কেন আপনার মন খারাপ? কেন আপনি হতাশাগ্রস্ত? ভোর হচ্ছে, সকাল গড়িয়ে দুপুর হচ্ছে, তারপর রাত, কোন কিছুই থেমে নেই; কেন আপনি আপনার মন কে একটি জায়গায় আটকে রেখেছেন? আপনি আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা'য়ালার সৃষ্টি সম্পর্কে ভাবেন না বলেই কিছুই আপনার নজরে আসছে না! আপনি কি লক্ষ্য করছেন না, কত সুন্দর সময় আপনি পার করছেন? আপনি নিজের প্রতি একটু খেয়াল করুনতো, যারা প্যারালাইজড হয়ে ঘরে শুয়ে আছেন তাদের চেয়ে কি আপনি ভালো অবস্থানে নেই? আজ যারা অনুন্নত এলাকায় আছে, যারা প্রযুক্তি কি দেখেইনি, যারা টিভি মোবাইল কি জানেই না, তাদের চেয়ে আপনি কি খারাপ অবস্থায় আছেন? আপনি কি জানেন, দুনিয়ার প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতিদিন কমপক্ষে ১বেলা অনাহারে কাটায়? আপনি কি বুঝেন, লক্ষাধিক মানুষের সুন্দর জামাকাপড় তো দূরের কথা, স্বাভাবিক পরিধানের কাপড় ও নেই! ধরে নিন আপনাকে এই মুহুর্তে কোটিপতি বানিয়ে দেয়া হলো, আগামীকাল যদি আপনি মারা যান, তাহলে এই অর্থবিত্তের মূল্যই কি? আশেপাশে দেখুন, খেয়াল করুন, আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা'য়ালা সবাইকেই ভালো রেখেছেন, যারা যার স্থানে সে সে ভালোই আছে, আল্লাহ তা'য়ালা যা জানেন আমরা তা জানি না এটা বিশ্বাস করতেই হবে, আমাদের জন্য যা যা কল্যানকর সবকিছুই উপযুক্ত সময়ে আল্লাহ দিবেনই। আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন, ◉ আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যমীনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না। (সূরা আল-বাকারাহ:৩০) ◉ নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর’। (সূরা আলে-ইমরান:১৯০, ১৯১)
সর্বাবস্থায় বলুন আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি সকল সৃষ্টির রব।❣️❣️
******************************************************************
হঠাৎ গভীর রাতে বাবাকে হাত মুখ ধুয়ে পোশাক বদলাতে দেখে কৌতুহলী ছোট্ট মেয়ের প্রশ্ন..
"কই যাও বাবা....? সুগন্ধি গায়ে মেখে বাবা হাসেন, "আর বলেন অনেক বড় জায়গায় মিটিং আছে রে মা !" "এতো রাতে..? "হুম, রাতে ওনাকে ফ্রি পাই। দিনে অনেক ঝামেলার জন্য শান্তিতে কথা বলতে পারিনা।" "আমাকে নেবে..?" "তুমি যেতে চাইলে নেবো। " "সত্যি..?" মেয়ের আনন্দ উপচে পড়ে। ভাবেনি বাবা রাজী হয়ে যাবে। দ্রুত উঠে পড়ে বিছানা ছেড়ে। বাবার কথামতো আলমারী থেকে সবচেয়ে ভালো পোশাকটা বের করে পড়ে নেয়। বাবা পরম যত্নে মহা আয়োজন করে দুটো জায়নামাজ বিছিয়ে নিলে মেয়ে বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলে," তোমার মিটিং এখানে..?" "হম, এখানে। চলো, তোমাকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। তাঁকে বলবো, আল্লাহ, দেখেন আজ আমার মেয়ে আমার সাথে আছে !" "আমি তো আল্লাহকে দেখিনা বাবা!" "একদিন দেখবে, যদি এখন থেকে যোগাযোগ রাখো তাহলে । নইলে কোনোদিনই দেখতে পারবেনা। উনি হলেন সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে মহান । এই যে আমাদের যা কিছু দেখছো সবই তিনি দিয়েছেন। আমাকে তোমার মতো একটা মিষ্টি মেয়ে দিয়েছেন!" "আর আমাকে তোমার মতো বাবা..!" খুশিতে কচি কণ্ঠে হেসে ওঠে মেয়েটা... বাবার পাশে মেয়েটা গভীর মনোযোগী হয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। বাবার দেখাদেখি জমিনে মাথা ঠেকিয়ে বিড়বিড় করে বলে,"হে মেহেরবান আল্লাহ.. আমি আপনাকে দেখতে চাই !" আল্লাহ পাক মেহেরবানী করে আমাদের এই চর্মচক্ষুকে একদিন তাঁকে দেখার মতো নেয়ামত দান করুন আমিন।🤲🥰
Comments
Post a Comment