Skip to main content

মনোযোগ বাড়াতে পারি কীভাবে?


 মনোযোগ বাড়াতে পারি কীভাবে?

মনে রাখতে পারি না, বা আমরা সবকিছু ভুলে যাচ্ছি এ জাতীয় কথা আমরা প্রায়শই শুনে থাকি, বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের অভিযোগ থাকে যে তাদের পারফর্মেন্স আগের মতো নেই বা তারা আগের মত পড়াশুনা মনে রাখতে পারছে না। আমরা কি জানি, কেন এমন হয়? আসলে মনে রাখার বা মেমোরির ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় কাজ করে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে Concentration বা Attention। আমরা জানি, বিভিন্ন রোগের কারণে যেমন Depression, Anxiety Disorder-এর ক্ষেত্রে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, এবং ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। আবার দেখা যায় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যদি Attention Deficit Hyper Activity Disorder থাকে, তাহলে তাদের Attention টা কম থাকে, অস্থিরতা টা বেশি থাকে। সাধারণত কোন কিছু মনে রাখার ক্ষেত্রে আমরা যা করি, টা হলো কোন নির্দিষ্ট জিনিস আমাদের মেমোরিতে Store করে রাখি। একে বলা হয় Encoding, এটি আমরা যত ভালোভাবে করতে পারবো, মেমোরিতে ঐ Information টা তত ভালো ভাবে সংরক্ষিত থাকবে। এই Encoding-এর ক্ষেত্রে আমরা Normal Rehearsal করতে পারি, একই পড়া বার বার পড়ার মাধ্যমে। আরেকটি জিনিস করতে পারি, যা হলো Elaborative Rehearsal, যেখানে কোনো কিছু বুঝে বার বার পড়া যেতে পারে। এভাবে আমরা কোন Information মেমোরিতে জমা রাখতে পারি। এছাড়াও, আমরা কোন সাংকেতিক চিহ্ন এর মাধ্যমে বা কোন সুর বা Rhythm-এর মাধ্যমে কোন কিছু মনে রাখতে পারি। কোন Clue বা ছড়ার সাহায্যে ও আমরা ইনফরমেশন মনে রাখতে পারি। এভাবে মেমোরিগুলো Recall করা সহজ হবে। সবশেষে, মেমোরি বৃদ্ধি করতে আমরা Elaborative Rehearsal অর্থাৎ একই কথা বার বার বলার মাধ্যমে তা মনে রাখতে পারি।

সম্পর্কে প্রশংসার গুরুত্ব! প্রশংসা শব্দটা শুনতে সাধারণ লাগলেও, বাস্তবে এটি অত্যন্ত অর্থবহ। আমাদের আশেপাশের সম্পর্কগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়ার জন্য প্রশংসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি হতে পারে স্বামী বা স্ত্রীর তার পার্টনারের Efforts গুলোকে Appreciate করা এবং প্রশংসা করা। এখন মনে হতেই পারে, একজন মানুষ সাধারণভাবে তার দায়িত্ব পালন করছে, এখানে প্রশংসা করার কিছু নেই। কিন্তু, একই কাজ বার বার করতে থাকা সেই মানুষটা যখন তার কাজের জন্য কাছের মানুষের কাছ থেকে উৎসাহ পায়, তখন তার কাছে জিনিসটা আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, সে কাজের প্রতি আরও যত্নশীল হয়, কাজটা খুশি মনে করে। ব্যাপারটা এমন নয় যে Appreciate না করলে মানুষটা কাজ করবেন না, তবে উৎসাহ পেলে তিনি হয়ত আরও সুন্দর করে, মন থেকে কাজ করবেন। উৎসাহ দেয়ার বা প্রশংসার Practice আমাদের মধ্যে খুবই কম দেখা যায়। কেউ আমাদের প্রশংসা করলেও দেখা যায় পালটা প্রশংসা করার আগে আমরা জড়তায় ভুগি। আমাদের Appreciation এর গুরুত্বটা সঠিক ভাবে উপলব্ধি করা উচিত। মনে রাখতে হবে, আমাদের ছোট্ট একটা উৎসাহ মূলক কথা হয়ত অপরজনের জন্য অনেক মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে।

দুশ্চিন্তার বিরূপ প্রভাব! Generalized Anxiety আসলে কী? এটা নিয়ে আমাদের অনেকেরই ঝাপসা ধারণা রয়েছে। এটি মূলত একটি Mental Disorder, যা সাধারণ দুশ্চিন্তা থেকে ট্রিগার হতে পারে। সহজ করে বলতে গেলে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত বা সময় আসে যখন আমরা কোন জরুরি কাজ করার আগে তা নিয়ে Nervous হয়ে যাই, দুশ্চিন্তা করতে থাকি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই দুশ্চিন্তা আমাদের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবার সাথে সাথেই চলে যায়। তবে Overall 3% মানুষ আছেন যাদের এই চিন্তাটা দূর হয়ে যায় না। কাজ শেষ হয়ে যাবার পরও, তাদের ঐ Stress টা থেকেই যায়। এবং ধীরে ধীরে তা ভয়ে রূপান্তরিত হতে থাকে। এবং যতই সময় গড়াবে, ততই এই ভয়টা বাড়বে। এই পর্যায়ে, দুশ্চিন্তা এতই মারাত্মক হয়ে যায়, যে শারীরিক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। যেমন, প্রচণ্ড পরিমাণে বুক ধড়ফড় করা, বুকে ব্যথা হওয়া, এবং কারো কারো ক্ষেত্রে নিশ্বাস এ সমস্যা বা ঘুমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাতে বলা যেতে পারে যে ব্যক্তি Generalized Anxiety-এর দিকে যাচ্ছেন এবং তার মধ্যে বিভিন্ন যুক্তিহীন, অপ্রয়োজনীয় চিন্তা ভর করতে থাকবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা যা দেখা দেয়, তা হল, যেকোনো ঘটনা, Stressful হোক বা না হোক, ব্যক্তি তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে থাকে এবং এর পরের গল্প নিজে নিজেই সাজাতে থাকে। এর কারণে বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় মানুষটি সবসময় তার কল্পনাতেই থাকছেন, বাস্তব জীবনের কোন কাজেই হয়ত মনোযোগ দিতে পারছেন না। Generalized Anxiety Disorder পুরোপুরিভাবে ভালো করা সম্ভব, যদি আমরা সাইকো থেরাপি এবং কোন ওষুধের প্রয়োজন হলে তা সঠিকভাবে Maintain করে চলতে পারি। এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই অভিজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...