Skip to main content

ভালো লাগা ,ভালবাসা

 


আমাদের কত সময়ে, কত কিছু ভালো লাগে, কত মানুষকে ভালো লাগে, তাই না?

ভালো লাগা একটি তাৎক্ষণিক অনুভূতি, অনেক সময়ে আমাদের অনেকেই জিজ্ঞেস করে বসে - এত মানুষ থাকতে তোমাকে কেনো একেই ভালো লাগে!? কখনো আমাদের এর উত্তর জানা থাকে, কখনো হয়তোবা জানাও থাকে না! ভালোলাগা যখন দীর্ঘমেয়াদি একটি অনুভূতিতে রূপ নেয়, তখনই আমরা একে বলি ভালোবাসা। অনেকে বলে থাকেন, ভালোলাগায় শর্ত থাকে, কিন্তু ভালোবাসায় থাকে না। আসলেই কি তাই? নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বলে আসলেই কি কিছু আছে? বাস্তবিক ভাবে আমাদের জীবনে কোনো সম্পর্কই নিঃস্বার্থ নয়, শুধুমাত্র সন্তানের সাথে সম্পর্ক ছাড়া! যেকোনো সম্পর্ক থেকে আমাদের চাওয়া পাওয়া থাকে, ফলে যুক্ত হয় অভিযোগ-আফসোস এবং অপূর্ণতার হতাশা! আর যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আমাদের সবার জীবনের মূল উদ্দেশ্যটি কি? - সম্ভবত উত্তরটি হবে - 'ভালো থাকা।' আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই; কখনো ভালোবাসার মানুষের সাথে, অথবা তাকে ছাড়া। কখনো কখনো মনে হতে থাকে আসলে এই মানুষটিকে ছাড়া আমি কীভাবে বেঁচে থাকব!? কিন্তু বিশ্বাস করুন, মানুষ বেঁচে থাকতে পারে! সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা আর অক্সিজেন ব্যতীত কোন কিছুই এমন নেই, যা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না! কখনো কখনো মানুষটি নয়, বরং 'ভালবাসা' নামক অনুভূতি থেকে ছাড়াছাড়ি হওয়ার ভয়ে দীর্ঘদিন আমরা অনেকেই বয়ে বেড়াই - অস্বস্তিকর, অস্বাস্থ্যকর এবং হানিকর সম্পর্ক। একে অপরের সাথে ভালোবাসা ছাড়াও থাকা যায়, কিন্তু বিশ্বাস এবং সম্মান ছাড়া শুধু ভালোবাসা দিয়ে আসলে ভালো থাকা কষ্টকর! আমরা যত কথাই বলি না কেন, যত ভালোরই মুখোশ পরিনা কেন, দিনশেষে সত্যি কথা হল, আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই এবং আমাকে ভালো রাখতে পারে একমাত্র একজন ব্যক্তি - সেটি হলো আমি। অন্য কারো দায়িত্বও নয় আমাকে ভালো রাখা, তাই অন্য কাওকে দোষ দিয়েও লাভ কি? আমাকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার! আসুন ভালো থাকি, অন্তত চেষ্টা করি 🙂 -----------
জীবনের সমস্যার মুখোমুখি হয়নি, এমন মানুষ কি পৃথিবীতে আছে? মনে হয় না! সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে, ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত, এমনকি কখনোবা ঘুমের মাঝেও আমরা সম্মুখীন হই বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক ঘটনার। কিছু ঘটনায় আমরা মানিয়ে নেই, আর কিছু ঘটনা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়! বিখ্যাত লেখক Charles R. Swindoll বলেছেন "তোমার জীবনের গতিপথ ১০% নির্ভর করে তোমার সাথে কি ঘটেছে তার উপর এবং বাকি ৯০% নির্ভর করে সে ঘটনায় তোমার প্রতিক্রিয়ার উপর।" ভাগ্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য নয়, কিন্তু ভাগ্য একাই কিন্তু জীবন নির্ধারক নয়! আমাদের মূল সমস্যা হলো; হয় আমরা সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে চাই, অথবা সবকিছুই ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেই। কিন্তু, দুইটি ধারনাই আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এই ধারনার কারনেই আমাদের পক্ষের বিপরীতের ঘটনাবলী মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং জীবন নিম্নমুখী যাত্রাপথে যেতে থাকে। চলার পথে ৩টি বিশ্বাস আপনাকে সাহায্য করবে - ১. যা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তা নিয়ে আফসোস করতে থাকলে, যা আপনার আয়ত্তাধীন তাও হারাবেন। ২. কোন ব্যর্থতাই স্থায়ী নয়, তেমনি কোন নির্দিষ্ট সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না। উভয় ক্ষেত্রেই আপনার প্রতিক্রিয়া আপনাকে সংজ্ঞায়িত করবে। ৩. ব্যর্থতার শেষ বিন্দু থেকে আবার শুরু করুন অধ্যবসায় ও পরিশ্রম দিয়ে। কারণ সাফল্য ও পরিশ্রম একই পয়সার এপিঠ - ওপিঠ; একটি ছাড়া অপরটি অসম্ভব। আপনার মনোবল বদলে দিতে পারে জীবন!

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...