Skip to main content

আত্মহত্যা বৃদ্ধির কারণ

 


আমরা প্রতিটা মানুষই বেঁচে থাকার যে স্বাভাবিক প্রবণতা বা যাকে বলে “Survival Instinct” নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। যতোই কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন আমরা সেটাকে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করি। প্রচণ্ড কষ্টের মুহূর্ত যেমন খুব কাছের কাউকে হারিয়ে ফেলার পরও সেই সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেও আমরা বেঁচে থাকি তাহলে কেন আমরা Suicide এর মতো একটা সিদ্ধান্ত নিই?

কেন বর্তমানে আ**হ*ত্যা**র হার এত বেশি? বর্তমানে আত্মহত্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নিজের কষ্টের কথা কাউকে মন খুলে বলতে না পারা। যারা আত্মহত্যা প্রবণ তারা অধিকাংশই জীবনের কোন কষ্টকর ঘটনার স্মৃতি, প্রচণ্ড বিষণ্নতা, বা তার চেয়ে মারাত্মক কোন মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকে কিন্তু তারা কথাগুলো প্রকাশ করার মানুষ খুঁজে পায় না। কাউকে বলতে গেলেই হয়তো “পাগল” বা “Mentally Retarded” হিসেবে তাকে কটাক্ষ করা হবে-এই ভয়ে সে কাউকে কিছু বলার সাহস পায় না। এই যে Judge হওয়ার একটি ভয় তাকে পেয়ে বসে এই ভয় ধীরে ধীরে তাকে নিজের কাছে Worthless মনে করাতে বাধ্য করে এবং সে আত্ম*হ*ত্যা*র দিকে ধাবিত হতে থাকে। কীভাবে বুঝবেন কেউ আত্ম*হ*ত্যা* প্রবণ কি না? লক্ষণগুলো কী কী? একজন মানুষ যদি অতিরিক্ত পরিমাণে একাকী থাকে বা Self-isolation কে বেছে নেয় তাহলে এটি বেশ স্পষ্ট একটি লক্ষণ। জীবনের কোন কষ্টের মুহূর্তের কথা বার বার বলা এবং Trauma কাটিয়ে উঠতে না পারা। নিজের ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির খোঁজ করতে থাকা। কথায় কথায় মৃত্যুর কথা বা মৃত্যুর পর কি হবে সে বিষয়গুলো টেনে আনা। শারীরিকভাবে নিজের যত্ন না নেওয়া এবং ক্ষতির চেষ্টা করা। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটানো বা একদম স্বল্প পরিমাণ সময় ঘুমানো। নিজের ব্যাপারে খুব Low Feel করা বা তাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না এই ধরনের কথা বলা। পরিবার যেকোনো মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ের জায়গা। শাসন ও কটু কথা এমন পর্যায়েরও হওয়া উচিত না যেখানে আপনার নিজের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা ভাই-বোন আপনাকে ভরসাই না করতে পারে। মাঝে মাঝে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলুন, ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনি তাদেরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তাদের দুঃখকষ্টে আপনি ব্যথিত এই বোধটা তাদের উপলব্ধি করা জরুরি। একজন মানুষ যখন বুঝতে পারে যে তার ভালো থাকা, বেঁচে থাকা কারোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তখন সে নিজেকে নিয়ে Positive ভাবে ভাবতে শুরু করে। আসুন যে যার জায়গা থেকে নিজের মত করে চেষ্টা করি এই পরিস্থিতি বদলের, সেটা হোক নিজের পরিবার, কাছের কোন বন্ধু বা স্বল্প পরিচিত কোন মানুষ। আপনার কিছু কথা, অনুভূতি বা শুধুই ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট কিছুক্ষণ শুনেও আপনি সেই মানুষটির চূড়ান্ত ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন।
==========================================================

সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক আর কটু কথা হয়েই থাকে। দাম্পত্য কলহ প্রতিটি দম্পতির মাঝেই হয় কিন্তু সেই কলহ যদি সন্তানদের সামনে প্রতিনিয়ত হতে থাকে তাহলে সন্তান এক পর্যায়ে প্রচণ্ড ভয় পেতে শুরু করে এবং ভয় থেকে নিজেকে বাবা-মা থেকে গুটিয়ে নেয়। সে ধরেই নেয় মা-বাবা শুধু ঝগড়া আর তর্কই করে। এমন অবস্থায় সন্তান বাইরের কারোর সাথে সে বিষয়ে বলতে গেলে সেটা তার পরিবারের জন্য অপমানজনক হয়ে ওঠে। এসব ঝগড়া দেখতে দেখতেই সন্তান এক সময়ে বড় হতে থাকে আর সম্পর্কের প্রতি তার এক ধরনের বিতৃষ্ণা বোধ হতে থাকে। নিত্যদিনের ঝগড়া তাকে পরিবার বিরোধী করে তোলে এবং বিষণ্ন করে তোলে। দিনের পরদিন এই বিষণ্নতা তাকে আত্ম* হন*নের পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। দাম্পত্য কলহ কখনোই সন্তানদের জন্য কল্যাণ নিয়ে আসে না। পরিবারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কখনই বাচ্চাদের সামনে হওয়া উচিত না। মা-বাবার কাছে সন্তান আশ্রয় খুঁজে পায় আর সে যখন দেখে তার আশ্রয়ের জায়গাটা নড়বড়ে তখন সে মনে মনে ভেঙে পরে, হাপিয়ে ওঠে। অভিভাবকদের উচিত এসব ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হওয়া, সন্তানের সাথে একটি সুন্দর বন্ধন গঠনের চেষ্টা করা যাতে সে পরিবারের মধ্যেই সুন্দর সম্পর্কগুলো খুঁজে নিতে পারে, মা-বাবাকে নিজের সবচেয়ে বড় বন্ধু ভাবতে পারে।
source- lifespring

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...