Skip to main content

স্ত্রীর জন্য দুআ

 


• তোমার স্ত্রীর জন্য দুআ করবে। তোমার করা দুআ সে যেন কিছুটা হলেও শোনে। নামাজ শেষে এভাবে দুআ করতে পারো যে, 'আল্লাহ, আপনি আমার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, আর আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট।'

তবে ভুলেও যেন কখনো তোমার স্ত্রী তোমাকে এ দুআ করতে না শুনে যে, আল্লাহ, আমার স্ত্রীর চরিত্র সংশোধন করে দিন। তার হঠকারিতা দূর করে দিন। তাকে সব সময় আমার অনুগত করে দিন।' অথবা 'আল্লাহ, আমাকে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দিন। আমার তো ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল প্রায় !” • যখন স্ত্রী অসুস্থ হবে, তখন তার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে দিয়ে তার জন্য দুআ করবে। ভুলেও বলবে না বা এমন ভাব দেখাবে না যে, 'অনেক হয়েছে রোগের ভান,এবার ওঠো।' • যখন তোমার স্ত্রী তোমাকে জানাবে যে, তার মা অসুস্থ। তখন তাকে বলো, ঠিক আছে, তোমার মায়ের সাথে কিছু সময় কাটাও। এখন তোমার সেখানে থাকা প্রয়োজন । তোমার অনুপস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আমার।' কেবল এ কটা শব্দ স্ত্রীর সাথে তোমার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর করবে। দুজনের সম্পর্কের উদাসীনতা দূর হবে। সাবধান, কখনো বলবে না যে, “তোমার বোনরা তো আছে। তারা দেখবে তোমার মাকে। বাড়িতে তোমার ছেলেমেয়ে আছে না?!' • যখন স্ত্রী তোমাকে বলে, 'তোমার ছেলেটাও তোমার মতো পড়তে ভালোবাসে।' তখন তাকে বলো না যে, 'আল্লাহ বাঁচালেন, সে তার মায়ের মতো হয়নি। তার মা তো জীবনে একটা বই ধরেছে কি না সন্দেহ!' বরং বলো, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তার ও তার মা-বাবার জ্ঞানে প্রবৃদ্ধি দান করুন। • স্ত্রী যখন খাবার এনে সামনে রাখে, তখন তাকে বলো, 'তোমার হাতের রান্না অসাধারণ। ভালো ভালো রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়েও এত তৃপ্তি পাই না।' এ সামান্য কথা তাকে আনন্দিত করবে। তোমার সন্তানদের শেখাও কীভাবে তারা তাদের ভবিষ্যৎ-স্ত্রীদের প্রশংসা করবে। ধরো, একবার খাবারে নুন কম হলো, তখন ভুলেও বলো না যে, 'কবে তুমি ঠিকমতো রাঁধতে শিখবে?।' যখন স্ত্রী তোমাকে বলে যে, 'একটা ফিউজ উড়ে গেছে বা সকেট নষ্ট হয়ে গেছে।' তখন তাকে বলবে না যে, 'তোমাকে বলেছিলাম না ঠিকমতো দেখেশুনে এগুলো ব্যবহার করবে?!' এভাবে না বলে, তাকে বলো যে, 'যা হওয়ার হলো, এ সকেটের জীবন এ পর্যন্তই ছিল।' এ সামান্য সুন্দর কথা সবার অন্তরে শান্তির ঠান্ডা অনুভূতি এনে দেবে। • তোমার স্ত্রী যখন তার কোনো বান্ধবীর কথা শুনার পর চিন্তিত হয়ে তোমার কাছে আসে, তখন তাকে বলো যে, 'চিন্তা করো না। এগুলো সে এমনিই বলেছে। তার কথা থেকে ভালোটা বেছে নাও।' এভাবে সুন্দর করে বলো। তাকে বলো না যে, ‘তোমরা নারীরা, শুধু ঝগড়া করতে জানো।' • যখন চাকরি বা ব্যবসার জরুরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ো তুমি, তখন স্ত্রীকে এ বলে আশ্বস্ত করো যে, তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাবে আর যথেষ্ট সময় দিয়ে পুষিয়ে দেবে। কারণ হয়তো তোমার হঠাৎ সময় কম দেওয়াকে সে বিরূপভাবে নেবে, উদাসীনতা ভাববে। এভাবে বলবে না যে, 'তুমি দেখছ না আমি ব্যস্ত! এখন কীভাবে তুমি এটা-ওটা বলছ আমাকে?!' অথবা 'তুমি সব সময় আমাকে বিরক্ত করো। বিয়ের এত বছর পার হলো, এখনো তুমি বুঝলে না আমাকে!' তোমাদের সন্তান যখন পড়ালেখায় অলসতা দেখায়, তখন সন্তানকে এটা বলবে না যে, 'তুমি কখনো জীবনে সফল হবে না। তুমি তো তোমার বাবার মতো অলস 'আর ব্যর্থ।' • যখন তোমার স্বামী তোমাকে এমন গল্প শোনায়, যা তুমি আগে শুনেছ; তবুও তুমি পুরোটা শুনবে, ঠিকঠাকমতো রিয়েক্ট করবে, এটা বলবে না যে, 'এ গল্প আগে আমি শুনেছি। এতক্ষণ বলা কথাগুলো সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু এ সামান্য কথাই অনেক কষ্টের উপশম হবে, অনেক আনন্দের মাধ্যম হবে। বই: প্রেমময় দাম্পত্য জীবন নিয়ম, কৌশল, পরামর্শ।❣️ ✍️উসতাজ হাসসান শামসি পাশা।💕

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...