■■ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনসচেতনা মূলক একটি সতর্কতামূলক পোস্ট! সবার জন্য জরুরী। জেনে নিনঃ গ্যাস সিলিন্ডার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়!! ●● ০১]] গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এড়াতে করণীয়ঃ ■■ এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস লিক হতে পারে বিভিন্ন কারণে। হোস পাইপ, রেগুলেটর, গ্যাস ভাল্ব ইত্যাদি থেকে হতে পারে লিক। গ্যাস লিক হলেই কিন্তু বিপত্তি। এ গ্যাস নিশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ■■ ফুসফুসে প্রবেশ করার পর তা অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড এক্সচেঞ্জে (অদলবদলে) বাঁধা দেয়। এতে দম বন্ধ হওয়ার সমস্যা হতে পারে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। অক্সিজেনের ঘাটতিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্ক। মাথা ঝিমঝিম করে, মাথা খালি খালি লাগে, অজ্ঞান হওয়ার সমস্যা হয়। ■■ যেহেতু সিলিন্ডারের গ্যাস খুব বেশি চাপে তরল করে প্রবেশ করানো হয়, তাই এটির বিস্ফোরণও খুব মারাত্মক হয়। এর বিস্ফোরণ হলে শক ওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে। এ শক ওয়েভ শরীরের যে অংশে লাগে, সে অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। ফুসফুসে রক্ত জমা হতে পারে; সম্পূর্ণ ফুসফুস ছিন্নভিন্ন হতে পারে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। ■■ আর এত বেশি শক্তি উৎপন্ন হয় যে, ওই সময় আশপাশে থাকা লোকদের কে হাওয়ায় ভাসিয়ে অনেকদূরে ছিটকে ফেলতে পারে। এতে ভেঙে যেতে পারে হাড়। মাথায়ও আঘাত লাগতে পারে। ■■ সিলিন্ডারের গ্যাস খুব বাজে গন্ধযুক্ত। লিক হলে খুব উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাই এমন উৎকট গন্ধ পেলে আগুন তো জ্বালাবেন না, উল্টো বাসার বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দিন। প্রয়োজনে মেইন সুইচ বন্ধ করুন। দেশলাই, মোমবাতি বা আগুনের অন্য কিছু জ্বালানো যাবে না কোনোভাবেই। ঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বাতাস যাতায়াতের ব্যবস্থা করুন। সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন। সেফটি ক্যাপ লাগান। ■■ যদি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, তাহলে আক্রান্তদের খোলা জায়গায় নিতে হবে, যেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে। আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। কারণ, অক্সিজেন দেওয়ার দরকার হতে পারে। ■■ সিলিন্ডারের গ্যাস যদি শরীরের কোথাও লাগে, ২০ মিনিট ধরে পানি দিয়ে দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। কাপড়ে লাগলে কাপড়গুলো খুলে ফেলুন। ■■ যদি চোখে লাগে, তাহলে পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। শরীরে আগুন লাগলে দ্রুত কাপড় খুলে ফেলুন। মাটিতে গড়াগড়ি দিন। পুড়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিন। যদি শরীরে ফোস্কা পড়ে, তা তুলে ফেলবেন না। হাসপাতালে নিয়ে যান দ্রুত। ■■ সিলিন্ডারের গ্যাস লিক থেকেই কিন্তু মূল সমস্যা। তাই সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। এটা করার জন্য পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। এবার ফেনা হস পাইপ, রেগুলেটর, ভাল্ব ইত্যাদিতে লাগান। যদি দেখেন সাবান-পানির ফোঁটা বড় হচ্ছে, তাহলে বুঝবেন লিক হচ্ছে গ্যাস। তা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। ■■ সিলিন্ডার উচ্চ চাপ ও তাপের এলাকায় রাখবেন না। রান্না তুলে দিয়ে অন্য কাজে যাবেন না। এতে খাবারে আগুন ধরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে পারে। ■■ রান্না করার সময় কাপড় নিয়ে সাবধান হন। কারণ, কাপড়ে আগুন লেগে পুড়ে যেতে পারে। তাই সাবধান এবং সতর্ক থাকুন!! ●● ০২]] ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে জেনে নিন, গ্যাস-সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখঃ ■■ গ্যাস-সিলিন্ডার – এলপিজি বা সিলিন্ডারের গ্যাস আমাদের অনেকের বাড়িতেই ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। প্রতিদিনের জীবনে অনেকের জন্যই এটি অতি দরকারি। কিন্তু অসতর্কতা এবং অসাবধানতার কারণে মাঝেমধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি প্রাণহানিও। ■■ মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস-সিলিন্ডার- অর্থাৎ C23 (2023 ইং) যদি C18 থাকে তার মানে হল 2018 সালের জুলাই, আগস্ট, অথবা সেপ্টেম্বর মাসেই আপনার সিলিন্ডারের মেয়াদ বা (expire date) হবে। ■■ রান্না-বান্নার সুবিধার্থে এখন আমরা প্রায় সবাই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা কি জানি, অন্য সব জিনিসের মত সিলিন্ডারেরও মেয়াদ শেষ বা expire date থাকে, যা আমরা অনেকেই জানি না। মেয়াদ শেষ হওয়া কোন সিলিন্ডারকে ঘরে রাখা মানে, টাইম বোমা রাখার সমান। ■■ ব্যাপার হলো, আমরা চিনব কিভাবে যে সিলিন্ডার মেয়াদ উত্তীর্ণ। ■■ সিলিন্ডারের গায়ে মার্ক করা কালো রংগের লেখাটাই হল এক্সপায়ারিং ডেট। এখানে A, B, C, D সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়! অর্থাৎঃ ■▪A = বছরের প্রথম তিন মাস! যথাঃ জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ। ■▪B = তার পরের তিন মাস! যথাঃ এপ্রিল, মে এবং জুন। ■▪C =তার পরের তিন মাস! যথাঃ জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর। ■▪D = তার পরের তিন মাস! যথাঃ অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর। ■▪আর সবার শেষে থাকে, বছরের শেষ দুই ডিজিট! ■■ অর্থাৎ C23 (2023 ইং) যদি C23 থাকে তারমানে হল 2023 সালের জুলাই, আগস্ট, অথবা সেপ্টেম্বর মাসেই আপনার সিলিন্ডারের মেয়াদ বা (expire date) হবে। ■■ অর্থাৎ C18 (2018 ইং) যদি C18 থাকে তারমানে হল 2018 সালের জুলাই, আগস্ট, অথবা সেপ্টেম্বর মাসেই আপনার সিলিন্ডারের মেয়াদ বা (expire date) হবে। ●● সুতরাং আসুন! আমরা সকলেই সাবধান ও সতর্ক হই এবং সাবধান ও সতর্কতার সাথে এবং দেখেশুনে সব কাজ করার চেষ্টা করি। নিজে সুরক্ষিত থাকি এবং অন্যান্য সবাইকেও সুরক্ষিত রাখি!! ●● ০৩]] গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যে ১০(দশ)টি ভুল কখনোই করা যাবে না! সাবধান এবং সতর্ক হোন এবং দুর্ঘটনা হতে বাঁচুন।। ■■ অতি সাধারণ কিছু নিয়ম, যা জানা না থাকলে বড় ধরণের একটা বিপদে পড়তে পারেন আপনি অথবা আপনার প্রিয়জন! তাই বিষয়গুলো জেনে নিন এবং সাবধান ও সতর্ক থাকুন। বিষয়গুলো হলোঃ ■▪০১) গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রাবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘আইএসআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন, গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সে ক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হবে। ■▪০২) রেগুলেটেরর নজলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভাল করে কভার করা থাকে, তা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনও ভাবে লেগে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন। ■▪০৩)গ্যাস সিলিন্ডার পাইপটি নিয়মিত ভিজে কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন, কিন্তু ভুলেও সাবান জল ব্যবহার করবেন না। ২ বছর অন্তর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন। ■▪০৪) পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোনও রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে পাইপ ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না। ■▪০৫) গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে জানলা, দরজা খুলে দিন। ■▪০৬) গ্যাস লিক করার পরে যদি কিছু ক্ষণের মধ্যে গন্ধ বন্ধ না হয়, তাহলে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস বা হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন (১৯০৬)। সিলিন্ডার থেকে রেগুলেটর আলাদা করে দিয়ে সিলিন্ডারের মুখে সেফটি ক্যাপও পরিয়ে দিতে পারেন। ■▪০৭) খালি সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের রেগুলেটর খোলার সময় আশেপাশে কোনও মোমবাতি, প্রদীপ জাতীয় জিনিস যাতে না জ্বলে, তা খেয়াল রাখুন। ■▪০৮) একটি ঘরে দু’টি সিলিন্ডার রাখার জন্য অন্তত ১০ বর্গফুট জায়গা থাকা জরুরি। এমন জায়গায় সিলিন্ডার রাখবেন না যেখানে সহজেই তা অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ■▪০৯) সিলিন্ডারের উপররে কখনওই কোনও কাপড়, বাসন ইত্যাদি রাখবেন না। ■▪১০) গ্যাসের ওভেনটি সব সময়ে সিলিন্ডারের অন্তত ছয় ইঞ্চি উপরে রাখুন। ওভেনের উপর যাতে সরাসরি হাওয়া না লাগে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ●●▪বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম জানুন এবং সাবধান, সতর্ক ও নিরাপদ থাকুন!! ●● ০৪]] গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে করণীয়ঃ বাংলাদেশের অল্প কিছু এলাকাতেই লাইনের গ্যাস রয়েছে। বাকী সব এলাকার মানুষই এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন রান্নার কাজে। এটি এখন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু একটু অসাবধানতার কারনেই ঘটতে পারে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণের ফলে মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, হতে পারে প্রাণহানি। তাই আমাদের সব সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ■■ কীভাবে আগুন নেভাবেনঃ যদি সিলিন্ডারে আগুন লাগে, আতঙ্কিত না হয়ে বরং নেভানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। প্রথমে দ্রুত একটি সুতি কাপড় (লুঙ্গি জাতীয় কাপড়) দিয়ে পুরো সিলিন্ডারটি ঢেকে দিতে হবে! আগুন হাতে কিংবা শরীরে লাগবে না। তারপর দ্রুত রেগুলেটর ঘুরিয়ে সিলিন্ডারটি বন্ধ করে ফেলুন। দেখবেন আগুন নিভে যাবে। ■■ সাবধানতা অবলম্বনঃ সিলিন্ডারের গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে মারাত্বক দূর্ঘটনা হতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না। এই পরীক্ষা করার জন্য পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। এই ফেনা রেগুলেটর, হোস পাইপ, ভাল্ব ইত্যাদিতে লাগান। যদি কোন স্থানে সাবান পানির ফোঁটা বড় হতে দেখা যায় তাহলে বুঝবেন ঐ স্থান লিক হয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে তখন। সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ রোধে আপনাকে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। কখনো গ্যাসের চুলায় রান্না তুলে দিয়ে অন্যত্র যাবেন না। খাবারে আগুন ধরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। রান্নার সময় আপনার পড়নের কাপড়ের দিকেও সাবধান দৃষ্টি রাখতে হবে!! ■▪︎ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে সকল প্রকার আপদ-বিপদ এবং দুর্ঘটনা হতে হিফাযত করুন এবং সতর্কতার সাথে চলার তাওফীক দান করুন(আ-মীন)।

Comments
Post a Comment