Skip to main content

সুদ যদি ক্ষতিকর হয় অর্থনীতিতে আমরা এতো উন্নতি দেখি কেন?

 


সুদ যদি ক্ষতিকর হয় অর্থনীতিতে আমরা এতো উন্নতি দেখি কেন?

একটি গল্পের মাধ্যমে উত্তরটি দেওয়া যাক। ধরুন, একশটি জোঁক আপনার শরীরে লাগিয়ে আপনি যদি বলেন জোঁক শরীরের অংশ আপনি অবশ্যই উন্নতি দেখবেন যে জোঁকগুলো ফুলে ফেপে উঠছে। এখন তারা আপনাকে বলবে আরও বেশী কাজ কর। আরও বেশী খাও। আপনি দেখলেন বেশী না খেলে শরিরে শক্তি পান না। তাই আপনি হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম শুরু করলেন। প্রচুর খেলেন। সাথে সাথে জোঁকেরা বলে উঠলো দেখ আমি তোমার ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। আমি তোমার শরীর ছেয়ে ফেলার পরে তুমি আগের চেয়ে বেশী আয় করছো আগের চেয়ে বেশী ভোগ করছো। একই সাথেও আমরাও বড় হয়ে উঠছি। তারমানে আমাদের উন্নতি হচ্ছে তোমার উন্নতি। আমরা আসার আগে কি এই উন্নয়ন চোখে দেখেছো? আমরা সহ তোমার মোট ওজন (জিডিপি) বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও খাট, আরও কাজ কর। নয়তো মারা যাবে। আমাদের রক্ত না দিলে আমরা তোমাকে মেরে ফেলবো। আর সমাজের সবাইকে বলবো তুমি রোগা দেখে মারা গেছ (ঋণ খেলাপী)। তখন সবাই তোমার লাশে থুতু ছিটাবে। সমাজের যারা আমাদের সবচেয়ে পেট পুরে রক্ত দিতে পারে তাদেরকে আমরা মডেল বানাবো, পুরস্কার দিব। সমাজের সবাই তাদের পুজো করবে আর আমাদেরকে বলবে উন্নয়নের সাথী। সত্যিই তো আমরা উন্নয়নের সাথী। এই দেখ - আমরা আসার আগে কি এতো টাকা, এতো খাওয়া এবং এতো কাজ চোখে দেখেছ? আপনি নিজেও তখন বোকা বনে যান এবং তাদের কথা মত কাজ করেন। তাদের ভয়ে কোন প্রতিবাদও করেন না। কারণ অবাধ্য হলেই তারা আপনাকে খেয়ে ফেলবে। ইতিমধ্যেই রক্ত চুষে দুর্বল বানিয়ে ফেলেছে। প্রতিবাদ করার শক্তিটুকু নাই। রাত দিন খেটে যান আপনি। সবাই মনে করে আপনি আপনার জন্য খাটছেন। কিন্তু আপনি আসলে খাটছেন জোঁক গুলোর জন্য। তারা একটা মুলা দেখিয়ে গাধার মতন আপনাকে খাটিয়ে পিঠে চড়ে বেড়াচ্ছে। আর আপনি ভাবছেন এটাই সাফল্য।

একটা খারাপ সিস্টেমের অংশ হয়ে সিস্টেমকে বদলাবেন এই চিন্তাটা সঠিক না। কারণ, সিস্টেমই একদিন আপনাকে খারাপ করে দিবে অথবা আপনার ভালো গুণগুলোকে দাবিয়ে দিবে। আর যদি আপনি না বদলান মূল দায়িত্ব থেকে আপনাকে সরিয়ে রাখবে।

তাই, নিজেকে খারাপ সিস্টেমের অংশ বানাবেন না। নবী রাসুলদের সুন্নত এমন ছিল না। ইব্রাহিম আ স্বপ্ন দেখেন নাই যে নিজ জাতির সর্দার হয়ে দ্বীন কায়েম করবেন। মুসা আ তো নিজে ফেরাউন হয়ে উঠে বনী ইসরাঈলকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তা চান নাই। রাসুল সা কেও মক্কার সর্দার বানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন নাই। আপনিও সেভাবে কাজ করুন। সবকিছু খারাপ, সবকিছু হারাম বলে বসে থাকা কোন সমাধান হতে পারে না। সমাধান নিয়ে চিন্তা করতে হবে, এই ব্যাপারে কাজ করতে হবে এবং কথা বলতে হবে। আজকে আপনি যেই গাছের চারা রোপন করবেন আল্লাহ চাইলে ১০০ বছর পরে হলেও তা ফল দিবে। আপনি চেষ্টা করুন, স্বপ্ন দেখুন - বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। প্রশ্ন হচ্ছে আপনার সেই চেষ্টা ও পরিকল্পনা আছে কি?

মোহাইমিন পাটোয়ারী


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...