• তোমার স্ত্রীর জন্য দুআ করবে। তোমার করা দুআ সে যেন কিছুটা হলেও শোনে। নামাজ শেষে এভাবে দুআ করতে পারো যে, 'আল্লাহ, আপনি আমার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, আর আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট।' তবে ভুলেও যেন কখনো তোমার স্ত্রী তোমাকে এ দুআ করতে না শুনে যে, আল্লাহ, আমার স্ত্রীর চরিত্র সংশোধন করে দিন। তার হঠকারিতা দূর করে দিন। তাকে সব সময় আমার অনুগত করে দিন।' অথবা 'আল্লাহ, আমাকে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দিন। আমার তো ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল প্রায় !” • যখন স্ত্রী অসুস্থ হবে, তখন তার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে দিয়ে তার জন্য দুআ করবে। ভুলেও বলবে না বা এমন ভাব দেখাবে না যে, 'অনেক হয়েছে রোগের ভান,এবার ওঠো।' • যখন তোমার স্ত্রী তোমাকে জানাবে যে, তার মা অসুস্থ। তখন তাকে বলো, ঠিক আছে, তোমার মায়ের সাথে কিছু সময় কাটাও। এখন তোমার সেখানে থাকা প্রয়োজন । তোমার অনুপস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আমার।' কেবল এ কটা শব্দ স্ত্রীর সাথে তোমার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর করবে। দুজনের সম্পর্কের উদাসীনতা দূর হবে। সাবধান, কখনো বলবে না যে, “তোমার বোনরা তো আছে। তারা দেখবে তোমার মাকে। বাড়িতে তোমার ছেলেমেয়ে আছে না?!' • যখন স্ত্রী তোমাকে বলে, 'তোমার ছেলেটাও তোমার মতো পড়তে ভালোবাসে।' তখন তাকে বলো না যে, 'আল্লাহ বাঁচালেন, সে তার মায়ের মতো হয়নি। তার মা তো জীবনে একটা বই ধরেছে কি না সন্দেহ!' বরং বলো, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তার ও তার মা-বাবার জ্ঞানে প্রবৃদ্ধি দান করুন। • স্ত্রী যখন খাবার এনে সামনে রাখে, তখন তাকে বলো, 'তোমার হাতের রান্না অসাধারণ। ভালো ভালো রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়েও এত তৃপ্তি পাই না।' এ সামান্য কথা তাকে আনন্দিত করবে। তোমার সন্তানদের শেখাও কীভাবে তারা তাদের ভবিষ্যৎ-স্ত্রীদের প্রশংসা করবে। ধরো, একবার খাবারে নুন কম হলো, তখন ভুলেও বলো না যে, 'কবে তুমি ঠিকমতো রাঁধতে শিখবে?।' যখন স্ত্রী তোমাকে বলে যে, 'একটা ফিউজ উড়ে গেছে বা সকেট নষ্ট হয়ে গেছে।' তখন তাকে বলবে না যে, 'তোমাকে বলেছিলাম না ঠিকমতো দেখেশুনে এগুলো ব্যবহার করবে?!' এভাবে না বলে, তাকে বলো যে, 'যা হওয়ার হলো, এ সকেটের জীবন এ পর্যন্তই ছিল।' এ সামান্য সুন্দর কথা সবার অন্তরে শান্তির ঠান্ডা অনুভূতি এনে দেবে। • তোমার স্ত্রী যখন তার কোনো বান্ধবীর কথা শুনার পর চিন্তিত হয়ে তোমার কাছে আসে, তখন তাকে বলো যে, 'চিন্তা করো না। এগুলো সে এমনিই বলেছে। তার কথা থেকে ভালোটা বেছে নাও।' এভাবে সুন্দর করে বলো। তাকে বলো না যে, ‘তোমরা নারীরা, শুধু ঝগড়া করতে জানো।' • যখন চাকরি বা ব্যবসার জরুরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ো তুমি, তখন স্ত্রীকে এ বলে আশ্বস্ত করো যে, তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাবে আর যথেষ্ট সময় দিয়ে পুষিয়ে দেবে। কারণ হয়তো তোমার হঠাৎ সময় কম দেওয়াকে সে বিরূপভাবে নেবে, উদাসীনতা ভাববে। এভাবে বলবে না যে, 'তুমি দেখছ না আমি ব্যস্ত! এখন কীভাবে তুমি এটা-ওটা বলছ আমাকে?!' অথবা 'তুমি সব সময় আমাকে বিরক্ত করো। বিয়ের এত বছর পার হলো, এখনো তুমি বুঝলে না আমাকে!' তোমাদের সন্তান যখন পড়ালেখায় অলসতা দেখায়, তখন সন্তানকে এটা বলবে না যে, 'তুমি কখনো জীবনে সফল হবে না। তুমি তো তোমার বাবার মতো অলস 'আর ব্যর্থ।' • যখন তোমার স্বামী তোমাকে এমন গল্প শোনায়, যা তুমি আগে শুনেছ; তবুও তুমি পুরোটা শুনবে, ঠিকঠাকমতো রিয়েক্ট করবে, এটা বলবে না যে, 'এ গল্প আগে আমি শুনেছি। এতক্ষণ বলা কথাগুলো সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু এ সামান্য কথাই অনেক কষ্টের উপশম হবে, অনেক আনন্দের মাধ্যম হবে। বই: প্রেমময় দাম্পত্য জীবন নিয়ম, কৌশল, পরামর্শ।❣️ ✍️উসতাজ হাসসান শামসি পাশা।💕

Comments
Post a Comment