খবর টা কি আপনারা দেখেছেন?ভারত বাংলাদেশকে 500 মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিবে। খুশি লাগছে খুব? একটু পরে খুশি হন। কিছুদিন আগে দেখিয়েছি রোড এবং রেল পথে ভারত যেই ঋণ দিয়েছেন তা মূলত ট্রানজিট কেন্দ্রিক। আর এই ঋণ দিয়েছে আমাদেরকে যাতে আমরা তাদের থেকে অস্ত্র কিনি। বেশ লাভ জনক ব্যবসা তাই না? ঋণ দিয়ে সেই ঋণের টাকায় অস্ত্র কেনাবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা পাবে মুনাফা আর সুদ পাবে সুদখোর। এক বলেই চার ও ছক্কা। আরো একটা দান আছে। নেপোলিয়ান বোনাপার্ট সেটাকে একদা কোট করেছেন এভাবে "ঋণ দাতার হাত গ্রহীতার উপরে থাকে।" অর্থাৎ, যে দেয় তার ক্ষমতা গ্রহীতার উপরে থাকে। আমরা সামরিক প্রযুক্তি নিজ দেশে অর্জনের জন্য এই ঋণ নিলে আমার কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু একেবারে কেনার জন্য শর্ত সাপেক্ষে ঋণ? আচ্ছা, এত টাকা খরচ করে আমরা যুদ্ধ করবো কার সাথে? যার কাছে ঋণী, যার প্রযুক্তি দিয়ে চলি এবং যার হাত মাথার উপর; তার বিরুদ্ধে? একটাবার ভাবেন তো - বাংলাদেশের শত্রু কে যার সাথে যুদ্ধ করতে এই অস্ত্র কিনছি? সবমিলিয়ে এসব অপব্যয় না করে বরং সামরিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করার পিছে বিনিয়োগ করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। তাহলে আমাদের দেশ সত্যিকারের শক্তিশালী হতো আর কারো কাছে এমন হাতও পাততে হতো না।
-------------------------------------------------------------------------------------------------
যেই চার গ্রুপের ৬৪৯৭ কোটি টাকা সুদ মাফ করে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছে নাসা গ্রুপ এবং এস আলম গ্রুপ। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে নাসা গ্রুপ ঋণ নিয়েছিল জনতা ব্যাংকের থেকে এবং এস আলম গ্রুপ ঋণ নিয়েছিলো ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে।
একটি বিষয় খেয়াল করে দেখেন, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম হেলাল "শিরিয়া ভিত্তিক" এক্সিম ব্যাংকের মূল মালিক ও চেয়ারম্যান। আর এস আলম সাহেব তো একাধিক ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এরা নিজেরা ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন করে না। নিজেরা কারবার করে প্রকাশ্য সুদী ব্যাংকের সাথে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকিং এর নাম ভাঙিয়ে আপনাদের সাথে মহাজনী ব্যবসা করে। দ্বিতীয়ত, তারা মানুষের থেকে মেপে মেপে সুদ নিচ্ছে। যারা তাদের ব্যাংক গুলো থেকে ঋণ নিয়েছেন তারা জানেন রক্ত বেচে হলেও সুদ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যখন ঋণ নিল তখন তারা মাফ করিয়ে নিচ্ছে। কত গুলো অন্যায় এক সাথে। মানুষের সাথে প্রতারণা করা। সুদে ঋণ নেওয়া এবং অন্যের থেকে মাপ বুঝে নিলেও অন্যকে কম করে দেওয়া। সমবেদনা তাদের জন্য, যারা এনাদের ব্যবসাকে বড় করতে ঈমানী চেতনা থেকে লড়াই এবং নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করে গেছেন।মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments
Post a Comment