কর্মক্ষেত্র এবং মানসিক স্বাস্থ্য! সামগ্রিক উন্নয়ন, জীবিকা নির্বাহের জন্যই আমরা প্রায় সবাই কোন না কোন পেশায় কোথাও না কোথাও Professional Work-এর সাথে যুক্ত আছি। আমাদের Profession আমাদের Passion হোক বা না হোক, আমরা কিন্তু সবসময়েই আমাদের কাজে Full Potential দিতে চাই, আমাদের Full Productivity-টা দেখাতে চাই। আমরা সবাই কম বেশি সপ্তাহে ৫-৬ দিন এবং প্রতিদিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় আমাদের Workplace-এ দিচ্ছি। Workpalce-এর একটি অনেক বড় প্রভাব কিন্তু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর আছে। যখন আমরা Mentally Healthy, তখন আমাদের কাজের উপর যেমন একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, তেমনি আমরা যখন Mentally Disturbed বা Stressed তখন এর একটি বড় প্রভাব আমাদের Working Ability-র উপর পড়ে এবং আমাদের Workplace-এর উপরেও পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের এই Unhealthy Mental State দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা আমাদের কোন বড় ধরনের মানসিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই, কোন ধরনের Mental Distress থেকে থাকলে অবশ্যই তা Ignore না করে অবস্থা বুঝে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বা অভিজ্ঞ কারো শরণাপন্ন হতে হবে।
মানসিক রোগের লক্ষণ!
আমাদের বর্তমান সমাজে মানসিক সমস্যার ব্যাপারে এখনো অনেক Stigma বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে কিছু মানুষ মানসিক সমস্যা বা তার লক্ষণগুলো নিয়ে সচেতন না। তারা সহজে বুঝে উঠতে পারেন না, কখন তাদের Mental Health Professional-দের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।এই ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ খেয়াল করলেই আমাদের আশেপাশের কেউ মানসিক রোগে ভুগছে কি না তা Identify করা সম্ভব। মানসিক সমস্যায় বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন তাদের জীবনটা অর্থহীন, ব্যর্থ, আমার জীবনের কোন লক্ষ্য নেই, সুতরাং, নিজের জীবনকে শেষ করে দিলেই সব সমাধান হয়ে যাবে। অর্থাৎ, তাদের মধ্যে আত্মহত্যার ও নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা থাকবে। তাদের Performance-এ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যেমন - কর্মজীবী হলে অফিসের কাজে মনোযোগ কমতে থাকবে, Student হলে পড়াশুনায় অবনতি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও তার টানা মন খারাপ থাকতে পারে, নিজের আগ্রহের কাজগুলোর প্রতি আর Interest বোধ করবে না, ঘুমে সমস্যা হওয়া, নিজের যত্ন নিতে ভুলে যাওয়া ইত্যাদি।
এই সকল বিষয় ছাড়াও, কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে, তাদের আশেপাশের মানুষদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। এই জাতীয় লক্ষণগুলো যদি কারো মধ্যে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে একজন অভিজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।
একাকিত্ব কাটিয়ে উঠবেন কীভাবে?
অনেক মানুষের ভিড়ে থাকার পরেও আমাদের মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি ভীষণ একা। আমাদের আশেপাশে পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবাই আছে, কিন্তু তবুও আমরা Lonely ফিল করি। এই Loneliness-এর সর্বপ্রথম প্রভাব পড়ে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। কারণ, মানুষ সামাজিক জীব বা Social Beings, যেখানে আমরা কখনই একা থাকতে পারি না।
আমাদের এই একাকিত্ব মূলত আসে আমাদের মন থেকে, "It is a state of mind", যেখানে আমাদের মন একা বোধ করে। এটি হতে পারে অতিরিক্ত Workload-এর কারণে, যখন আমরা অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকি, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই Social Gatherings গুলো Avoid করে একা থাকতে চাই। এছাড়াও, অনেকের মধ্যে Negative Evaluation-এর ভয়, Judgement-এর ভয় কাজ করে, যার ফলে সে কারো সাথে মিশতে যাওয়ার বদলে একাই থাকতে চায়।
কিন্তু, এই একাকিত্বকে আমাদের সঙ্গী হতে দেয়া যাবে না। আমাদেরকে অন্যের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা যেমন অন্যের মতো হতে পারবো না, তেমনি অন্য কেউ ও আমাদের মতো হতে পারবে না। সবাই যার যার মতো Unique, এবং এই ব্যাপারটি মেনে নিয়েই আমাদের জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।
Social Media Addiction!
Social Media Addiction আমাদের বর্তমান সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা, যা Teenager-দের মধ্যে বেশি লক্ষণীয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই Addiction এতই বেড়ে যায়, যে তখন মানুষ নিজেদেরকে Isolate করে ফেলে, এবং অনেক সময়েই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অনেকেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে তাই বিশ্বাস করে বসে। ফলে দেখা যায় তাদের জীবন সম্পর্কে অনেক Unrealistic Expectation তৈরি হয়, মা-বাবার কাছ থেকে এমন কিছু চেয়ে বসে যা তাদের সাধ্যেরও বাইরে। এর ফলস্বরূপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মনোমালিন্য অনেক বেড়ে যায়।
টিনেজারদের মধ্যে এই সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ঘুমের সমস্যা, পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়া, সম্পর্ক নষ্টের প্রবণতাও বেড়ে যায়।
প্যানিক ডিসঅর্ডার কি?
প্যানিক ডিসঅর্ডার একটি Anxiety অথবা উদ্বেগ জনিত মানসিক সমস্যা, যা সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের আগে প্যানিক অ্যাটাক সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
যখন কোনো ব্যক্তির প্যানিক অ্যাটাক হয়, তখন তিনি হঠাৎ করেই মাত্রাতিরিক্ত ভয় পেয়ে যান অথবা তিনি অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন। এরকম অবস্থায় তার মধ্যে কিছু শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয় যেমন: হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দম বন্ধ হয়ে আসা অথবা শরীর কাঁপতে থাকা ইত্যাদি।
অনেক সময় মানুষ তার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ভয় পায়, বা মনে করে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এমনকি অনেক সময় মানুষ মারা যাওয়ার ভয়ও পেয়ে থাকেন। এসব কারণে দেখা যায় তারা অনেক বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং এই উত্তেজনা কয়েক মিনিটের মধ্যে চরম অবস্থায় পৌঁছে যায়। এই অবস্থা ১০ মিনিটের মত স্থায়ী হতে পারে, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

Comments
Post a Comment