Skip to main content

আত্মহত্যার সতর্ক সংকেত

 


আত্মহত্যার সতর্ক সংকেত

Warning Sign of Suicide and Suicide of Obontika মো: আকবর হোসেন, মনোবিজ্ঞানী আরেকটি আত্মহত্যা, আরেকজন জন্মদাত্রী জননীর গগনবিদারী আত্ম চিতকার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী অবন্তুিকার আত্মহত্যা। সরাসরি দায়ী করে গেলেন সহপাঠী এবং এক প্রক্টরকে। সহপাঠী যৌন হয়রানি করলেন এবং অবন্তিকা বিচার দিলেন প্রক্টর কে। প্রক্টর বিচার করলেন না বা বিলম্ব হলো তাই আত্মহত্যা!! কিন্তু এই কারণটাই কি আত্মহত্যার কারণ হওয়া উচিত?? নানা রকম উত্তর হতে পারে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে কয়েকশ বা হাজার শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পায়৷ তারমানে এরা সবাই বুদ্ধিমান/বুদ্ধিমতি। কিন্তু জীবনে খারাপ সময়ে টিকে থাকার জন্য একজন মানুষ আবেগীয় ভাবে বুদ্ধিমান ( Emotional Intelligence) না হলে চরম মুহূর্তে সবচেয়ে খারাপ বা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। প্রশ্ন হলো, কেউ কি হঠাৎ করেই আত্মহত্যা করে? না এর আগে কিছু সতর্ক সংকেত দেয়? উত্তর হলো, বেশিরভাগ সময়ই ব্যক্তির আচরণে/ব্যবহারে বেশ কিছু লক্ষণ বা সতর্ক সংকেত প্রকাশিত হয় যেটা বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জন হিসেবে আমরা গুরুত্ব দিয়ে খেয়াল করলে বুঝতে পারি এবং ঐ ব্যক্তিকে রক্ষা করতে পারি। আসুন সে সতর্ক সংকেত গুলো জেনে নেই। আত্মহত্যার সতর্কসংকেত ( Warning Sign of Suicide): ১। প্রিয়জন, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধবের কাছে বা সোস্যাল মিডিয়া নিজেকে আঘাত বা মেরে ফেলার হুমকি দেয়া। "মরে যাব, সবাইকে ছেড়ে অজানা অনেক দূরে চলে যাবো" এমনটি বলতে শুরু করে। ২। আত্মহত্যা করার সরঞ্জামাদি যেমন বন্দুক, চাকু, ব্লেড, ঘুমের ঔষধ, দড়ি, কীটনাশক ইত্যাদি যোগাড় করতে থাকে। ৩। সবার কাছ থেকে কথা প্রসঙ্গে বিদায় চায়, ক্ষমা চায়৷ " আর দেখা না ও হতে পারে, আমাকে মাফ করে দিবেন/দিও"। এরকম বলতে পারে। ৪। হঠাৎ আচরনের সাংঘাতিক এবং ভয়ংকর পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেসব কাজ করে আগে আনন্দ পেত, আগ্রহ নিয়ে করতো সেসব কাজের প্রতি উদাসীন হয়ে যেতে পারে। ৫। দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় যেমন খাওয়া-দাওয়া, ঘুমের সময়, পোষাক আশাক নিয়ে অসচেতন হয়ে উঠে। ৬। বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের লোকজন থেকে নিজেকে আড়াল বা আলাদা করে নেয়। একাকিত্ব ব্যক্তিকে পেয়ে বসে। ৭। নিজেকে অসফল,অযোগ্য, অবহেলিত মনে করে। নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা, বিরক্ত বেড়ে যায়। ৮। নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্র, জামা কাপড় টাকা পয়সা দান করতে শুরু করে। ৯। "আমার দ্বারা আর সম্ভব হচ্ছে না, আমি আর সহ্য করতে পারছি না, আমি আর ধৈর্য ধরতে পারছি না, আমি আর পেরে উঠতে পারছি না" এমন করে কথা বলতে পারে। ১০। সম্পর্কের জটিলতা বা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সেটা নিয়ে সারাক্ষণ মন যন্ত্রণায় চটপট করতে পারে। ১১। টেলিভিশনে বা বিভিন্ন মিডিয়ায় আত্মহত্যার সংবাদ গুলোর প্রতি খুবই আগ্রহ প্রকাশ করা। ১২। আত্মহত্যার চিঠি (Suicide note) লিখা। ১৩। হঠাৎ করে মাদকের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়া। ১৪। ফেইসবুক বা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় হতাশাজনক, অসহায়ত্বমূলক, বিষন্নতামূলক লিখা, ছবি ইত্যাদি পোস্ট করা। আমাদের বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের কারো মধ্যে উপরোক্ত সতর্ক সংকেত গুলো লক্ষ্য করা গেলে সেটা খুবই গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। দূর্ঘটনা ঘটে গেলে তখন আপসোস করে একটি জীবন আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে যেভাবে সহযোগিতা করবোঃ যদি কারো মধ্যে উপরোক্ত সতর্ক সংকেত গুলো দেখা যায় তাহলে নিন্মোক্ত তিনভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতে পারেনঃ ১। আপনি তার প্রতি যত্নশীল সেটা প্রকাশ করুন (Show you care)ঃ আত্মহত্যা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করুন। আপনার যদি মনে হয় ব্যক্তিটি নিজের জীবন শেষ করে দিতে পারে, তাহলো সেটা বিশ্বাস করুন। Trust your judgement. মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনুন। তর্ক না করে আপনি যা শুনছেন, বুঝছেন সেটা তাকে বুঝতে দিন। অন্তত একজন মানুষ এই মুহূর্তে তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সেটা তাকে বুঝান। সত্যিকার ভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে আপনি তাকে সত্যিই কেয়ার করছেন। যে কোন প্রয়োজনে আপনি তার পাশে আছেন, সেটা তাকে নিশ্চিত করুন। আপনার অনুভূতিগুলো তাকে বলুন। তার অনুভূতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। ২। আত্মহত্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন (Ask about Suicide): সরাসরি আত্মহত্যা বিষয়টা উপস্থাপন করতে দ্বিধা করবেন না। আত্মহত্যা সম্পর্কে তার চিন্তা ভাবনা, তার পরিকল্পনা জিজ্ঞেস করুন। কতদিন ধরে এসব চিন্তা করতেছে, কি কি পরিকল্পনা করেছে সেটা জানার চেষ্টা করুন। তার কাছে আত্মহত্যা করার সরঞ্জামাদি আছে কিনা জানার চেষ্টা করুন। সেকি আসলেই নিজের জীবন শেষ করতে চাচ্ছে নাকি কষ্ট লাঘব করতে চাচ্ছে, জিজ্ঞেস করুন। ৩। চিকিৎসা/সাপোর্ট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুনঃ ব্যক্তি কোন ধরনের চিকিৎসা নিচ্ছে কিনা, ঔষধ নিয়মিত নিচ্ছে কিনা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। যদি না নিয়ে থাকে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের/ মনোবিজ্ঞানীর কাছে নিয়ে যান। ব্যক্তিকে একা ছেড়ে যাবেন না। ২৪ ঘন্টা নজরদারি করার ব্যবস্থা করুন। কোথায় রেফার করা দরকার খোঁজ নিন। ব্যক্তিকে উতসাহ দিন সহযোগিতা নিতে। সবশেষে আমি যেটা বলবো সেটা হলো বন্ধু-বান্ধবসহ প্রতিটি সম্পর্কের প্রতি যতটা যত্নবান হওয়া যায় ততটাই হওয়া উচিৎ। বর্তমানে আমরা ভার্চুয়াল জগতেই বেশি বিরাজমান। বন্ধুর মা বাবার চেয়ে ও আমরা যারা ফেইসবুকে দূরে আছি, তারা এসব ঘটনা গুলো আগেই জানতে পারি। যেমন ইমাম হোসেনের বেলায় যা সে ফেইসবুকে শেয়ার করলো তা যদি গুরুত্ব দিয়ে তার বাবা মা কে জানিয়ে ২৪ ঘন্টা নজরদারি তে রাখা যেত, তাহলে হয়ত তাকে আত্মহত্যা থেকে নিবৃত্ত করা যেত। আমাদের কোন বন্ধু বান্ধব ফেইসবুকে হঠাৎ এরকম সতর্ক সংকেত মূলক পোস্ট দিলে সেখানে হা হা রিয়েক্ট না দিয়ে বিষয়টা কে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা দরকার। তাকে কল দিয়ে কথা বলা। তার পরিবারের কাছের কাউকে বিষয়টা জানিয়ে রাখা। সম্ভব হলে তাকে মনোবিজ্ঞানীর কাছে নিয়ে যাওয়া। বর্তমানে অনলাইনে মনোবৈজ্ঞানিক সাপোর্ট পাওয়া অনেক সহজ। Life is beautiful but not a bed of roses. অনেক ঘাত প্রতিঘাত প্রতিটি জীবনেই আছে। খারাপ সময় শেষ হয়ে ভাল সময় আসবেই। নিজেকে ভালবাসুন। ভালবাসুন নিজের অমূল্য জীবন কে। আর যত্ন করুন প্রতিটি সম্পর্ককে। সবাই কে ধন্যবাদ। মো: আকবর হোসেন মনোবিজ্ঞানী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...