"স্রষ্টা বলেছেন, 'তুমি যাকে'ই আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসবে', আমি তাকে'ই তোমার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবো। এবং তোমাকে একা করে রাখব।"🖤 তিনি আরও বলেছেন, 'কখনো বলবেনা আমি তাকে ছাড়া বাঁচবোনা।' তবে আমি তাকে ছাড়াই তোমাকে বাঁচাবো। এবং পেছনের অনুগত সব আবেগ কেড়ে নিয়ে, তোমাকে দিব্যি সামনে নিয়ে যাব! তুমি কী দ্যাখো না? ঋতুরাও বদলাতে থাকে। ছায়া দেয়া গাছের পাতাও যায় শুকিয়ে। ধৈর্য্যে হারিয়ে যায়। কিন্তু তোমার স্রষ্টা ধৈর্যশীল ও পরম দয়ালু, সেই ঝরে যাওয়া পাতার ডাল থেকেই আবার সবুজ পাতা গজায়, তুমি কী দ্যাখো না তোমার স্রষ্টার এই নিদর্শন? যে মানুষটাকে তুমি নিজের অংশ ভাবতে, সেই মানুষটাই একদিন অচেনা হয়ে যায়। তোমার মন ভেঙে যায়! এমনকি তোমার বন্ধুও শত্রুতে পরিণত হয় আর শত্রুও খানিক সময় পরে পরিণত হয় বন্ধুতে। যে মানুষটাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে সেও প্রতারণা করে। তবে তুমি কেন স্রষ্টা বিমুখ হয়ে মানুষকে ভরসা করো? অদ্ভুত এই পৃথিবী! যখন তুমি ভাবো এটা হবেনা কখনো, কিন্তু পরোক্ষণে সেটাই হয়। সেটাই হবার নয় কী? তুমি বলো, 'আমি পড়বোনা' অথচ তুমি পড়ো। তুমি বলো, 'আমি বিস্মিত হবোনা!' অথচ তুমি রোজ বিস্মিত হও। এবং সবচেয়ে বিচিত্র বিষয় হচ্ছে- তুমি বলতে থাকো 'আমি মরে গেছি' অথচ তুমি বাঁচো। অথচ তুমি বেঁচে থাকো। তোমার স্রষ্টা তোমাকে বাঁচায়, তোমার স্রষ্টা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখে!
----------------------------------------------
হযরত মুসা (আঃ) এর আমলে দীর্ঘদিন যাবত বৃষ্টি বন্ধ ছিলো। তাঁর উম্মতরা তাঁর কাছে এসে বললো, হে নবী, আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন, এই বৃষ্টিহীন গরম আর সহ্য হয় না।
হযরত মুসা (আঃ) সবাইকে নিয়ে বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করতে শুরু করলেন।
দোয়া করার সাথে সাথে রোদের তীব্রতা আরো বেড়ে গেলো।
হযরত মুসা (আঃ) অবাক হলেন।
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন...
আল্লাহ, বৃষ্টির জন্য দোয়া করলাম, আপনি রোদের তেজ বাড়াইয়া দিলেন।
আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব আসলো...
এই জমায়েতে এমন এক ব্যক্তি আছে, যে চল্লিশ বছর যাবত আমার নাফরমানি, আমার বিরোধিতা করেছে, একটি দিনের জন্যও আমার বাধ্য হয়নি। তাঁর কারনেই বৃষ্টি আসা বন্ধ আছে।
হযরত মুসা (আঃ) জমায়েতের দিকে তাকিয়ে, সেই অচেনা, অজানা লোকটিকে বের হয়ে যেতে বললেন।
সেই লোকটি ভাবলো, এখন যদি বের হয়ে যাই, তবে সবার সামনে পাপী হিসেবে লজ্জা পাবো।
আর যদি থাকি, তবে বৃষ্টি আসা বন্ধ থাকবে।
নিজের ইজ্জত বাঁচানোর স্বার্থে সে আল্লাহর কাছে দোয়া করলো...
আল্লাহ, চল্লিশ বছর আমার পাপ গোপন রেখেছেন, আজকে সবার সামনে বেইজ্জতি করবেন না।
ক্ষমা চাচ্ছি।
একদিকে দোয়া শেষ হলো, অন্যদিকে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলো।
হযরত মুসা (আঃ) আবারো অবাক হয়ে জিজ্জাসা করলেন...
আল্লাহ, কেউ তো জমায়েত থেকে বের হলো না, তবে আপনি বৃষ্টি দিয়ে দিলেন যে?
আল্লাহ জবাব দিলেন...
যার কারণে বৃষ্টি আসা বন্ধ ছিলো, তাঁর কারনেই বৃষ্টি শুরু হলো। আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
চল্লিশ বছরের পাপ, দশ সেকেন্ডে ক্ষমা...
হযরত মুসা জিজ্জসা করলেন...
লোকটির নাম পরিচয় তো কিছুই জানালেন না।
আল্লাহ বললেন...
যখন পাপে ডুবে ছিলো, তখনই জানাই নাই, এখন তওবা করেছে, এখন জানাবো?
পাপীদের পাপ আমি যথাসম্ভব গোপন রাখি, এটা আমার সাথে আমার বান্দার নিজস্ব ব্যাপার।
অথচ আমরা নিজেরা পাপী হয়ে ও প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে কারো না কারো নামে বদনাম/গীবত করতেই থাকি।
আল্লাহ আমাদের সকলের ছোট-বড় জানা অজানা প্রকাশ্যে গোপনে সকল পাপ মাফ করে দিন। আমিন।🤲

Comments
Post a Comment