হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মন খারাপ! এক সপ্তাহ হয়ে গেলো আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে কোনো মেহমান যাচ্ছে না! অতিথি আপ্যায়ন করবেন, সেই সুযোগটা তিনি পাচ্ছেন না। আমার-আপনার বাসায় মেহমান আসলে কি আমরা সেটাকে ঝামেলা, বিড়ম্বনা মনে করি? 'নিজে ঠিকমতো খাইতে পারছি না, তারউপর মেহমান আসছে' —এমনটা মনে করি? সাহাবীরা কিন্তু তেমনটা ভাবতেন না। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে মাত্র ১ সপ্তাহ কোনো মেহমান না যাবার কারণে তিনি কী ভাবেন জানেন? তিনি ভাবেন- না জানি আল্লাহ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন, এজন্য তাঁর বাড়িতে কোনো মেহমান আসছে না! আমার-আপনার বাড়িতে মেহমান আসাকে স্বাগত জানান। মেহমানকে আপ্যায়ন করুন। নিজে দুইদিন কম খাই। এগুলোর ফলে আপনার জীবনে, সম্পদে বরকত বাড়ে। পুঁজিবাদী মাইন্ডসেট আপনাকে 'বরকত' কী শেখাবে না। সাহাবী-সালাফদের জীবনী পড়লে দেখবেন তারা চাতক পাখির মতো মেহমানের অপেক্ষা করতেন! তথ্যসূত্র:
আলী ইবনু আবি তালিব রা., ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী: ১/৩৮৬
হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.)-র বরাতে এই হাদিসটির বর্ণনা আছে। তিনি নবী (সা.)-এর কাছে নিচের ঘটনাটি শুনেছেন।
দুজন নারী ছিল। তাদের সঙ্গে দুটি সন্তানও ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল। সঙ্গের নারীটি বলল, ‘তোমার ছেলেকে বাঘে নিয়েছে।’ অন্য নারী বলল, ‘না, তোমার ছেলেকে নিয়ে গেছে।’দুই নারী তখন হজরত দাউদ (আ.)-এর কাছে এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হলো। তিনি ছেলেটির বিষয়ে রায় দিলেন। এর পর তারা বেরিয়ে দাউদ (আ.)-এর সন্তান সোলায়মান (আ.)-এর কাছে গিয়ে ব্যাপারটি তাঁকে জানাল। তিনি বললেন, তোমরা একটা ছুরি নিয়ে এসো। ছেলেটিকে আমি দু টুকরো করে দুজনের মধ্যে ভাগ করে দিই।
এ কথা শুনে অল্পবয়সী নারী বলে উঠল, ‘তা করবেন না। আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। ছেলেটি ওর।’
সোলায়মান (আ.) তখন ছেলেটিকে অল্পবয়সী নারীর বলে রায় দিলেন।
সহিহ্ বুখারি, হাদিস: ৩৪২৭

Comments
Post a Comment