Skip to main content

ইসলামি রাষ্ট্র ছাড়া সত্যিকারের ইসলামি ব্যাংক

 


ইসলামি রাষ্ট্র ছাড়া সত্যিকারের ইসলামি ব্যাংক বানানো সম্ভব কিনা।

উত্তর শুনলে অবাক হবেন যে সম্ভব। এর জন্য প্রথমত আপনাকে ব্যবসা বাহানা না করে বরং ব্যবসা বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ, লাভ ও লোকসানের অংশীদার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনাকে ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ সিস্টেম পরিত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশের বা কোন দেশের আইনে এগুলো অবৈধ না। অর্থাৎ, কেউ জোর পূর্বক আপনাকে বাহানা করতে বলে না এবং ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ করতে কেউ চাপ প্রয়োগ করে না। বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য মুসলিম ও অমুসলিম দেশে এমন প্রতিষ্ঠান আছে যারা মানুষের থেকে টাকা নিয়ে এক্সপার্টদের দিয়ে সম্মিলিত ভাবে বিনিয়োগ করাচ্ছে। আমার থিসিস ছিল এই ফান্ডগুলো নিয়ে। আমার আগের চাকরিও ছিল এই সেক্টরে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ফান্ডগুলো সবচেয়ে বেশি আছে আমেরিকায়। এদেরকে বলে ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড। সাধারণত ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড তিন ধরণের হয়। যারা কেবল বড় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে তাদেরকে বলে মিউচুয়াল ফান্ড, যারা মাঝারি কোম্পানিতে সরাসরি অংশীদার হয়ে বিনিয়োগ করে তাদের বলে প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ড, আর যারা স্টার্ট আপে বিনিয়োগ করে তাদের বলে ভেঞ্জার ক্যাপিটাল ফান্ড। আমেরিকার ব্যবসা উন্নয়নের পিছে এই ফান্ডগুলো মূল কারিগর হিসেবে অবদান রেখেছে। আপনি গত ত্রিশ বছরে আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত কোম্পানি গুলোর (টেসলা, মেটা, গুগল সহ অনেকের) উত্থানের ইতিহাস দেখলে লক্ষ্য করবেন তাদের মূল শক্তি ছিল বিনিয়োগ, সুদ না। আর এই বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ফান্ড গুলো থেকে যা মূলত প্রকৃত ইসলামের মডেল। কিন্তু বর্তমানে যেই বাহানা চলছে সেইটা হচ্ছে সুদকে হালাল করার অপচেষ্টা। অনেকে জানতে চান ক্ষুদ্র পর্যায়ে কীভাবে হালাল ব্যবসা করবেন। যুগ যুগ ধরে যেভাবে করেছে, আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত যেই হালাল সিস্টেম চালু আছে ও ছিল সেই সিস্টেমে করবেন। যার যার বিনিয়োগ অনুযায়ী তার তার লাভ এবং কাজ অনুযায়ী বেতন। শবর্তমান মুদ্রা সুদের দলিল এই কথা সত্য, কিন্তু ইসলামি ব্যাংক নিয়ে মূল ইস্যু কাগজের মুদ্রা না। অভিযোগ হচ্ছে সুদ নিয়ে। সেজন্যই কেউ সোনার বাক্স হাতে নিয়েও যদি বলে মনে কর - আমি একজন ব্যবসায়ী। এখন তোমার যা লাগবে তা আমি দ্বিগুণ দামে বাকিতে বিক্রি করে (যদিও আমি ব্যবসায়ী না) মোট সোনা দ্বিগুণ করে নিব। এইটা ১০০% বাহানা। সুদের যত ক্ষতিকর প্রভাব (শ্রেণী বৈষম্য, সম্পদ পুঞ্জিভূত করণ, অলস ভাবে বসে পুঁজি বৃদ্ধি) সব এতে বর্তমান আছে। সাথে একটা নাটক যুক্ত হলো কেবল। ইসলামি রাষ্ট্রে এই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ হবে। পরিশুদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ, ইসলামি রাষ্ট্র এমন কোন ম্যাজিক না যা অর্থনৈতিকভাবে সুদকে ব্যবসা বানিয়ে দিবে। বিপরীতক্রমে আমরা যদি অর্থনৈতিকভাবে ব্যবসা করি তা সব যুগে ও সব কালে হালাল থাকবে। এর জন্য কাউকে দোষারভ করতে হবে না এবং বর্তমানেও ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড তৈরি করা নিষিদ্ধ না। ইসলাম সহজ এবং আল্লাহ আমাদের জন্য সাধ্যের অতীত বোঝা দেন নাই। তাই ঘুরিয়ে সুদ খাওয়ার চেষ্টা না করে আসুন হালালটাই খাওয়ার চেষ্টা করি। সবমিলিয়ে, একচুয়াল ইসলামী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান তৈরির যে আগ্রহ ও অগ্রসর, আমরা তার থেকে যোজন যোজন দূরে..এজন্য আমাদের পলায়নপর ও অজুহাতপ্রবণ মানসিকতা ভয়ানকভাবে দায়ী।


মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...