নিজের অজান্তেই পার্টনারকে অসম্মান! আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের পরিবার ও পার্টনারের সাথে। এই সম্পর্কগুলোকে Nurture করার দায়িত্ব আমাদেরই। তেমনি একটা সম্পর্কে একজন পার্টনারের অপর পার্টনারকে সম্মান দেওয়াটা অনেক জরুরি। সম্পর্কে প্রায়ই এমন দেখা যায় যে পার্টনার-রা একজন আরেকজনের কথা শুনতে বা মানতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক ক্ষেত্রেই, তাদের কিছু করতে বলা হলে দেখা যায় তারা কথাটা আমলে তো নিয়েই না, বরং অন্যের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত কথাগুলো শেয়ার করে তাদের কাছে নিজের সম্পর্ক আর পার্টনারকে ছোট করলেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে গিয়ে আপনি হয়ত আপনার পার্টনার এর কথাটা মেনে নিলেন, কিন্তু বিভিন্ন জনের কাছে তাকে অসম্মান করলেন। এখানে আপনাদের সম্পর্কটা ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে, তিক্ততা তৈরি করতে পারে যা পরবর্তী জীবনের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। আপনি যেমন আপনার অধিকার, আপনার সম্মান নিয়ে সোচ্চার, আপনার পার্টনার এর ক্ষেত্রেও তাই করতে হবে। সম্পর্কে পার্টনারকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে হবে। আপনি হয়ত সময়ে সময়ে দোষটা ভেবে নিচ্ছেন আপনার পার্টনার এর, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা কিছু হতে পারে। কাজেই সম্পর্কে এমন ছোট ছোট ভুল করছেন কিনা সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।
সন্দেহপ্রবণতা!
আমাদের সমাজে স্বামী বা স্ত্রী একজন আরেকজনকে সন্দেহ করছেন এমন বহু ঘটনা অহরহ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়ত কোন নির্দিষ্ট কারণে বা কার্যকলাপে হয়ে থাকে সেটি ভিন্ন কথা, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অকারণে সম্পর্কে সন্দেহের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা পরবর্তীতে তৈরি করে বড় কোন সমস্যা। সত্যটা যাচাই ছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে অকারণে বা অযৌক্তিক সন্দেহ করা একটি মানসিক রোগ, এই রোগটিকেই বলা হয় Othello Syndrome।
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর উপন্যাসের একটি বিখ্যাত চরিত্রের নাম Othello, যে কিনা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিজের স্ত্রী-এর প্রাণনাশ করে, যার থেকেই এই রোগটিকে Othello Syndrome নামকরণ করা হয়। Othello Syndrome কেন হয় তা এখনও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় যে, এটি অতিরিক্ত Dependency থেকে, Separation Anxiety অর্থাৎ সঙ্গীর চলে যাওয়া বা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার সমস্যা থাকলে, এবং ব্যস্ততার কারণে নিজেদের মধ্যে সময় কম দিতে পারলে হতে পারে।
এছাড়াও, যদি কখনো এমন হয়, যে আপনি আপনার পার্টনারকে কোন Personal Space দিতে চাচ্ছেন না, তাকে সবসময় কোন বিশেষ কারণ ছাড়া সন্দেহ করছেন, না জানিয়ে তার সোশ্যাল মিডিয়াতে বা তার ফোনে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন, তখন আপনি Automatically আপনার পার্টনারকে নিয়ে Insecurities-এ ভুগবেন। তার যেকোনো গতিবিধিই আপনার কাছে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লাগবে।
এরকম হলে আমাদের সর্বপ্রথম যা করণীয়, তা হল কোন ভালো Mental Health Expert-এর সাথে Consult করা। কারণ Obsessive Compulsive Disorder থেকে এই Othello Syndrome-টি আসে, যা পরবর্তীতে বেড়ে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তাই একজন অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিলে এই সন্দেহের প্রবণতাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব।
======================================================================
পুরুষের আবেগ?
একজন Canadian Psychiatrist, Eric Berne, তার বহুল প্রচলিত একটি সাইকো থেরাপিউটিক Approach-এ বলেছেন, "মানুষ বেশ কিছু Drive দ্বারা চালিত, কিছু কিছু drive আছে Be Perfect, Try Hard, Be Strong ইত্যাদি"।
আমাদের সমাজের পুরুষেরা ছোটবেলা থেকেই Be Strong Drive দ্বারা চালিত হয়ে আসে। অর্থাৎ, শক্ত হও, কিছুতেই ভেঙে পরা যাবে না, Emotion-এর প্রকাশ করা যাবে না, এরকম একটা শিক্ষা তারা ছোটবেলা থেকেই পেয়ে অভ্যস্ত। এরকম অবস্থাতে আশেপাশের মানুষেরাও দেখা যায় ছেলেদের কাঁদতে দেখলে তাতে কটুকথা বলেন, তাদেরকে Emotion-এর প্রকাশ করার কোন সুযোগ দেন না। খুব কম বয়স থেকেই তাদের মাথায় সেট করে দেয়া হয়, যে ছেলেদের কাঁদতে নেই। অতঃপর, সেই ছেলে যখন একজন পরিপূর্ণ পুরুষে পরিণত হয়, তখন তাদের মাঝে Emotion কাজ করে না, বা তারা তাদের মনের কথা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোথায় যেন বাধাপ্রাপ্ত হন, তারা ধরেই নেন যে তাদের কোন কাঁদার অধিকার নেই, আবেগি হওয়ার অধিকার নেই।
কিন্তু, আদতে তা কতটুকু সত্য? একজন পুরুষ ও অন্যান্যদের মতো রক্ত মাংসের মানুষ, তাদেরও কষ্ট হয়, মন ব্যথিত হয়। তাই, কখনো কষ্ট পেলে তা প্রকাশ করার মতো সুযোগ পুরুষদের দিতে হবে, এবং কাঁদতে ইচ্ছা হলে অবশ্যই কাঁদার মতো Space দিতে হবে তাদের। সমাজ হিসেবে আমাদেরও এদিকে অনেকটা মন মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

Comments
Post a Comment