কোরআন ও হাদিসের কিছু নির্দেশনা সুস্পষ্ট ভাষায় অমুসলিম আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে বলা হয়েছে। যেমন সূরা লুকমানে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো। ’ -সূরা লুকমান: ১৫হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর ঘটনা। একদিন তার ঘরে একটি বকরি জবাই করা হলো। খাবার রান্না হলে তিনি তার গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীর নিকট কি এ খাবার হাদিয়া পাঠিয়েছো? আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে কি এ খাবার দিয়েছো? এরপর তিনি বললেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, প্রতিবেশীর বিষয়ে জিবরাইল আমাকে এত উপদেশ দিচ্ছিল, আমি মনে করছিলাম- সে হয়তো তাদেরকে ওয়ারিশই বানিয়ে দেবে। ’ -সুনানে তিরমিজি: ১৯৪৩ সুন্দর আচরণও অনেক সময় দাওয়াতের ভূমিকা পালন করে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এমন মহানুভব আচরণে মুগ্ধ হয়েও তো অনেকে ইসলাম কবুল করেছেন এবং পরবর্তীতেও সাহাবাদের যুগ থেকে শুরু করে যারা ইসলামের সুন্দর আচারগুলো নিজেদের মাঝে লালন করে গেছেন, তাদের আচরণ নীরবে অমুসলিমদের ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতো। অমুসলিমরা এতে যথেষ্ট প্রভাবিত হতো। আশ্রয় নিতো ইসলামের শীতল ছায়ায়। আমাদের জীবনকে যদি আমরা এ ছাঁচে ঢেলে সাজাতে পারি, তাহলে অমুসলিমদের মন জয় করে ইসলাম ও মুসলমানের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়তো তেমন কঠিন হবে না।
************************************************************
একটি কোরআন বিদ্বেষী শক্তি আন্তর্জাতিক মানের কুরআন শিক্ষা ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। কোন শিক্ষক যদি কোন অপরাধের সাথে জড়িত হয় তাহলে সেই অপরাধীর বিচার হোক, কঠিন বিচার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি । এজন্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাক সেটা আমরা চাই না। প্রতিষ্ঠান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যারা চায়না বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ তৈরি হোক, তারা এই ঘটনাটা কে কেন্দ্র করে প্রতিষঠান বন্ধ করার চেষ্টা করবে, চারদিকে নিউজ ছড়িয়ে দেবে, প্রোপাগান্ডা ছড়াবে। এই ষড়যন্ত্র সফল হতে পারলে ওরা একে একে সব দিকে হানা দিবে।
বন্ধ করার চেষ্টাও চালাবে কুরআন শিক্ষার। এবং আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ গড়ার কারখানাগুলো হারিয়ে যাবে, সচেতন হওয়া উচিত, সবার মনে রাখা প্রয়োজন, ব্যক্তিগতভাবে নেসার সাহেবের সাথে অনেকের মতবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে দেওয়া যাবেনা। বাতিল ও ইসলাম বিদ্বেষীরা যেন সুযোগ না পায়।
পরিশেষে কিছু পরামর্শ ,
১. হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রতি মাসে পরিবারের সাথে সময় দেওয়ার জন্য মিনিমাম তিন দিন ছুটি দেওয়া দরকার। অবিবাহিত কোন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়া দরকার।
২. প্রতি মাসের বেতন প্রতিমাসেই পরিশোধ করা দরকার।
৩. প্রত্যেকটি হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষকরা আরো সচেতন হতে হবে ছাত্র দের ঘুম এবং নিরাপত্তার স্বার্থে।
৪. কোন শিক্ষককে নতুন নিয়োগ দেওয়ার পর তাকে দু থেকে তিন মাস বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা ও শিক্ষকদের চোখে চোখ রাখা দরকার ।
আল্লাহ সহায় হোন সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন।
বিশ্বজয়ী হাফেজদেরকে বিশ্বমানের আলেম হওয়া দরকার!
বিশ্বজয়ী হওয়াতে দোষের কিছু নেই, বরং এটা গর্বের বিষয়। মূলত সমস্যা হচ্ছে এখানে যে কিছু বিশ্বজয়ী হাফেজদের মধ্যে আভিজাত্বের লোভ আর সেলিব্রেটিত্বের ধান্দাভাজি।যা আমরা কখনও কাম্য মনে করি না।
যার কারনে ছেলেটাকে বে-ইলমের সাগরে ভাসিয়ে পরে হতাশার সাগরে ডুবে মরে গার্ডিয়ান এবং উস্তাদগণ। উনারা যদি সম্পুর্ন ভাবে গাইডিং করেন তাহলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় পাওয়া সম্ভব।
অভিভাবক কিংবা নিজ উস্তাদের পক্ষ থেকে যদি তাকমীল সমাপনের আগে নিজ প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়া যেকোন প্রকার সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণের প্রতি বিধি-নিষেধের আওতায় রাখা হয় ছাত্রদের কে, তাহলেই কেবল এই সমস্যা থেকে সমাধান আসতে পারে। কিন্তু এটা থেকেই বেঁচে থাকাটা অভিভাবকের যেমন কঠিন ঠিক তেমনি নিজ উস্তাদও এর থেকে বিরত থাকাটা কঠিন।
উস্তাদদের ক্ষেত্রে একটা বিষয় কাজ করে বেশী তা হল যে, আমার মাদরাসার ছাত্র এই হয়েছে সেই হয়েছে, এত বড় সমাবেশে যদি সে তিলাওয়াত করে, তাহলে তো মাদরাসার প্রচার হবে, মাদরাসার সুনাম সু-খ্যাতী বাড়বে। অভিভাবকও একই পথে হাটে। মনে হয় যেন তারা ছাত্র পড়াচ্ছেনই শুধু সুনাম সুখ্যাতী অর্জনের জন্যই। অভিভাবক সন্তান কে ইলম শিখাচ্ছেন মনে হয় শুধুই নাম আর খ্যাতী অর্জনের জন্যই।
শুধু এই মনমানসিকতার কারনেই অনেক অনেক ভাল ভাল হাফেয ছেলেরা লাইনচ্যুত হচ্ছে। এর জন্য জবাব দিতে হবে আল্লাহর কাছে এই উস্তাদদের কেও এবং গার্ডিয়ানকেও।
সারকথা এতটুকুই বলব যে, বিশ্বমানের হাফেযদেরকে অবশ্যই বিশ্বমানের আলেম হয়ে উঠার জন্যও মুজাহাদা দরকার। সেজন্য সবচেয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে হবে প্রথমে উস্তাদ কে দ্বিতীয়ত অভিভাবককে।

Comments
Post a Comment