মানুষের ভিড়ে অস্বস্তি লাগা! ধরা যাক, এমন একটি Scenario যেখানে আপনাকে একটি Public Speech দিতে হবে বা ক্লাসে সবার সামনে কোন Presentation দিতে হবে। আপনি যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়ার পরেও, স্পিচটা দেয়ার আগে আপনার হাত-পা কাঁপতে শুরু করলো, অসম্ভব বুক ধড়ফড় করতে লাগলো, শরীর ঘামাতে লাগলো। যখন আপনি স্পিচ দিতে সামনে এগিয়ে গেলেন, তখন আপনার মনে হতে লাগলো, এই বুঝি মানুষ আপনাকে নিয়ে কোন বাজে কথা বলছে বা আপনার কোন খুঁত দেখে ফেলছে। আপনি কিছু বললেই তা নিয়ে সবাই হাসাহাসি করবে। উপরের এই দৃশ্যটি একটি Social Anxiety-তে ভুগতে থাকা মানুষের জন্য অত্যন্ত কমন একটি ঘটনা। তাদের জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই তারা এর কারণে বাধাগ্রস্ত হন। সারাক্ষণ তাদের মনে মানুষের Negative Evaluation-এর ভয় কাজ করে, যার ফলে তারা জানা কাজেও অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে।
ট্রমা থেকে মানসিক বিপর্যস্ততা!
Trauma এমন একটি জিনিস, যা আমাদের পরবর্তী জীবনকে ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করে থাকে। আমরা হয়ত কখনও ভেবে দেখি না, যে আমাদের প্রতিদিনকার Trauma গুলো আমাদের একটু একটু করে কীভাবে পরিবর্তন করে দিচ্ছে।
দৈনন্দিন জীবনে আমাদের বিভিন্ন রকমের Trauma-র সম্মুখীন হতে হয়। ট্রমা আসতে পারে কোন ধরনের Accident থেকে, মা-বাবা কারোর বিয়োগ থেকে, বিবাহ বিচ্ছেদ থেকে, অথবা কোন ধরনের বাজে অভিজ্ঞতা থেকে। এছাড়াও, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্রমা Add হয়, যেমন: Parental Abuse, পারিবারিক ঝগড়া বিবাদ, Bullying, Sexual Abuse ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের পরিবার, সমাজ বুঝে উঠতে পারে না, এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে। Trauma থেকে আমাদের Post Traumatic Disorder, স্ট্রেস, Anxiety সহ আরও অনেক ধরনের রোগের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়। এ সকল বিষয়ে আমাদের সমাজ ও পরিবারে সচেতনতা অনেক জরুরি।
সন্তানকে আদর থেকে বঞ্চিত করছেন নাতো?
একটি পরিবারে মূল শিকড় হচ্ছে Care এবং ভালোবাসা। মা বাবার কাছ থেকে ভালোবাসা, আদর পাওয়া প্রতিটি সন্তানেরই অধিকার।
কিন্তু আমরা অনেক সময়েই আমাদের আশেপাশে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখতে পাই। অনেক সন্তানের জীবনে বাবা মায়ের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য ভালোবাসা পায় না, যত্ন পায় না। যার ফলে তারা তাদের জীবনের বেশির ভাগ সময়েই হীনমন্যতায় ভুগে। একটা নির্দিষ্ট সময়কাল পরে তারা হয়ত নিজেই নিজের কাজ করতে শিখে যায়, নিজের খেয়াল রাখতে শিখে যায়। কিন্তু এর বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই ব্যক্তির পরবর্তীতে জীবনে। সে যখন প্যারেন্ট হয়, তখন দেখা যায় সেও তার সন্তানদের ভালোবাসতে পারছে না, তাদের কেয়ার করতে পারছে না। সে নিজে একসময় যেই অবহেলা টা তার বাবা মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিল, সেটি সে তার বর্তমান পরিবারের উপর বিস্তার করছে। এবং এটি একটি Legacy-এর মত চলতেই থাকে।
সমাজের এই প্রথা ভেঙ্গে, নিজেদের মনের সেই অবহেলাকে ভুলে গিয়ে আমাদের এমন একটি সমাজ তৈরি করতে হবে যেখানে আদর-ভালোবাসা থাকবে, স্নেহ, মায়া মমতা থাকবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারি, যেখানে আমাদের সন্তানেরা খারাপ আচরণ বা Negative Parenting দ্বারা Traumatized হবে না।
Somatic Symptom Disorder কি!
আমাদের মাঝে কিছু কিছু মানুষ দেখা যায়, যারা প্রায় সময়েই তাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার Complain করে থাকেন। হয়ত তাদের পিঠে ব্যথা, মাথাব্যথা বা প্রচণ্ড পেটে ব্যথা। কিন্তু অনেক ধরনের ডাক্তার দেখানোর এবং টেস্ট করানোর পরেও তাদের কোন সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। এর কারণ হচ্ছে তাদের এই শারীরিক সমস্যাগুলো একটি সাইকোলজিক্যাল Disorder-এর ফলে দেখা দেয়, যা Somatic Symptom Disorder হিসেবে পরিচিত।
এই ধরনের রোগীরা তাদের যেকোনো সাধারণ শারীরিক সমস্যা কে অনেক বেশি Overthinking করে ফেলেন, যার কারণে তাদের মনে হতে থাকে তারা বড় কোন অসুখে পড়ে গেছেন। হয়ত তেমন কিছুই হয়নি, কিন্তু তারা মনে মনে ধরেই নেন যে তারা অনেক বেশি অসুস্থ। এই রোগটি অনেক সময় জেনেটিক্যালি একজনের মধ্যে আসতে পারে, এছাড়াও যাদের দীর্ঘদিন Anxiety-এর সমস্যা থাকে, তাদের মধ্যেও Somatic Symptom Disorder হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

Comments
Post a Comment