Skip to main content

অন্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা


 কিভাবে একজন মুসলিম তার অন্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা দুনিয়ার অন্য সবকিছু থেকে বেশি বাড়াতে পারে? আলহামদুলিল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার তীব্রতা ব্যক্তির ঈমানের ওপর নির্ভর করে। ব্যক্তির ঈমান বৃদ্ধি পেলে তাঁর প্রতি ভালোবাসাও বেড়ে যায়। কারণ তাঁর প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে- নেককাজ ও আল্লাহ্‌র নৈকট্য। ইসলামী শরিয়তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা ফরয। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।”[সহিহ বুখারী (১৫) ও সহিহ মুসলিম (৪৪)] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে:

এক: তিনি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রেরিত। সমস্ত মানুষের কাছে আল্লাহ্‌র দ্বীন বা ধর্ম পৌঁছে দেয়ার জন্য বিশ্ববাসীর মধ্য থেকে আল্লাহ্‌ তাঁকে মনোনীত করেছেন। আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁকে ভালোবাসেন বিধায় ও তাঁর প্রতি রাজি থাকায় তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। যদি আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট না হতেন তাহলে তাঁকে মনোনীত করতেন না। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, আল্লাহ্‌ যাকে ভালোবাসেন তাঁকে ভালোবাসা এবং আল্লাহ্‌ যার প্রতি সন্তুষ্ট তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া এবং জানা উচিত, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ্‌ তাআলার ‘খলিল’। কেউ ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছলে বলা হয় খলিল। জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা যাওয়ার পাঁচদিন পূর্বে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আমার কোন খলিল থাকা থেকে আমি আল্লাহ্‌র কাছে নিজের অবমুক্ততা ঘোষণা করছি। কারণ আল্লাহ্‌ তাআলাই আমাকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যদি আমি আমার উম্মতের মধ্যে কাউকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবু বকরকে গ্রহণ করতাম।”[সহিহ মুসলিম (৫৩২)] দুই: আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁকে যে মর্যাদায় ভূষিত করেছেন আমাদেরকে তাঁর সে মর্যাদা জানা এবং আরও জানা যে, তিনি হচ্ছেন— শ্রেষ্ঠ মানুষ। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন আমি হব বনী আদমের নেতা। আমার কবর প্রথম উন্মুক্ত করা হবে, আমিই হব প্রথম সুপারিশকারী ব্যক্তি এবং প্রথম যার সুপারিশ গৃহীত হবে”[সহিহ মুসলিম (২২৭৮)] তিন: আমাদেরকে আরও জানতে হবে যে, আমাদের কাছে দ্বীন পৌঁছানোর জন্য তিনি নানা কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করেছেন। যার ফলে দ্বীন আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমাদের আরও জানা কর্তব্য যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁকে পেটানো হয়েছে, গালমন্দ করা হয়েছে, গালি দেয়া হয়েছে, কাছের লোকজনও তাঁর থেকে দূরে সরে গেছেন, তাঁকে পাগল, মিথ্যাবাদী, যাদুকর ইত্যাদি অভিধা দেয়া হয়েছে। তিনি কাফেরদের সাথে লড়াই করেছেন; যাতে করে দ্বীন রক্ষা পায় এবং আমাদের কাছে দ্বীন পৌঁছে। কাফেরেরা তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং তাঁকে নিজ পরিবার, সম্পদ ও দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক জোট তৈরী করা হয়েছে। চার: তাঁকে তীব্র ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাঁর সাহাবায়ে কেরামের অনুকরণ করা। সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে নিজ সম্পদ ও সন্তানের চেয়ে; বরং নিজেদের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। আসুন এ রকম কিছু নমুনা জানি: আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “একবার আমি দেখেছি নাপিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুল ফেলছে; আর সাহাবীরা তাঁর চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে; যেন একটা চুল পড়লেও সেটা কারো একজনের হাতে পড়ে।”[সহিহ মুসলিম (২৩২৫)] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “ওহুদ যুদ্ধের এক পর্যায়ে সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তখন আবু তালহা (রাঃ) ঢাল হাতে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্মুখে প্রাচীরের ন্যায় অটল হয়ে দাঁড়ালেন। আবু তালহা (রাঃ) সুদক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। অনবরত তীর ছুড়তে থাকায় তাঁর হাতে দুই বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে যায়। সে সময় তীর ভর্তি শরাধার নিয়ে যে কেউ তাঁর নিকট দিয়ে যেতো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই বলতেন, তোমার তীরগুলো বের করে আবু তালহাকে দাও। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঁচু করে শত্রুদের অবস্থা অবলোকন করতে চাইলে আবু তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আপনি মাথা উঁচু করবেন না। মাথা উঁচু করলে শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার বক্ষ যেন (ঢাল স্বরূপ) আপনার বক্ষের সামনে থাকে।...”[সহিহ বুখারী (৩৬০০) ও সহিহ মুসলিম (১৮১১)] পাঁচ: তাঁর সুন্নতের অনুসরণ করা; সেটা তাঁর কথা হোক কিংবা কাজ। রাসূলের সুন্নত যেন হয় আপনার জীবনাদর্শ। সারা জীবন তাঁর সুন্নত অনুসারে চলবেন। তাঁর কথাকে সকল কথার উপর প্রাধান্য দিবেন, তাঁর নির্দেশকে সকল নির্দেশের উপর প্রাধান্য দিবেন। এছাড়া আপনি তাঁর সাহাবায়ে কেরাম যে আকিদা পোষণ করত সে আকিদা পোষণ করবেন, এরপর তাবেয়িগণ যে আকিদা পোষণ করত সে আকিদা পোষণ করবেন, তাঁদের পর আজ অবধি যারা তাঁদেরকে যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন তথা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত; তাদের আকিদা পোষণ করবেন। বিদআতের অনুসরণ করবেন না; বিশেষত রাফেযিদের অনুসরণ করবেন না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে রাফেযিরা কঠোর হৃদয়ের অধিকারী। রাফেযিরা তাদের ইমামগণকে তাঁর উপরে প্রাধান্য দেয় এবং ইমামদেরকে তাঁর চেয়ে বেশি ভালোবাসে। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর রাসূলের ভালোবাসা দান করেন, আমাদের কাছে তাঁকে সন্তানসন্ততি, পিতামাতা, পরিবার-পরিজন ও নিজেদের জানের চেয়ে বেশি প্রিয় করে দেন।

❖ জান্নাতের অধিকাংশ অধিবাসী কারা হবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ গরীব মানুষ। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন, 'আমি জান্নাতের অধিবাসী সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। আমি জানতে পারলাম, জান্নাতে অধিকাংশ অধিবাসী হবে গরীব লোক। জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত হয়েছি, আমি জানতে পারলাম, এর অধিকাংশ অধিবাসী মহিলা বা নারী বা মেয়ে মানুষ। [সহীহ বুখারী,হাদিস নং- ৩০১৪]

৭ ধরণের মানুষের জন্য স্বয়ং ফেরেশতারা দোয়া করেনঃ আসুন জেনে নেই তারা কারা? ১। ওযূ অবস্থায় ঘুমানো ব্যক্তিঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (ওজূ অবস্থায়) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথেই আল্লাহতালার সমীপে ফেরেশতাটি প্রার্থনায় বলে থাকে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছিল।" (আল ইহসান ফি তাকরির সহীহ ইবনে হিব্বান ৩/৩২৮-৩২৯) ২। সালাতের জন্য মসজিদে অপেক্ষারত ব্যক্তিঃ আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যখন ওযূ অবস্থায় সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে সে যেন সালাতেই রত। তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি দয়া করো।" (সহীহ মুসলিম ৬১৯) ৩। প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীঃ বারা' (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, "প্রথম কাতারের নামাযীদেরকে নিশ্চয়ই আল্লাহতালা ক্ষমা করেন ও ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।" (সহীহ ইবনে হিব্বান) ৪। রাসূল (সাঃ) এর প্রতি দুরূদ পাঠকারীঃ "যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহতালা তার ওপর সত্তর বার দয়া করেন ও তার ফেরেশতারা তার জন্য সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতএব বান্দারা অল্প দুরূদ পাঠ করুক বা অধিক দুরূদ পাঠ করুক (এটা তার ব্যাপার)।" (সহীহ ইবনে হিব্বান) ৫। রোগী পরিদর্শনকারীঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোন মুসলিম তার অপর মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহতালা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।" (সহীহ ইবনে হিব্বান ২৯৫৮) ৬। মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়াকারীঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমীন অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনুরূপ। " (তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে আল্লাহ তোমাকেও তাই দান করুন।) (সহীহ মুসলিম ৮৮) ৭। কল্যাণের পথে দানকারীঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "প্রতিদিন সকালে দু'জন ফেরেশতা অবতরণ করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদকে বিনাশ করে দাও।" (বুখারী ১৪৪২) আল্লাহ আমাদেরকে আমলগুলো পরিপূর্ণভাবে করার তৌফিক দাণ করুক। আমিন।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...