মাতৃত্বকালীন ৫ সচেতনতা💙
👉 মাতৃত্ব একটি Physiological Term যা নিয়ে নন-মেডিক্যাল ব্যক্তিদের সঠিক ধারণা প্রায় সময়েই থাকে না। মাতৃত্ব বিষয়ে আমরা পূর্বে আমাদের মা, চাচী, খালা বা দাদী-নানীদের থেকে যে তথ্য জানতে পেরেছি এবং ডিজিটালাইজেশনের যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছি ততটুকুতেই আমাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ কিন্তু বিস্তারিত অনেক কিছুতে আমাদের ঘাটতি থেকে যায়। ডাক্তাররাও সময়ের অভাবে সেভাবে রোগীর সমস্যা বুঝিয়ে দিতে পারেন না। উন্নত বিশ্বে Pregnancy’র শুরু থেকে Pregnancy সম্পর্কিত অনেক ক্লাস বা Birth-Planning ক্লাসের বেশ প্রচলন খেয়াল করা যায় যেখানে অনাগত সন্তানের বাবা ও মা সানন্দে অংশগ্রহণ করে থাকে। এই ধরণের ক্লাসে মাতৃত্বকালীন নানান বিষয়ে মা ও বাবাকে অবগত করা হয়। শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক করা হয়। এ ধরণের ক্লাসগুলোর প্রচলন এখনও বাংলাদেশে সেভাবে করে শুরু হয়নি। তাই আজকে Pregnancy সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে আলোচনা করব। 🤰 Pregnancy’র সময়ঃ মাসিকের প্রথম দিন থেকে 9th Calendar Month অর্থ্যাৎ সম্পূর্ণ এই Journey টুকুর সময়সীমা নয় মাসের হয়ে থাকে। এই পুরো সময়টুকুকে ৩ টি অংশে বিভক্ত করা হয় অর্থ্যাৎ- First Trimester, Second Trimester ও Third Trimester. শেষ মাসিকে পর ১২ তম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় First Trimester. ১৩ তম সপ্তাহ থেকে ২৮ তম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় Second Trimester এবং ২৯ তম সপ্তাহ থেকে ৪০ তম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় Third Trimester. মায়ের গর্ভে একটি সন্তান ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত অবস্থান করে, এ সময়ের কম-বেশিও হয়ে থাকে। ⭕ গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গঃ বয়স, ব্যক্তি ও শরীরের গঠনভেদে মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সঠিক জ্ঞানের অভাবে মায়েরা জরুরী ও গুরুতর অনেক উপসর্গ এড়িয়ে চলেন বা ভাবেন এসব শুধুই গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা। প্রথম ট্রাইমেস্টারে হালকা বা বেশি বমি ভাব, খাবারে অরুচি, কোমড় ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য হওয়া এগুলো খুবই স্বাভাবিক শারীরিক সমস্যার উপসর্গ কিন্তু যেগুলো বেশ Alarming উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে সেগুলো হলোঃ মা যদি কোন কারণে অজ্ঞান হয়ে যায়, তলপেটে ব্যথা অনুভূত হওয়া, রক্তপাত শুরু হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়া ও রক্তচাপ একদম কমে যাওয়া এ সবগুলো লক্ষণের কোন একটি দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। Pregnancy’র একদম শুরুতেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত যাতে কোন ঝামেলা ছাড়াই সুস্থ গর্ভকালীন সময় কাটানো যায়। 🧪 গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাঃ বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে বেশ কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয় যেমনঃ মায়ের রক্তের গ্রুপ কি, রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ সঠিক আছে কিনা (মেয়েদের অ্যানিমিয়া হবার আশঙ্কা থাকে), মায়ের ডায়েবেটিস আছে কিনা, থাইরয়েড যদি থেকে থাকে তাহলে সেটার মাত্রা কি পরিমাণে রয়েছে এবং অবশ্যই একটি আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে নেওয়া জরুরী। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে গর্ভের সন্তানের জটিল ও জন্মগত কোন শারীরিক ত্রুটি রয়েছে কিনা তা আল্ট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। ১৩-২৮ সপ্তাহের মধ্যে যে বিশেষ আল্ট্রা সাউন্ড করানো হয় তাকে জেনেটিক আল্ট্রা সাউন্ড বলে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভের সন্তানের শারীরিক ত্রুটি থাকলে সেগুলোর চিকিৎসা করা দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়। 😇 হালকা ব্যায়ামঃ গর্ভকালীন বেশ কিছু ভুল ধারণার একটি হলো সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা এবং একেবারেই নড়াচড়া না করা। হ্যাঁ, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ডাক্তার মায়েদের সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে বলেন কিন্তু অধিকাংশ সময়েই হালকা ব্যায়ামের ব্যাপারে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ব্যায়ামগুলো খুবই সাধারণ যেমনঃ সকালে ১৫-২০ মিনিট হাঁটা, হালকা শরীর স্ট্রেচ করা বা ইয়োগা এবং এগুলো করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভারি কোন ব্যায়াম যেমন; কার্ডিও, হিট ওয়ার্ক আউট বা ওয়েট ট্রেইনিং এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে গর্ভের সন্তান ও মায়ের ক্ষতি হতে পারে। 🍜 সুষম খাদ্য গ্রহণঃ সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ও আয়রনযুক্ত খাবার সন্তান ও মায়ের উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রতিদিনের খাদ্য রুটিনে ডিম, দুধ, পালং শাক সহ সবুজ শাক-সবজি, হলুদ ফলমূল, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডস রয়েছে এমন মাছ হতে পারে এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন মাল্টি ভিটামিন ও আয়রন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘ এই নয় মাসে মায়ের শরীরে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই পুষ্টিবিদ বা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এড়িয়ে যেতে হবে যেসকল খাবারঃ আনারস, পেঁপে, হাই মারকিউরি লেভেল রয়েছে এমন মাছ ইত্যাদি। 🔵 প্রতিটি মানুষের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। আধুনিক যুগে বেশ নতুন রোগ ও উপসর্গের আবিষ্কার হয়েছে যা মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই সনাতন পদ্ধতি অনুসরণ না করে সঠিক ডাক্তার এবং প্রয়োজনীয় ফলো-আপের মাধ্যমে গর্ভকালীন সম্পূর্ণ সময়টাতেই সচেতন থাকা উচিত। মাতৃত্বকালীন সময়টি যেকোন মায়ের জন্য খুবই বিশেষ একটি সময় যেখানে মা নিজের অনাগত সন্তান নিয়ে ধীরে ধীরে স্বপ্ন বুনতে থাকে। পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক নানান পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও যেতে হয় তাই আলাদা করে এই সময়ে মায়েদের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরী। lifespring

Comments
Post a Comment