাজে নারী নির্যাতন, অত্যাচার ও হত্যার জন্য দায়ী। আমরা নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য নারীকে স্বাবলম্বী করতে এমন পথ বেছে নেবো না যা দ্বারা সমস্যা নিরসন না হয়ে সমস্যা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আল্লাহ কুরআনে কারীমে, রাসূল (সা.) এর জীবনাদর্শে পুরুষের সাথে মেয়েদের মিলেমিশে কাজ করার কোন নজির নেই। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন - জীবন রক্ষার প্রশ্নে পুরুষ ডাক্তারের কাছে মহিলা রোগি যেতে পারে চিকিৎসার জন্য। যুদ্ধক্ষেত্রে ও ইমার্জেন্সির সময় যেসব মহিলা সাহাবীদের যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার উদাহরণ আমরা দেখতে পাই, তাদের দায়িত্ব ছিল ক্যাম্প রক্ষণাবেক্ষণ, রান্না করা, আহতদের সেবাযত্ন করা, তাদের পানি পান করানো। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের মেয়ে সাহাবীরা কাঁধে করে মদিনায় নিয়েছেন। এরাই আবার সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসব সৈনিকদের সাথে পর্দা করেছেন। এখন যদি কেউ ভাবেন মুসলিম নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছে, তাহলে আমরা কেন সমাজে অবাধে মিশতে পারব না? এখানেই আল্লাহর বিধানের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। তা না হলে এ ধরনের চিন্তা মাথায় আসা স্বাভাবিক। (সংক্ষেপিত প্রবন্ধ) বই - নারী মুক্তি আন্দোলন ও ইসলাম লেখিকা - হাফেজা আসমা খাতুন

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...