Skip to main content

স্রেফ মজা করার জন্য একজন মানুষের প্রাণ...

 


বিয়ের পর প্রথমবার মালিহা মাহবুব'কে নিয়ে গ্রামে যাই কুরবানির ঈদের জন্য। সুন্দরমতো ঈদ করে গত ১১ জুলাই ঢাকায় ফিরছিলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ হওয়ায় স্বভাবতই আমাদের প্রধান যানবাহন একমাত্র ট্রেন।

মহানগর গোধুলির 'ট' বগিতে ছিলাম আমি আর মালিহা, ১৫ এবং ১৬ নাম্বার সিটে। মেঘনা ব্রিজ পার হবার পর ভৈরব স্টেশনের একটু আগে আমার ছোটভাই আমাকে ফোন দেয় খোজ নেবার জন্য। ওর সাথে কথা বলতে বলতে, হুট করে মালিহা জোরে, 'রাব্বী' বলে ডাক দিয়ে উঠে। মোবাইল কানে নিয়েই মালিহার দিকে তাকিয়ে দিকে, চোখের এক ইঞ্চি উপরের দিকে প্রচন্ড ব্লিডিং হচ্ছে। কপাল, চোখ, গাল রক্তে ভিজে গেছে৷ এবং প্রায় এক আঙ্গুল সমান মাংসপিণ্ড নেই। জায়গাটায় গর্ত হয়ে আছে। কোনো এক আশরাফুল মাখলুকাত বাইরে থেকে পাথর ছুড়ে মারছে, এবং পাথরটা এসে লাগে মালিহার চোখের উপরের জায়গাটায়। মূহুর্তের মধ্যে আমার পুরো দুনিয়াটাই অন্ধকার হয়ে যায়, ট্রেনের এক ভদ্রলোক একটা পরিষ্কার স্যান্ডো গেঞ্জি দেয় এবং মালিহার ওড়না পেচিয়ে ভৈরব স্টেশনে নেমে যাই। স্টেশনের আশেপাশেই ভৈরব মেডিকেল এবং পদ্মা মেডিকেল বলে দুইটা নামেমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও ঈদের কারণে তাদের কোনো লোক নেই! বিধি বাম! মালিহাকে নিয়ে ভৈরব থেকে রওনা দেই কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উদ্দ্যেশ্যে। সিএনজি ড্রাইভার বাইকের স্পিডে সিএনজি চালিয়ে নিয়ে যায় বাজিতপুর। সেখানকার ইমার্জেন্সি হয়ে, কেবিন হয়ে অপারেশন থিয়েটারে! I have passed the longest 1 hour 38 minutes in the B - Block of JIMCH's Post Operative Ward's Corridor. মালিহার চোখের উপরের অংশের হাড় ফেটে যায়। সারারাত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে কাটিয়ে গতকাল দুপুরে এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ফিরে আসি। আপনারা সবাই মালিহা'র জন্য দোয়া করবেন। এই পোস্টের উদ্দ্যেশ্য, ট্রেনে আমরা যারা যাতায়াত করি সবারই জানালার পাশের সিট খুব পছন্দ। সবচেয়ে সেফ যানবাহন হিসেবে ট্রেন পরিচিত হলেও, ট্রেন আর সেফ না। এক্সিডেন্টের ভয় না, কিছু আশরাফুল মাখলূকাতের ভয়, যারা স্রেফ মজা করার জন্য একজন মানুষের প্রাণ নিয়ে নেয়৷ সবাই দয়া করে সাবধানে থাকবেন, এরকম ঘটনার মুখোমুখি যাতে কাউকে না হতে হয়। 💔 সবাই দোয়া করবেন মালিহার জন্য!💔 লিখা: তারেক রহমান রাব্বী💔

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...