Skip to main content

সিজোফ্রেনিয়া নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনের অসুখ

 


শারীরিক সমস্যা যেমন শরীরের একটা অংশ, ঠিক সেভাবেই মানসিক রোগ মনের একটা অংশ। সিজোফ্রেনিয়া তেমনি একটি জটিল, দীর্ঘমেয়াদি এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনের অসুখ। এটি আপনার, আমার যে কারোরই হতে পারে। সিজোফ্রেনিয়া

এই রোগে রোগীর আশেপাশের মানুষদের আচার-আচরণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি কোন রোগীর আশেপাশের মানুষেরা তার সাথে বিরূপ আচরণ ও কটূক্তি করতে থাকেন, তাহলে তাদের যত চিকিৎসাই করা হোক না কেন, তার প্রভাব অনেক কম হয়। গবেষণা বলে, প্রায় ৫০ শতাংশ সিজোফ্রেনিয়া রোগী কোন না কোন সময়ে বিষণ্নতায় ভুগেন এবং প্রায় ১০ শতাংশ রোগী আ*ত্ম**ত্যা করে বসেন। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে ডিপ্রেশন। রোগীর প্রতি চলতে থাকা অন্যায় আচরণ এমন হবার সম্ভবনা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আচরণ হচ্ছে প্রতিকূল আচরণ। আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তা চেতনা, আচার-আচরণ অনেক সময় পরিবর্তিত হয়ে যায়। তাদের ইমোশনগুলো কন্ট্রোলে থাকেনা। তখন অনেক সময় তারা ভায়লেন্ট হয়ে যান, যা তাদের ইচ্ছাকৃত নয়, বরং তাদের অসুখেরই একটা অংশ। এগুলো চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সিজোফ্রেনিয়ায় ভালো ফলাফলের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি পরিবার তথা সমাজের পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভালো আচরণ খুবই জরুরি।

======================================================================

আপনার Partner এবং আপনি দুজন দুটো ভিন্ন পরিবেশে বড় হয়েছেন তাই একজনের চিন্তা-ভাবনা অন্যজন থেকে ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। চলার পথে এমন হতেই পারে যে আপনি হয়তো আপনার Partner কে মজার ছলে খোঁচা দিয়ে কথা বলে থাকেন এবং সেটা সবার সামনেই করেন। ঝামেলা এড়াতে আপনার Partner আপনাকে কিছুই বলছে না, সহ্য করছে, বলা ভালো Ignore করছে। কিন্তু আপনার Partner নিশ্চুপ থাকলেও মনে মনে ঠিকই কষ্ট পাচ্ছেন এবং আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। সম্পর্ক সম্মান খুব জরুরি একটা বিষয়। এটা কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না যে আপনার Partner ও একজন সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি, তারও ভালো-মন্দের বোধ আছে।

=================================================================
স্বনামধন্য কোন মেডিক্যাল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে- মা-বাবার এ ধরনের চিন্তা ভাবনা সন্তানের চূড়ান্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে। হ্যাঁ পড়াশোনা অবশ্যই জরুরি কিন্তু ভালো থাকার জন্য বা সাফল্যের জন্য কি এতটাই মরিয়া হওয়া উচিত যেখানে আপনার সন্তান টিকেই না থাকতে পারে? আপনার সন্তানের প্রতি এতটাও কঠোর হবেন না, তাকে চেষ্টা করতে Encourage করুন কিন্তু অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে, মারধর করে তাকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবেন না। আপনার সন্তান স্রষ্টার পক্ষ থেকে পাওয়া উপহার, তাকে অবহেলায় হারাবেন না।

====================================================================

আপনি যতই Parenting Skills আপনার সন্তানের ওপর Apply করতে চান না কেন, সন্তান যদি দেখে যে তার মা-বাবার মধ্যে সম্পর্ক ভালো নেই তাহলে Parenting Skills কাজে আসবে না। বাচ্চারা আপনি কি বলছেন তা শুনে তেমন কিছুই শেখে না, সে তার মা-বাবাকে দেখে শেখে কারণ তারা অনুকরণপ্রিয়। আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যদি সঠিক আচরণ বজায় রাখেন, নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমস্যা Resolve করে নিতে পারেন এবং সন্তানের সামনে সুস্থ সম্পর্ক রাখতে পারেন তাহলে আপনার সন্তান অনেক ভালো আর সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠবে।

=======================================================================
মা বাবা হিসেবে আপনি সন্তানকে সবচেয়ে দামি যে উপহারটা দিতে পারেন তা হলো নিজের স্বামী বা স্ত্রীকে ভালোবাসা। এই একটা বিষয় অধিকাংশ Parenting-এ Missing। হয়তো সন্তানের সামনেই আমরা বলছি 'তোমার মা ভালো না" বা 'তোমার বাবা একজন অকর্মণ্য লোক"। দুঃখজনক হলো যে, এই কথাগুলো বলে আমরা মনে করি আমরা দারুণ Parenting করছি। আসলে হচ্ছে ঠিক তার বিপরীত কিছু। আপনার সন্তানের স্মৃতিতে সবসময় তার মা-বাবার সম্পর্কটা থাকবে এবং আমরা অবশ্যই চাইবো না সন্তানের স্মৃতিতে তিক্ত কিছুর ছায়া পড়ুক। আপনি যদি সঠিকভাবে সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে চান তাহলে প্রথমে নিজের Partner এর প্রতি দায়িত্ব পালন দিয়ে সেটা শুরু করা জরুরি। সন্তানের বেড়ে ওঠায় মা-বাবার সমান ভূমিকা ও গুরুত্ব রয়েছে।
=======================================================================
সন্তানের ট্যুরে যাওয়ার ব্যাপারে মা বলছে "এখনি এত দূরে ট্যুরে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার ভালো লাগছে না" আবার অন্যদিকে বাবা বলছে "ট্যুরে যেতে চাইলে যাবে, এতে সমস্যা কি, ঘুরে আসুক, ঘোরাঘুরি করলে মন Fresh থাকে" । উপরের ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যে সন্তানের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে মা-বাবা ভিন্ন মতামত প্রদর্শন করছেন। সন্তানের জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে মা-বাবার মতের ভিন্নতা হতেই পারে। মা-বাবা যেহেতু আলাদা দুটি মানুষ এবং ব্যক্তিত্ব তাই তাদের মত সব বিষয়ে এক হবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই কিন্তু মতের এই ভিন্নতা সন্তানকে একটা Wrong Signal দিতে পারে। সে নিজের বাবাকে এই পর্যায়ে বন্ধু আর মাকে শত্রু ভাবা শুরু করবে কারণ বাবা তার Favor এ কথা বলছে আর মা সমস্যা তৈরি করছে। মা-বাবা যেহেতু তক্ষুনি কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না তাই উচিত হবে সন্তানকে বলা যে 'আমি আর তোমার মা এই বিষয়ে আলাপ করে তোমাকে জানাবো"। মা-বাবার মধ্যকার Disagreement সন্তানের সামনে হলে সন্তানের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
=================================================================

ঠিক ১১ টায় শুতে যাবার পর ভাবলেন আর মাত্র পাঁচ মিনিট মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে ঘুমিয়ে পড়বেন। সেই পাঁচ মিনিট দাঁড়ালো ৩ ঘণ্টায় গিয়ে।আপনি ঘুমুতে গেলেন দেরি করে, সকালে উঠলেন তাড়াহুড়োয় আর সারাদিন অবসাদে ভুগলেন, কাজে মনোযোগ দিতে পারলেন না, মেজাজ খিটখিটে হতে লাগলো, আপনি ভেবেই পেলেন না কেন এরকম হচ্ছে ! কারণটা খুবই Common কিন্তু ক্ষতিকর।


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...