Skip to main content

মানুষের জৈবিক চাহিদা

 


মানুষের বিভিন্ন জৈবিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম একটি চাহিদা হচ্ছে যৌন চাহিদা। আর তা হালালভাবে মেটানোর জন্য বিয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজকের যুগের যুবক যুবতীরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা হালালভাবে মেটাতে পারছে না বলেই অবৈধ রিলেশনশিপে জড়িয়ে পড়ছে, খারাপ স্থানে গিয়ে কুকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এজন্য সচেতন মা-বাবাদের উচিত সন্তানের বিয়েতে যথাসাধ্য সাহায্য করা, বিয়ের ব্যাপারে সাপোর্টিভ রুল প্লে করা।

আপনার সন্তানের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য আপনি ভারি সচেতন। সে খেয়েছে কিনা তার খোঁজখবর নিচ্ছেন কিন্তু তার যৌন ক্ষুধা মেটানোর ব্যাপারে কি আপনার কোনো খেয়াল আছে? প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরে চারিদিকে যৌনতার এত উসকানিতে সে তার যৌন চাহিদাকে কীভাবে কন্ট্রোল করছে এ ব্যাপারটি কি কখনো আপনাকে ভাবায়? একা অবস্থায় বদ্ধ ঘরে সে কীভাবে সময় কাটায়, মোবাইলের অন্ধকার জগতে তার বিচরণ আছে কিনা তার কোনো নজরদারি আছে আপনার? যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য আপনার আদরের সন্তান যাকে নিয়ে আপনি এত স্বপ্ন দেখেন সেই সন্তান যিনার কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে না তো? নিজের চরিত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে না তো? পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যেমন মানুষ খাবার না পেলে চুরির দিকে পা বাড়ায় ঠিক তেমনি যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্যও হালাল কোনো ব্যবস্থা না পেলে একটা সময়ে অধৈর্য হয়ে অবৈধ যৌনাচারের দিকে গিয়ে নিজেকে ধ্বংসের দিকে টেলে দেয়। ফলে আপনি সন্তানের পেটের ক্ষুধা নিয়ে সচেতন থাকবেন অথচ তার যৌন ক্ষুধার বিষয় আপনাকে ভাবাবে না তা কি হয়? আপনি নিজেও তো এ সময় পার করে এসেছেন। কাজেই যৌন ক্ষুধার জ্বালা আপনার নিজেরই তো ভালো বোঝার কথা। এরকম একটি সেনসিটিভ বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ার মানে হচ্ছে ছেলেমেয়েদেরকে পরোক্ষভাবে খারাপ পথের দিকে টেলে দেওয়া। সন্তানের বিয়ে নিয়ে আপনার গাফিলতি যেন কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে আপনাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি না করে। ©রাকিব আলী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...