মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয়ে নাই। তখন ছিলো মেট্রিক পরীক্ষা আর আই এ পরীক্ষা।
তো ১৯৭২ চেয়ার টেবিলকে পরীক্ষায় পাশ করায় দেয়া হয়েছিলো।
শুধু তাই না, সেই সময় সরকারী কর্মকর্তা আর কর্মাচারীতে সম্পূর্নরুপে আওয়ামী করণ করা হয়েছিলো। গত পঞ্চাশ বছরে আপনার যদি মনে সরকারী অফিসে কোন কাজকর্ম হয় না কেন তার জন্য এই ব্যাপারটার দায় মূখ্য। কারন হচ্ছে, এই যে তখন যাদের ঢুকানো হয়েছিলো অযোগ্য, তারা এইরকম বাটপার টাইপের লোক ছিলো, বাটপাররা নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকতে আরো অযোগ্য লোক রিক্রুট করতো।
দেশকে বেচে দেয়ার মতো দুর্নীতি করতো।
এমনকি আমাদের মহামান্য প্রধানমন্ত্রী সে সময় নকল করে পাশ করে যাওয়া সে জেনারেশনের সদস্য।
তো সেটা গেলো একটা ইতিহাস, ফাস্ট ফরোয়ার্ড করেন ১৯৯৬।
জামাতের সাথে আতাত করে, আওয়ামী লীগ দেশের কাছে মাপ-টাপ চেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। শেখ হাসিনা জায়নামাজে বসে, মানুষের সরাসরি আগের কৃতকর্মের জন্য মাপ চেয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
আসার পর বাংলাদেশের নকলের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। মানুষ নকল করে পাশ করে, বিভিন্ন সিস্টেম করে কোটা প্রথায় সরকারী চাকরিতে ঢুকা ইত্যাদি বেরে যায়।
২০০১ - ২০০৬ এর বিএনপির অনেক সমালোচনা আছে, কিন্তু তাদের অন্যতম সাফল্য ছিলো পরীক্ষায় নকল রোধ। সে সময় নকল বিরোধী অভিযান তীব্রতা পায়। মোটামুটি ফেয়ার পরীক্ষা ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা হয়।
২০০৯ এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে আবার। আবারো নকলের উৎসব শুরু হয়। শুরু হয় খাতায় কিছু লিখে আসলে পাশ করিয়ে দেয়ার যুগ। গণহারে জিপিএ ফাইভ এর যুগ। এই সময়ে একটা বড়ো অন্যায় হচ্ছে প্রশ্নফাস। এটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুপ নেয়। কোন ভাবেই এটাকে ঠেকানো যায় না। প্রশ্নফাস করে নিজেদের সিলেক্টিভ মানুষজন চাকরীতে নেয়া হয়।
এমনকি বাচ্চাদের ক্লাসেরও প্রশ্নপত্র ফাস করা হয়।
একটা বাচ্চার ফরম্যাটিভ ইয়ার গুলোতে যদি সে প্রশ্ন পেয়ে সে ছোট বেলা থেকে পরীক্ষা, কম্পিটিশন, শক্ত পরিশ্রম, চরিত্র গঠন ইত্যাদির কমপ্রোমাইজড হয়ে যায়। জীবনের সবচে শক্ত পরিক্ষা গুলোতে যদি এইরকম দুর্নীতি করে চান্স পাওয়া যায়, জিপিএ ফাইভ পাওয়া যায় পড়াশোনা না করে, তাহলে সে শর্টকাট খোজে সব জায়গায়।
এবার চিন্তা করুন এরা সরকারী কর্মচারী, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, গুরুত্বপূর্ন পদে।
ধরুন ভারতের সাথে ট্রেড নেগোশিয়েশন চলতেসে, যার নিজের ইন্ট্রেগ্রেটীর ঠিক নাই সে কি দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে নাকি কম্প্রোমাইজ আর নিজের পকেট ভরার ধান্ধায় থাকবে?
আজকে গাড়ীর ড্রাইভার আবেদ আলী তার ছেলে সিয়ামকে নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাসকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
কিন্তু এটা মূল নিয়ে প্রশ্ন করেই যেতে হবে?
কে বা কারা এগুলো এ্যালাও হতে দিয়েছিলো। বাংলাদেশের সকল ক্ষমতা কার হাতে কুক্ষিগত। উনি না কি সব জানেন সব বোঝেন?
বিরোধী পক্ষের সব রিপোর্ট তার কাছে থাকে।
ওনার কাছে এই রিপোর্ট ছিলো না যে কেন প্রশ্নপত্রফাস হচ্ছে?
যে আজকে এই বোম্বশেল রিপোর্ট করেছে দেখা গেছে সে শেখ হাসিনার সাথে একান্ত ছবি তুলেছে। রিপোর্ট হবার কয়েকঘন্টার মাথায় এদের গ্রেফতার করা হয়।
পুরো ব্যাপারটা কো অর্ডিনেটেড এটা বোঝায় যাচ্ছে।
এটা অবশ্যই উৎফুল্ল হবার মতো ব্যাপার কিন্তু সাথে সাথে যে ওঝা হয়ে ধরে, সর্প হয়ে ছোবল মারে তার কথা আমাদের দমে দমে বলতে হবে।
___
প্রশ্নপত্রফাস করা কে আমার কাছে অতীব ঘৃণ্য একটা অপরাধ। আপনি একজন অত্যাচার করলেন, খুন করলেন একজন মানুষ মারা গেলো তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হলো। খারাপ কাজ। ঠিকাছে।
কিন্তু আপনি একটা জাতিকে, জাতির ফিউচারকে করাপ্ট করে দিচ্ছেন, নকল/প্রশ্নপত্রফাস/অটোপাশ/জিপিএ ফাইভদিয়ে।
এটার মতো স্লো পয়জনিং আর ঘৃণ্য অপরাধ আর হয় না।
জাতির সাথে মীর জাফরের ক্যাটাগরী অপরাধ এটা।
এই যে কথা গুলো লিখলাম এগুলো একদম পোস্টার বানিয়ে ফেলতে হবে। যদি আমরা একটা ইস্যুও অনলাইনে সলভ করি এটা হচ্ছে সেই ইস্যু। আপনারা যারা এখনো মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ করে, প্রগতিশীলতা করেন,
গোপনে আওয়ামী লীগ করেন তারাও সোচ্চার হন। এটা কোন দলের ব্যাপারটা। এটা আপনাকে আর আপনার সন্তানকে সবচে বেশী এফেক্ট করবে।
- ইমতিয়াজ মির্জা
=============================================
Comments
Post a Comment