রাসুল (সা.)-এর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাসওয়া নামে একটি উটের নাম।যে উটনি রাসুল (সা.)-কে বহন করার সম্মান অর্জন করেছে। নিম্নে সেই কাসওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হলো— নামকরণ : রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উটনিকে ‘কাসওয়া’ বলে সম্বোধন করতেন। কাসওয়া আরবি শব্দ অর্থ—এমন উটনি, যার নাকের বা কানের কিছু অংশ কাটা। আরবি পরিভাষায় কাসওয়া বলা হয় এমন উট বা উটনিকে, যাকে তার মালিক কষ্ট বা কাজ থেকে দূরে রেখেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও তাঁর উটনিকে যাবতীয় কাজকর্ম থেকে দূরে রেখেছিলেন। এই উটনি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হিজরত, হুদায়বিয়ার সন্ধি, মক্কা বিজয় ও বিদায় হজের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ছিল। হিজরতের বাহন কাসওয়া : এই কাসওয়ার ওপর আরোহণ করে নবী (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আবু বকর (রা.) হিজরতের জন্য দুটি উটনি কিনেছিলেন। রাসুল (সা.) হিজরতের সময় আবু বকর (রা.) থেকে একটি বাহন (উটনি) কিনে নিয়েছিলেন। ’ এই উটনি কাসওয়া নামে পরিচিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬৯৪) আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত উটনি : হিজরতের পর রাসুল (সা.) মদিনায় পৌঁছলে রাসুল (সা.)-কে অতিথি হিসেবে পেতে সবাই আগ্রহ পেশ করল। প্রত্যেকে চাইল রাসুল (সা.) যেন তার ঘরে মেহমান হন। প্রত্যেকে রাসুল (সা.)-এর উটনি কাসওয়ার লাগাম ধরে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে যেতে চাইল। তখন রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা একে ছেড়ে দাও, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। শেষে উটনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর ঘরের সামনে বসে পড়ে। আর রাসুল (সা.) আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর ঘরে মেহমান হন। মসজিদ-ই-নববীর স্থান নির্ধারণ : রাসুল (সা.)-এর উটনি কাসওয়া মসজিদ-ই- নববীর স্থান নির্ধারণের মাধ্যম হয়। উটনি মদিনায় পৌঁছে দুই এতিম বালকের স্থানে বসে পড়ে। আর উটনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আদিষ্ট ছিল, তাই রাসুল (সা.) মসজিদের জন্য ওই স্থান বেছে নেন। তিনি জায়গাটি এতিম দুই বালকের থেকে কিনে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬৯৪) মক্কা বিজয়ে কাসওয়া : রাসুল (সা.) কাসওয়ায় আরোহণ করে মক্কা বিজয় অভিযানের নেতৃত্ব দেন। কাসওয়ার ওপর আরোহণ করে তিনি কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুল (সা.) তাঁর কাসওয়া নামক উটনিতে আরোহণ করে তাওয়াফ করেন। তাওয়াফের সময় তিনি হাতের লাঠি দ্বারা হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৮২৮) বিদায় হজের ভাষণে কাসওয়া : রাসুল (সা.) কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে বিদায় হজের ভাষণ দেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, বিদায় হজের দিন আমি রাসুল (সা.)-কে তাঁর কাসওয়া নামক উটনিতে আরোহণরত অবস্থায় ভাষণ দিতে দেখেছি। (সুনানে তিরিমিজ, হাদিস : ৩৭৮৬) কাসওয়ার বিরহী মৃত্যু : রাসুল (সা.) ইন্তেকালে কাসওয়া একা হয়ে পড়ে। তাকে দেখে মনে হতো সে বিষণ্ন ও বিরহে আক্রান্ত। আগের মতো খাওয়াদাওয়া নেই তার। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের তিন মাস পর কাসওয়া মারা যায়।
রাসুল (সা.)-এর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাসওয়া নামে একটি উটের নাম।যে উটনি রাসুল (সা.)-কে বহন করার সম্মান অর্জন করেছে। নিম্নে সেই কাসওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হলো— নামকরণ : রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উটনিকে ‘কাসওয়া’ বলে সম্বোধন করতেন। কাসওয়া আরবি শব্দ অর্থ—এমন উটনি, যার নাকের বা কানের কিছু অংশ কাটা। আরবি পরিভাষায় কাসওয়া বলা হয় এমন উট বা উটনিকে, যাকে তার মালিক কষ্ট বা কাজ থেকে দূরে রেখেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও তাঁর উটনিকে যাবতীয় কাজকর্ম থেকে দূরে রেখেছিলেন। এই উটনি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হিজরত, হুদায়বিয়ার সন্ধি, মক্কা বিজয় ও বিদায় হজের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ছিল। হিজরতের বাহন কাসওয়া : এই কাসওয়ার ওপর আরোহণ করে নবী (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আবু বকর (রা.) হিজরতের জন্য দুটি উটনি কিনেছিলেন। রাসুল (সা.) হিজরতের সময় আবু বকর (রা.) থেকে একটি বাহন (উটনি) কিনে নিয়েছিলেন। ’ এই উটনি কাসওয়া নামে পরিচিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬৯৪) আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত উটনি : হিজরতের পর রাসুল (সা.) মদিনায় পৌঁছলে রাসুল (সা.)-কে অতিথি হিসেবে পেতে সবাই আগ্রহ পেশ করল। প্রত্যেকে চাইল রাসুল (সা.) যেন তার ঘরে মেহমান হন। প্রত্যেকে রাসুল (সা.)-এর উটনি কাসওয়ার লাগাম ধরে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে যেতে চাইল। তখন রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা একে ছেড়ে দাও, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। শেষে উটনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর ঘরের সামনে বসে পড়ে। আর রাসুল (সা.) আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর ঘরে মেহমান হন। মসজিদ-ই-নববীর স্থান নির্ধারণ : রাসুল (সা.)-এর উটনি কাসওয়া মসজিদ-ই- নববীর স্থান নির্ধারণের মাধ্যম হয়। উটনি মদিনায় পৌঁছে দুই এতিম বালকের স্থানে বসে পড়ে। আর উটনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আদিষ্ট ছিল, তাই রাসুল (সা.) মসজিদের জন্য ওই স্থান বেছে নেন। তিনি জায়গাটি এতিম দুই বালকের থেকে কিনে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬৯৪) মক্কা বিজয়ে কাসওয়া : রাসুল (সা.) কাসওয়ায় আরোহণ করে মক্কা বিজয় অভিযানের নেতৃত্ব দেন। কাসওয়ার ওপর আরোহণ করে তিনি কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুল (সা.) তাঁর কাসওয়া নামক উটনিতে আরোহণ করে তাওয়াফ করেন। তাওয়াফের সময় তিনি হাতের লাঠি দ্বারা হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৮২৮) বিদায় হজের ভাষণে কাসওয়া : রাসুল (সা.) কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে বিদায় হজের ভাষণ দেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, বিদায় হজের দিন আমি রাসুল (সা.)-কে তাঁর কাসওয়া নামক উটনিতে আরোহণরত অবস্থায় ভাষণ দিতে দেখেছি। (সুনানে তিরিমিজ, হাদিস : ৩৭৮৬) কাসওয়ার বিরহী মৃত্যু : রাসুল (সা.) ইন্তেকালে কাসওয়া একা হয়ে পড়ে। তাকে দেখে মনে হতো সে বিষণ্ন ও বিরহে আক্রান্ত। আগের মতো খাওয়াদাওয়া নেই তার। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের তিন মাস পর কাসওয়া মারা যায়।

Comments
Post a Comment