আপনার সন্তানের ADHD বা Hyperactivity থাকলে, তাদের জন্য চার ধরনের খেলা খুবই কার্যকর হতে পারে: 1. সুইমিং: সুইমিংয়ে রিপিটেটিভ মুভমেন্ট থাকে, যা ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করে। সুইমিং করার সময় পুরো শরীর নড়াচড়া করে, এবং পানির calming ও soothing প্রভাব ADHD বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 2. ফুটবল: ফুটবল খেলায় প্রচুর টিম ওয়ার্কের প্রয়োজন হয়। এতে ফোকাস বাড়ে এবং এনার্জি বার্ন হয়, যা ADHD বাচ্চাদের জন্য খুবই কার্যকরী। ফুটবলের ফাস্ট-পেসড খেলা এবং কনস্ট্যান্ট মুভমেন্ট ADHD বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। 3. মার্শাল আর্ট: যেকোনো মার্শাল আর্ট যেমন তায়কোয়ান্দো বা ক্যারাটে, শিশুদের ডিসিপ্লিন, ফোকাস, এবং সেলফ কন্ট্রোল শিখায়। এতে একটি স্পষ্ট লক্ষ্য এবং স্ট্রাকচারড পরিবেশ থাকে, যা ADHD বাচ্চাদের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 4. র্যাকেট স্পোর্টস: টেনিস বা ব্যাডমিন্টনের মতো র্যাকেট স্পোর্টস ADHD বাচ্চাদের সেরেবেলামকে অ্যাক্টিভেট করতে সাহায্য করে, যা কো-অর্ডিনেশন সেন্টার হিসেবে কাজ করে। এটি প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে ব্যালেন্স বজায় রাখা সহজ হয় এবং ADHD-এর উপসর্গগুলো কমতে থাকে। আপনার সন্তান যে খেলাটি পছন্দ করে, সেটাই তাকে করতে দিন। চারটির মধ্যে প্রতিটি খেলতে হবে এমন নয়। কোন খেলাটি তার জন্য বেশি উপকারী তা দেখে নিন, এবং আপনি দেখবেন তার Hyperactivity ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ADHD এবং Anxiety কি একই?
না, ADHD এবং Anxiety একই জিনিস নয়।
ADHD এবং Anxiety দুটোতেই ফোকাসে সমস্যা হতে পারে, যেমন ভুলে যাওয়া এবং সহজেই Distract হওয়া—এই বিষয়গুলো সাধারণত দেখা যায়।
তবে এই দুটি অবস্থার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
Anxiety-তে Worry এবং Rumination (একই চিন্তা বারবার করা) হয়, যা ADHD-তে হয় না। অর্থাৎ, অ্যাংজাইটিতে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা করবে, ওভারথিংক করবে এবং তার চিন্তাগুলো সাধারণত নেগেটিভ হবে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে পেসিমিস্টিক (Pessimistic) ধারণা তৈরি হতে থাকবে, যা সাধারণত ADHD-তে হয় না।
ADHD-এর একজন মানুষ ফোকাস করতে চাইবে, কিন্তু ADHD-এর কারণে পারবে না। এটি একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার।
অন্যদিকে, Anxiety-তে একজন মানুষেরও ফোকাস করতে কষ্ট হবে, কিন্তু ফোকাসের এই সমস্যার মূল কারণ থাকে তার দুশ্চিন্তা। একই চিন্তা বারবার আসবে, অর্থাৎ Overthinking হবে।
সুতরাং, Worry এবং Rumination এই দুইটি বিষয় Anxiety-কে ADHD থেকে পার্থক্য করে।
*ADHD নাকি বাইপোলার:*
কীভাবে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট আলাদা করতে পারবেন বা আপনি বুঝতে পারবেন ADHD না বাইপোলার?
এখানে কিছু উপসর্গের মিল আছে, তবে তিনটি পয়েন্ট মনে রাখলে পার্থক্য বোঝা সহজ হবে।
প্রথমত, *ঘুমের পার্থক্য*। ADHD-তে ঘুমের কিছু সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু এটি খুবই গুরুতর নয়।
অর্থাৎ ADHD-তে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা থাকে। তবে বাইপোলারে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি মাত্র ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েও পরের দিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। এভাবেই পার্থক্য করা যায়।
দ্বিতীয়ত, *মুডের স্থায়িত্ব*। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে মুডের পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয়, কমপক্ষে ৪-৭ দিন ধরে। হঠাৎ করে খুব খারাপ লাগা বা খুব ভালো লাগার এই অনুভূতিগুলো
একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। ADHD-তে মুড দ্রুত পরিবর্তিত হয়, মিনিটে মিনিটে বা সেকেন্ডে সেকেন্ডে পরিবর্তন হতে পারে। মুড পরিবর্তনের এই ভিন্নতা দিয়ে পার্থক্য করা যায়।
তৃতীয়ত, *ইম্পালসিভিটি ও হাইপারঅ্যাকটিভিটি*। ADHD-তে ইম্পালসিভিটি এবং হাইপারঅ্যাকটিভিটি একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া হিসেবে থাকে। অর্থাৎ, ADHD-এ আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত সব সময়ই ইম্পালসিভ বা হাইপারঅ্যাকটিভ থাকে। কিন্তু বাইপোলারে, এটি একটি এপিসোড আকারে আসে, যা ৭ দিন বা ১৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। বাইপোলারে পুরো সময় ইম্পালসিভ বা হাইপারঅ্যাকটিভ থাকা সাধারণত দেখা যায় না।
এই তিনটি মূল পয়েন্টের মাধ্যমে ADHD এবং বাইপোলার ডিজঅর্ডারকে আলাদা করা যায়।

Comments
Post a Comment