সন্তানেরা তাদের মা-বাবা দ্বারা ভীষণভাবে Influence হয়। মনে করুন এক ছেলে ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছে যে তার বাবা-মায়ের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেই ছেলেটির বাবা ছেলেটির মা’র সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিত। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর ছেলেটি যখন বিয়ে করলো তখন সেও সামান্য ঝগড়ায় তার স্ত্রীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিচ্ছে। এমন কেন হচ্ছে? কারণ ছেলেটা ছোট থেকেই নিজের পরিবারে এই অবস্থা দেখে এসেছে এবং এটাকেই সে স্বাভাবিক ভেবে নিয়েছে যে এরকমটাই হয় বা হওয়া উচিত, সে ভুলটা বুঝতে পারছে না। অথচ তার বাবা-মার দূরত্ব তাকে কষ্ট দিয়েছে-সেটা থেকে সে কোন শিক্ষা নেয়নি। তাই আমাদেরকে বুঝতে হবে আমরা যেন না বুঝে Replicate না করি, মা-বাবার করা ভুল আমরা যেন আমাদের জীবনে পুনরাবৃত্তি না করি।
অনেক স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মনোমালিন্যের সময় বলে থাকেন “তোমাকে বিয়ের আগে অনেক ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল, তখন সেখানে বিয়েতে রাজি হলে আমি এভাবে Suffer করতাম না” বা “তোমার মামা বিয়ের মোহরানা নিয়ে এমন নাটক করেছিল কেন?” এই ধরনের কথা আপনার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক এবং এখানেই শেষ না এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরও ঘটতে থাকে যার ফলে এক ছাদের নিচে বাস করা সত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয় এবং মনে মনে উভয়েই কষ্ট পেতে থাকে।
এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটুক তা কখনোই কাম্য না। তাই এসব ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আমরা নিজেদের দিক থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করতে পারি। যাতে আমাদের পারিবারিক সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
সন্তান যখন যেটা যায় সেটাই যদি আপনি তার সামনে হাজির করেন তাহলে সন্তানের মধ্যে সহনশীলতা তৈরি হবে না। অনেক অভিভাবক ভাবেন তারা যেহেতু সন্তানকে ভালোবাসেন তাই তাদের সব ধরনের আবদার পূরণ করতে হবে। এতে করে আপনার সন্তানের যে ক্ষতিটা হবে সেটা হলো সে সবকিছুকে সহজলভ্য ভাববে।
কোনো কিছু অর্জন করার পেছনের যে Struggle, সেটা সে শিখবে না। জীবনের অনেক ক্ষেত্রে আপনার সন্তান কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে এবং তখন সে সামান্য সমস্যায় কাচের পাত্রের মতো ভেঙে গুড়িয়ে যাবে যদি তাকে আপনি Struggle ও Resilience অল্প বয়স থেকে না শেখান। সামান্য গরম, দীর্ঘ ট্র্যাফিক জ্যাম আর ব্যাংকের লম্বা লাইন আপনার সন্তানকে নিমিষেই বিরক্ত করে তুলবে আর ঘাবড়ে দেবে।
তবে তার মানে এই না সন্তানের ইচ্ছে আপনি পূরণ করবেন না, অবশ্যই করবেন। কিন্তু চাইলেই সে সব পাবে এই ধারণা তার মধ্যে তৈরি করে দেওয়া তাকে জীবনে অনেকখানি পিছিয়ে দেবে, তাকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলবে।
আপনি যখন শিশু ছিলেন, নিজে কিছুই করার সামর্থ্য ছিল না তখন বাবা-মা ই আপনাকে আগলে রেখেছিলেন সমস্ত কিছু থেকে। আপনার বাবা তার উপার্জনের অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করেছেন আপনার পড়াশোনা বা শখ পূরণে একইভাবে আপনার মা হয়তো নিজস্ব কোন সাধ-আহ্লাদ পূরণ করেননি। যখন আমরা বাবা-মায়ের উপর রেগে যাচ্ছি এই সমস্ত ত্যাগগুলো আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে আসে আর কারণে অকারণে করা ছোটখাট শাসন তীব্র হয়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
মা-বাবার সাথে আমাদের সম্পর্ক অন্য আর পাঁচটি সম্পর্কের সাথে মিলিয়ে ফেললে হবে না। বাবা মায়ের সাথে প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া যাবে না। পরিবারের বাইরের যে কেউ আপনার জন্যে এত ত্যাগ স্বীকার করবে না যতটুকু আপনার বাবা মা আপনার জন্যে করেছেন এবং ভবিষ্যতেও নিঃসন্দেহে করবে।
বাবা মাকে মাঝে মাঝে বাবা মায়ের জায়গায় না রেখে শুধু দুটো সাধারণ মানুষের জায়গা থেকে দেখলে হয়তো তাদের করা সেই ভুলগুলোকে আমরা এতটা তীব্র মনে করব না।
বিয়ের আগে ছেলেটার যে আত্মবিশ্বাস দেখে মেয়েটা প্রেমে পড়েছিল, বিয়ের পরে ছেলের সেই আত্মবিশ্বাসকে মেয়েটা নার্সিসিসেম বলে!
বিয়ের আগে মেয়েটার যে আত্মবিশ্বাস ছেলেটার কাছে ভালো লাগে, বিয়ের পরে মেয়েটা সে আত্মবিশ্বাসকে এই ছেলে
টক্সিক feminism বলে!
আপনি "তার" কাছ থেকে কি চান তার আগে আপনার জানা উচিত আপনি আপনার নিজের জীবনে আসলেই কি চান?
এই যে আপনি ডিভোর্সকে বা বিবাহ বিচ্ছেদকে কোন ব্যক্তির জীবনের একটা বড় পরাজয় বা ব্যর্থতা মনে করেন -
এটা একটা ভুল বিশ্বাস
ডিভোর্স অনেক ক্ষেত্রেই কোন সমস্যা না
বরং একটা বড় সমস্যার সমাধান
সুখী সংসার আছে এই বিশ্বাস একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিশ্বাস। আপনি যদি মনে করেন সবাই পরকীয়া করে অথবা সবাই সংসার জীবনে খুব কষ্টে আছে এটা মোটেও সঠিক না।
একা থাকাটা দীর্ঘ সময়ে যদি আসলেই এত আনন্দের হতো তাহলে কেউ আসলে সংসার বা প্রেম করতো না। ২০ বছর বয়সে বিয়ে করব না এটা বলতে খুব ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু ৫০ বছর বয়সে এই mindset পরিণতি খুব কষ্টের হতে পারে।
আমাদের মুশকিল টা হলো যে আমরা ক্যারিয়ার যেভাবে প্ল্যান করি, আমাদের সংসারের জন্য সেভাবে প্ল্যান করি না। আমরা যদি প্ল্যানিং টা ঠিক রাখতাম, আমার যদি জানতাম আমি কে এবং আমার কেমন স্বামী বা স্ত্রীর দরকার তাহলে আমাদের সংসার জীবন অনেক সুন্দর হতে পারতো।\by yahya amin

Comments
Post a Comment