গো+আস্ত=গোস্ত। ‘গো’ মানে গরু-দেবতা। ‘আস্ত’ মানে আছে, বিদ্যমান, অস্তিত্ব। ‘গোস্ত’ মানে গোরু-দেবতা আছে বা গো-দেবতার অস্তিত্ব। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে একটা শিররি আকিদা স্বীকার করা হচ্ছে। কুফুরি হয়ে যাচ্ছে। (গোস্ত, গোসত, গোশত বিভিন্ন মতের বানানবিভেদ) তাহলে কী বলবো?! মাংস বলবো?! নাহ, মাংসও বলা যাবে না। কারণ ‘মাংস’ বাংলা শব্দ। বাংলা হিন্দুদের ভাষা। ভারতের মূর্তিপূজারী হিন্দুরা বাংলাভাষা জন্ম দিয়েছে। ‘মাংস’ বাংলা মুরাক্কাব বা সন্ধিবদ্ধ শব্দ। স্বরসন্ধি। মা+অংশ=মাংস। ‘মা’ মানে গো-মাতা। ‘অংস’ মানে ‘অংশ’। ‘মাংস’ মানে গো-মাতার অংশ। অর্থাৎ মাংস বললে গরুকে মা হিসাবে স্বীকার করা হচ্ছে। এজন্য মুরুব্বিরা মাংস বলতে নিষেধ করেছেন। তাহলে কী বলবো?! মিট বলবো?! নাহ, মিট তো ইংরেজি শব্দ। ইংরেজি বলা হারাম। বৃটিশরা মুসলমানদের উপরে অকথ্য নির্যাতন করেছে। তাহলে?! আরবি শব্দ ‘লাহম’। লাহম বলতে হবে?! নাহ, আরবি তো মুশরিকদের ভাষা। যারা কা’বা শরীফে নগ্নদেহে তাওয়াফ করতো, মেয়েকন্যাকে জীবন্ত কবর দিতো, মশক ভরে রক্ত পান করতো তাদের ভাষা। আরবরা জাহেলি যুগে বিভিন্ন পশুর ‘লাহম’ ভক্ষণ করতো। দেবতার উদ্দেশ্যে ‘লাহম’ উৎসর্গ করতো। এত শত সহস্র পাপে দুষিত কলুষিত আরবি কীভাবে ব্যবহার করবো মুসলমান হয়ে?! ভাবতে হবে তো! সব ভাষাই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভাষা সৃষ্টি করে নি। মানুষকেও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। ইসলামের আগে মুশরিকরা যে ভাষা ব্যবহার করতো ইসলামের সম্মানে আল্লাহ নতুন পুতপবিত্র কোনো ভাষা দেন নি। মুশরিকরা যেই ‘লাহম’ দেবতার উদ্দেশ্যে ‘উৎসর্গ’ করতো রাসূল সা. সেই ‘লাহম’ (পশু) আল্লাহর নামে ‘কুরবানি’ করলেন। আচ্ছা তাহলে আমরা কী বলবো?! যখন আরবিতে কথা বলবো তখন ‘লাহম’ বলবো। যখন উর্দু ও ফার্সিতে কথা বলবো তখন গোস্ত বলবো। যখন বাংলায় কথা বলবো তখন মাংস বলবো। যখন ইংরেজিতে কথা বলবো তখন মিট বলবো। কিংবা আমার যে শব্দ পছন্দ সেটাই ব্যাবহার করবো। মনে রাখতে হবে গরু-ছাগলের মতো আমাদের শিং নাই। খেয়াল রাখতে হবে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে গোতাগোতি করা কখনোই যেন আমাদের স্বভাবে চলে না আসে।
গরুর গোস্ত বলা যাবে না। গোস্ত বলা শিরক। কারণ গোস্ত ফারসি শব্দ। ফারসি মাজূসীদের ভাষা। পারস্যের আগুনপূজারীরা এ ভাষায় কথা বলতো। তারা আগুন পানি পাথর বৃক্ষ নক্ষত্র গরু ইত্যাদির পূজা করতো। গোস্ত ফারসি মুরাক্কাব শব্দ।
******************************
ফেসবুকে আলহামদুলিল্লাহ বলে ক্রয়কৃত কোরবানির পশুর ছবি পোস্ট করা হলো "রিয়া"এর অন্তর্ভুক্ত।"
(রিয়া অর্থ হলো-লোক দেখানো ইবাদাত। যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত)
ফেসবুকে একমাত্র মানুষকে দেখানোর জন্য, আর নিজের বড়ত্ব জাহির করার জন্যই পোস্ট করা হয়, এছাড়া আর কোনো যৌক্তিক কারন নাই..!!
অথচ কোরবানি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়।
**********************************************
শক্তি আর ক্ষমতা আছে বলেই
সব জায়গায় তা প্রয়োগ করতে যাবেন না।
কখন যে কোথায় আটকে গিয়ে মাটির সাথে মিশে যাবেন,
তা আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না!🙏
অহংকার আর দাম্ভিকতা পতনের লক্ষণ,
তাই অহংকারী না হয়ে সহনশীল হোন। 👍
মনে রাখবেন,👈
আপনার চেয়ে বড় বড় পালোয়ান এই
পৃথিবীতে পরিস্থিতির বেড়াজালে আটকে পড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।😇
* ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সকল ঘরে সকল সমাজে সকল রাষ্ট্রে। ঈদ কাটুক সকলের সুস্থতায় এটাই প্রার্থনা।
* ঈদ সবার জন্য আনন্দ হলেও শুধু মাত্র কিছু কিছু বাবার কাছে ব্যর্থতায় আবৃত বুক ভরা কষ্ট। প্রত্যেক বাবা তার সন্তানের মুকুট। স্বপ্ন পূরনের ধারক বাহক। আমাদের খুটিনাটি সকল আবদার কিন্তু বাবার কাছেই থাকে। আর বাবারাও সন্তানের পুষ্প স্পর্শিত চোখে আনন্দের ক্লেশ ফোটানোর জন্য সকল ক্লান্তি বিষর্জন দেন।
* বছরে দুইটা ঈদ, রমজানের কথা না হয় অন্য একদিন বলবো। চলুন আজকে কুরবানির ঈদের কথায় যাই। এইতো চলে এলো কুরবানির ঈদ। সব বাবারা সন্তানের জন্য ঈদের জামা, জুতা কতকিছুই না কিনলো। ঈদের দিন বড় একটা গরু কুরবানি হবে, আহ কি মজাটাই না হবে। কিন্তু এসকল আনন্দের ভিতর কিছু বাবা যে পুরোই ব্যর্থ তার সন্তানকে আনন্দ উপহার দিতে! কতক পরিবার আছে যাদের স্বপ্ন সবার মত করে তারাও ঈদের দিন গুরু কুরবানী করবে, ঘর ভর্তি আনন্দে উল্লাস হবে। কিন্তু স্বপ্ন তো স্বপ্ন তো স্বপ্ন ই হয়, ঘুম ভাঙতেই তা বিলীন। কত পরিবার আছে যারা কিনা নতুন জামা দূরে থাক বছরে একবার মাংস কিনে খেতে ও পারে নি, কারণ তা পরিবার কর্তার আয়ের বাহিরে। কত সন্তান বাবার কাছে আবদার করে ঈদে কুরবানি দিবে, মাংস খাবে। বাবার উত্তর তো হ্যা বোধক ই হয়। কিন্তু সময়ের সাথে তা ব্যর্থতায় রুপ নেয়।
* আর মধ্যবিত্ত বাবা? আরে তারা তো লজ্জা মানসম্মানের কাছেই হেরে যায়। ভিতরে ভিতরে মরে যাবে তবুও কারো কাছে কষ্ট প্রকাশ করতে চায় না।
* ঈদে আমরা যত বড় গরু কিনতে পারি ততই খুশি ততই গর্বিত মনে করি নিজেকে আমরা। যার গরু যত বড় ততই ছবি তুলি, ফেসবুকে পোস্ট করি, কমেন্ট আসে, লাইকের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এই সাময়িক আনন্দ যে কিছু মানুষ কে অধিক কষ্ট দেয়, তা কি বুঝার চেষ্টা করি? আমাদের মত ওই পরিবার গুলোর সামর্থ নেই যাদের কথা উপরে বলেছি। তারা তো আমাদের এগুলো দেখে কষ্ট পাবে, কারণ আমরা যেমন আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এত বড় কুরবানি করি, তারাও ও তো তাদের সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেরা আলাদা স্বপ্ন দেখে। তো আপনার এসব পোস্ট, লাইক,কমেন্ট দেখে তো ওইসব বাবাদের পূর্ণহীন ব্যর্থ স্বপ্ন গুলোর কথা বার বার তাদের অন্তরে আঘাত করে।
*তাই আমরা সকলে নিজেদের কুরবানির পশুর ছবি সকল সোস্যাল সাইটে পোস্ট, আপলোড করা থেকে বিরত থাকি। সকল মানুষের কষ্ট ভাগ করে নি।
* আর আমরা যারা কুরবানি দিচ্ছি তারা আনন্দ গুলো ভাগাভাগি করে নি সকল মানুষের সাথে, শিশুদের সাথে, পরিবার আত্নীয়দের সাথে। পৌছে দি কুরবানির কিছু অংশ ওই সকল পরিবারে যারা লজ্জা ও মানসম্মানের কাছে হেরে যায়।
অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা সকল কে ঈদ মোবারক ( তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকুম )
📝 আবদুস সামাদ ( ছোট্ট লেখক )

Comments
Post a Comment