Skip to main content

বাচ্চার বদমেজাজ!

 


বাচ্চার বদমেজাজ!

বর্তমানের সময়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে ধারণা রাখা প্রয়োজন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাচ্চাদের Temper Tantrum। Tantrum আসলে কী? সাধারণত বাচ্চাদের মধ্যে একটা প্রবণতা থাকে, যেখানে তাদের মা-বাবা যদি তাদের মন মতো কোন কিছু দিতে না চায়, তখন তা পেতে তারা Tantrum বা বদমেজাজি Behave করা শুরু করে। পরে অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মা সন্তানদের আবদার পূরণ করতে বাধ্য হন। সাধারণত ২ থেকে ৪ বছরের এবং ৬ থেকে ৭ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে Tantrum প্রকাশের Ratio বেশি দেখা যায়। এটি ম্যানেজ করার উপায় হিসেবে কাজে আসতে পারে Temper Tantrum Subsiding পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আমরা কিছু Technique ব্যবহার করতে পারি, যেমন: বাচ্চাদের মধ্যে অনেক সময় দেখা যায় কোন কিছু মন মতো না পেলে চিৎকার করে মাটিতে শুয়ে পড়ছে, অথবা কান্না করছে বা রাগ দেখাচ্ছে। তখন মা-বাবার প্রথম করণীয় হচ্ছে এটিকে Ignore করা। কারণ তাদের এই ধরনের Activities-কে প্রাধান্য দেয়া হলে তাদের এই Tantrum কমে যাওয়ার বদলে উলটা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, তাদের সাথে এই সময়টায় কোন প্রকারের Physical Contract-এ যাওয়া যাবে না, কোন প্রকারের Attention দেয়া যাবে না। এতে করে বাচ্চারা বুঝতে পারবে, তাদের Way of Communication-টা ভুল ছিল। এতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে আপনি Leave The Station পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন, অর্থাৎ বাচ্চার সামনে থেকে কিছুক্ষণ এর জন্য সরে আসতে পারেন। এই পদ্ধতিগুলো কাজে লাগালেই অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চাদের Temper Tantrum নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


মা-বাবার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করবো কীভাবে? আমরা যখনই টিনএজারদের নিয়ে কথা বলি, তখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে টিনএজ ছেলে মেয়েদের তাদের বাবা মায়ের উপর রাগ-অভিমানের কথা শুনে থাকি। আর বেশির ভাগ সময়েই দেখা যায় যে, আমরা প্যারেন্টিং স্টাইল নিয়ে কথা বলছি, তাতে কি কি পরিবর্তন প্রয়োজন তা নিয়ে কথা বলছি, যা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, আমাদের বাবা মায়ের প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বলার পরেও কিছু কথা বা দায়িত্ব এখানে বিদ্যমান থাকে, যা সন্তানদের উপরও বিদ্যমান। কাজেই মা-বাবার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হলে আমরা কিছু কাজ করতে পারি যেমন, আমাদের মা-বাবা আমাদের প্যারেন্টস হওয়ার আগে আমাদের মতই মানুষ, তাদেরও নানা রকমের সমস্যার ভিতর দিয়ে যেতে হয়, বিভিন্ন মানসিক চাপ থাকে। সুতরাং, সর্বদাই তারা ঠান্ডা মাথায় সবকিছু Handle করতে পারবেন এমনটা আশা না করে আমরা তাদের প্রতি আরও Considerate হতে পারি, তাদের প্রতি নিজেদের Understanding বাড়াতে পারি। আরেকটি খুব Important পয়েন্ট হলো Assertive Communication Practice করা, এই ধাপটিতে ছেলে-মেয়েরা তাদের মা-বাবাদের সাথে বসে তাদের মনের কথা গুলো শেয়ার করতে পারে, যা পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রেই প্যারেন্টসদের তাদের সন্তানদের ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করতে পারে, এবং তাদের মধ্যে একটি Strong Bond তৈরি করতে পারে। সবশেষে, বাবা-মায়ের যেমন দায়িত্ব সন্তানদের মনের কথা বুঝে তাদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া, তেমনি সন্তানদেরও দায়িত্ব, মা-বাবাকে শুধু মা-বাবা মনে না করে তাদের একজন Individual Person হিসেবে দেখা। আর, যেহেতু তারাও আমাদের মতই মানুষ, তাই তাদেরও কিছু ভুল থাকতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে হতে পারে তারা কোন জিনিসকে নিজেদের মতো করে ভুল বুঝছেন। তাই, সন্তান হিসেবে আমাদেরও উচিত মা-বাবাদের বুঝার চেষ্টা করা, তাদের প্রতি আরও সহনশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া।

ভাই-বোনের মধ্যে দ্বন্দ্ব! Sibling Rivalry হচ্ছে ভাইবোনের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতামূলক আচরণ। এটি মূলত বেশি পরিলক্ষিত হয় বাচ্চাদের Early Adolescent থেকে Late Adolescent-এর সময়টাতে। এছাড়াও, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, অনেক সময় দেখা যায় যখন তার ছোট কোন ভাই বা বোনের জন্ম হয়, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের Sibling Rivalry তৈরি হয়। তাদের মাঝে Clinging Behavior বেড়ে যায়, অর্থাৎ, সারাক্ষণ কোলে কোলে থাকতে চায়, বাবা মা ছোট বাচ্চাকে মনোযোগ দিতে চাইলে তাতে তাদের মধ্যে রাগ বা ক্ষোভ দেখা দেয়। Sibling Rivalry-র বেশ কিছু কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে Children Temperament, যেখানে যাদের Difficult Child হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের মধ্যে Sibling Rivalry হওয়ার সম্ভবনা অধিক থাকে। এছাড়াও, মা-বাবার মধ্যে Marital Distress থেকে থাকলে, সেক্ষেত্রে তা তাদের সন্তানদের উপর বিভিন্ন রকমের বাজে প্রভাব বিস্তার করে। এ জাতীয় ফ্যামিলির ছেলে মেয়েদের মধ্যে Sibling Rivalry খুব কমন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে Sibling Bullying এবং বাচ্চাদের Life Stress ও এই ভাই-বোনের দ্বন্দ্বের কারণ হয়। অনেক বাবা-মা জানতে চান কীভাবে এই Sibling Rivalry ম্যানেজ করা সম্ভব, সেক্ষেত্রে যা করা যায় তা হল, বাচ্চাদের Schedule Rearrange করা যেতে পারে। একই কাজ দুইজন ভাই বোনকে একসাথে করতে না দিয়ে আলাদা ভাবে আলাদা সময়ে করতে দেয়া যেতে পারে। এছাড়াও, আমাদের অনেকের ছেলে মেয়েদের মধ্যে তুলনা করার অভ্যাস থাকে, যা Sibling Rivalry-তে ভূমিকা পালন করে। তাই, আমাদের তুলনা করা বন্ধ করতে হবে। আর সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রত্যেকটা সন্তানকেই Independent ভাবা। তাদেরকে তাদের মতো করে Space কিন্তু মাঝে মাঝে দেয়াই যায়। এই সকল ধাপ Follow করলে আশা করাই যায় Sibling Rivalry অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...