Skip to main content

মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা

 


মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা | Delusional Disorder

আজকাল আমাদের সমাজে সন্দেহের ব্যাপারটি খুবই সাধারণ হয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সন্দেহ করছে, আবার অনেকে আছেন তাদের বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী অথবা কলিগদের সাথেও সন্দেহ করে থাকছেন। প্রায় ৭০% মানুষ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহজনক চিন্তা ভাবনা করে থাকেন। আমরা যেহেতু সমাজে বসবাস করি, তাই আমাদের আশেপাশের অনেক মানুষের কাজকর্ম আমাদের ভাবিয়ে তুলতে পারে, সন্দেহ জাগাতে পারে। তবে কোন Evidence বা প্রমাণ সাপেক্ষে যদি সেই সন্দেহ দূর হয়ে যায়, তবে এটি নরমাল একটি বিষয়। কিন্তু, যথেষ্ট পরিমাণে সত্যতার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যদি এমন হয়, যে সে Alternative Explanation গুলো Avoid করছে, নিজে নিজে ওইসব পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অনিশ্চিত জিনিস Read করছে, তাহলে এটাকে মনোরোগের ভাষায় বলা হয় Delusional Disorder। এই Delusional Disorder এর ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যক্তি তার বিশ্বাসের বিপরীতে যেই প্রমাণ বা Evidence-ই পায় না কেন, সে এই সবগুলিকে Ignore করে এবং মেনে নিতে পারে না। তার এই সন্দেহ বা বিশ্বাসগুলো অনেক ক্ষেত্রে তার শিক্ষা-সংস্কৃতি বা তার মূল্যবোধের সাথেও অমিল দেখা যায়। এই Disorder-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সারাক্ষণ অস্থিরতা কাজ করে। এছাড়াও এই ডিসঅর্ডারের বিষয়টা অন্যান্য সাইকিয়াক্ট্রিক ডিসঅর্ডার যেমন Schizophrenia, Personality Disorder, Depressive Disorder, Su*bst*ance Ab*se ইত্যাদির লক্ষণ হিসেবে কাজ করে। এই পরিস্থিতিটা যে শুধু রোগীর জন্যই ক্ষতিকর তা না, এটা তার পরিবার, সমাজ আশপাশের সকলের জন্যই কষ্টের কারণ। তাই আমাদের অবশ্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
Stop Generalizing Perfect Body! কারো সাথে দেখা হওয়া মাত্রই তার শারীরিক গঠন নিয়ে কথা বলার এক বাজে অভ্যাস আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। আমরা হয়ত খেয়াল করে কথাগুলো বলি না, অথবা, আমরা মনে করি কথাগুলো আমরা তাদের প্রতি Care করে বলছি। কিন্তু, একবারও আমরা ভেবে দেখি না, যে আমাদের এই অন্যের শারীরিক গঠন নিয়ে বলা অযাচিত কথাগুলো হয়ত তাদের মনকে ভেঙে দিচ্ছে। আমাদেরকে যে কথাগুলো বললে আমরা কষ্ট পাবো, আবার সেই আমরাই অন্যের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই তাদের সেই কথাগুলোই বলে দিচ্ছি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, যে আমাদের মধ্যে এই শারীরিক গড়ন নিয়ে কথা বলার বিষয়টি এতই Normal হয়ে গেছে যে আমরা হয়ত খেয়ালই করছি না যে আমাদের সামনের মানুষটি Uncomfortable Feel করছে বা কষ্ট পাচ্ছে। এবং আরও সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে যে আজকাল অনেক ছোট বাচ্চা বা Teenage-রা কষ্ট দেয়ার জন্য বা ছোট করার জন্য এসব কথা অবলীলায় একজন আরেকজনকে বলে দিচ্ছে। তারা কিন্তু এসব শিখছে তাদের আশেপাশের মানুষদের থেকেই। এমন অসংখ্য Bo*dy Sha*m*ing-এর উদাহরণ আমরা রোজ আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। শৈশবকাল থেকেই অনেক শিশু এই বডি শেমিং এর স্বীকার হয়ে আস্তে আস্তে তাদের Self Confidence খোয়াতে থাকে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় তারাও বড় হয়ে অন্যকে ঠিক একই ভাবে বডি শে*মিং করছে। স্রষ্টা আমাদের যেভাবে তৈরি করেছেন সেটায় আমাদের কোনো হাত নেই। তবে কেন আমরা এমন কোনো জিনিস নিয়ে নিজেদের মাঝে ভিন্নতা তৈরি করছি? আসুন, আজকে থেকে আমরা আমাদের নিজেদের গড়নকে ভালোবাসতে শিখি। Bo*dy S*a*ming শব্দটিকে বদলে Appreciation-এ নিয়ে আসি।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...