Skip to main content

স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনকে বোঝে না

 


যে কাজ গুলো একটা সম্পর্ককে নষ্ট করে!

নিরাপত্তাহীনতা বা Insecurities আমাদের সবার মধ্যেই কম বেশী বিদ্যমান। এটা বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করে তখনি, যখন এই Insecurities আমাদের সম্পর্কের মাঝে চলে আসে। আমাদের সবার মধ্যে একটা প্রবণতা আছে, আমরা অনেক সময় আমাদের নতুন Relationship-কে পুরানো Relationship এর সাথে তুলনা করি। সঙ্গীর প্রাক্তনকে অতীত থেকে বর্তমানে নিয়ে এসে তুলনা করতে থাকি, যা সম্পর্কে তিক্ততার জন্ম দেয়। প্রতিটি মানুষেরই একটা অতীত থাকতে পারে, কিন্তু সেই অতীতকে ধরে এনে আমরা আমাদের বর্তমানকে নষ্ট করবো না। অপরদিকে, আমাদের অনেকের মধ্যে Unrealistic চিন্তা করার অভ্যাস থাকে। কোন কারণে পার্টনারকে কল দিয়ে না পেলে, বা সঙ্গীর কোন বিরূপ আচরণ দেখলেই তাতে সন্দেহ পোষণ করা যাবে না। এইসব Behavior আমাদের সম্পর্কতে Insecurity-র জন্ম দেয়। এছাড়াও আমাদের পার্টনারদের অহেতুক অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণত মানুষ তার Insecurities-কে পার্টনারের উপর Project করেন অতিরিক্ত প্রশ্ন করার মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে সম্পর্কে টানাপোড়ন সৃষ্টি করে। এবং সবশেষে, পার্টনারকে যথেষ্ট পরিমাণে Space দিতে হবে। আপনি যদি তাকে সর্বক্ষণ জবাবদিহি করতে বলেন, প্রশ্নে জর্জরিত করতে থাকেন, তাহলে অপরজনের সম্পর্কের প্রতি হাঁপিয়ে উঠার সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায় এবং সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কখনো সম্পর্কে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা দ্বিধা থাকলে অবশ্যই সঙ্গীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে এবং সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------

কেন পার্টনারের কথা বুঝতে পারছি না! আজকাল স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনকে বোঝে না এমন অবস্থা আমরা প্রায়ই খেয়াল করে থাকি। কিন্তু এমন কেন হয় তা আমরা অনেকেই জানি না বা বোঝার চেষ্টা করি না। এটির কারণ হতে পারে Communication Gap। আমাদের একজন আরেকজনের সাথে কীভাবে যোগাযোগ হবে এই ব্যাপারটি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। একটা যোগাযোগ হতে গেলে, তিনটি ধাপ অতিক্রম করে যোগাযোগ টা হয়ে থাকে। মাত্র এই তিনটি ধাপ সঠিকভাবে পূরণ করলেই Communication Gap দূর করা যেতে পারে। ▶️ প্রথমত, আপনি যখন শ্রোতা হিসেবে আপনার পার্টনারের কথা শুনছেন, তখন খেয়াল করতে হবে আপনি মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনছেন কিনা, এবং যিনি কথা বলছে, তাঁর কথার উদ্দেশ্য ধরতে পারছেন কিনা। যদি মনে হয় আপনি তা করতে পারছেন, তাহলে আপনি Active Listening এর ধাপ টি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করলেন। ▶️ দ্বিতীয়ত, আপনি যখন কথাটা শুনলেন, তখন আপনাকে কথাটা Process করতে হবে। এটি Communication এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কথা Process-এ যিনি কথা বলছেন, তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই আমরা বুঝে যাবো আমাদের কি উত্তর দিতে হবে, আর এই উত্তরের প্রেক্ষিতে ফলাফল কি হতে পারে। ▶️ সর্বশেষে, যখন উত্তর দেবার পালা, তখন আপনাকে Timing-টা বুঝতে হবে, আর ঐ পরিস্থিতিতে যে উত্তরটি যথাযথ, সেই উত্তরটি দিতে হবে। এছাড়া, কথা বলার সময়ে আমাদের অবশ্যই মুখের অঙ্গভঙ্গি, কণ্ঠস্বর, ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এ সকল ব্যাপার মেনে চলতে পারলেই আশা করা যায় একটি Healthy কমিউনিকেশন Maintain করা সম্ভব।
---------------------------------------------------------------------------------------------------

মুড সুইং নাকি বাইপোলার? আমাদের অনেক সময় Mood Swing হয়, এবং এই মুড সুইং নিয়ে আমাদের অনেক বিক্ষিপ্ত ধারণা আছে। দেখা যায় সামান্য মুড সুইং হলেই আমরা ভাবি আমাদের হয়ত Bipolar Illness আছে। কিন্তু মুড সুইং মানেই যে বাইপোলার illness, তা নয়। এটি একটি সাধারণ ঘটনা, আমাদের সকলেরই কম বেশী মুড সুইং হতে পারে। তবে যখন মুড সুইং টা লম্বা সময় ধরে হচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে হচ্ছে, আপনার cope করতে সমস্যা হচ্ছে, বা কোন external trigger ছাড়াই আপনার মুড সুইং হচ্ছে, তাহলে আপনার চেক আপ করানো বাঞ্ছনীয়। মুড সুইং এর সবচেয়ে common কারণ হচ্ছে মেয়েদের menstruation। মাসিক এর আগে মেয়েদের প্রচুর মুড সুইং হয়ে থাকে। এছাড়াও borderline personality disorder-এ মানুষের প্রচুর মুড শিফট হতে দেখা যায়। তৃতীয়ত যেই কারণ আছে তা হল bipolar mood disorder। এখানে শুধুমাত্র মুড সুইংকেই বাইপোলার বলে না, বরং বাইপোলার হলে সাধারণের বাইরে বাইপোলার manic disorder-এর মতো আরও অনেকগুলো লক্ষণ দেখা দেয়। কাজেই মুড সুইং হলেই আমাদের নিজেদের রোগী ভাবা বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষেরই মুড সুইং হয়, মন ভালো-খারাপ হয়। এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোন রোগ না। চেষ্টা করতে হবে নিজেকে পারতপক্ষে রোগী না ভাবতে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...