বর্তমান বিশ্বে আলোচিত বিষয়গুলোর মাঝে অন্যতম 'আত্মহত্যা'! গত ৫ বছরেই স্বেচ্ছামৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক আকারে। একটি জরিপ অনুসারে, শুধুমাত্র পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ ও সম্পর্কজনিত কারনে গত আট মাসে প্রায় ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশরই বয়স ১৩ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। আদৌ কি আত্মহত্যা আটকাতে আমাদের কিছু করনীয় আছে? ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২২ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে - 'আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস'। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “Creating Hope Through Action”. আত্মহত্যা প্রতিরোধে WHO এর পরিকল্পনায় ইতিমধ্যে ৩৮টি দেশ যোগদান করেছে, এগিয়ে এসেছে নিজেদের বিভিন্ন রিসোর্স নিয়ে। আত্মহত্যা প্রতিরোধের গুরুত্বের জন্যই এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে স্বেচ্ছামৃত্যুকে। WHO ডিরেক্টর জেনারেল, Dr. Tedros Adhanom Ghebreyesus বলেন - "এত কিছুর পরেও, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন আত্মহত্যা করছে! প্রতিটি মৃত্যুই আপনজনের জন্য হৃদয়বিদারক। এই মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। আরো অনেক দেশকে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।" ২০১৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি লাখে আত্মহত্যার হার ছিল ১০.৫। আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা বেশি অধিক আয়সম্পন্ন রাষ্ট্রসমূহে, লাখে ১১.৫ জন। উচ্চ আয়ের দেশসমূহে নারীর তুলনায় প্রায় ৩ গুণ পুরুষ আত্মহত্যা করে, যেখানে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশে নারী-পুরুষ অনুপাত প্রায় সমান। ১৫-২৯ বছরের তরুণদের মৃত্যুর ২য় প্রধান কারনই আত্মহত্যা! ১৫-১৯ বছরের কিশোরদের মাঝে ৩য় প্রধান মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা, যেখানে কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রসবজনিত মৃত্যুর পরেই আত্মহত্যার স্থান! আত্মহত্যার হার কমাতে হলে ~ - তরুনদের সচেতন করতে হবে - মানসিক রোগসমূহ নির্ণয় করে চিকিৎসা করতে হবে - কথা শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে - কথা বলার জায়গা করে দিতে হবে - জীবনের ইতিবাচক দিকের প্রতি নজর দিতে হবে আমাদের চেষ্টা বাঁচাতে পারে কাছের জনের প্রাণ! আত্মহত্যায় নষ্ট না হোক আর একটিও জীবন! ---------------------------

Comments
Post a Comment