রহিম ভাই ঢাবির ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডি করছেন। তিনি পড়াশোনায় বেশ ভাল। বিভাগে ৫ম হয়েছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতা করবেন। যোগ দিলেন কাদমজি প্রাইমারী স্কুলে। একদম গ্রামে। তবে বেতন বেশ ভালো। ৪০ হাজার টাকা। পিএইচডি শেষ হলে ৭০ হাজার টাকা পাবেন মাসে। সারাদিন ক্লাশ নেন, বিকেলে আড্ডা, রাতে নিজের পড়াশুনা। তার কলিগ ১৭ জন যাদের ৪ জনের পিএইচডি আছে। সবাই জম্পেশ আড্ডা দেয়। তারা সবাই জয়েন করেছেন ৩ বছর আগে। স্কুলে হঠাত পরিবর্তন। ছেলে মেয়েরা পড়াশুনো করছে। তাদের বেসিক খুব ভাল ভাবে গড়ে উঠছে। স্কুলে স্যাররা সবাই মিলে থাকে পাশের কমপ্লেক্স এ। স্কুল মাঠে বাচ্চারা খেলে। স্কুলে ইংরেজি পড়ান রহিম স্যার। তিনি ক্লাসের বাইরের পড়াই পড়ান বেশি। বাচ্চাদের ইংরেজি সিনেমা, কার্টুন দেখান। এই পলিসি বেশ কাজে দিচ্ছে। ছেলেরা ইংরেজিতে কথা বলছে। অন্যান্য বিষয়ে ভাল করছে। ১০ বছর পর। কাদমজি স্কুলের ২ জন ছাত্র এম আই টি তে চান্স পায়। ১ জন অক্সফোর্ড এ। ২০ জন ঢাবি তে। চারজন বুয়েটে। ১২ জন মেডিকেলে। ৪০ জনের ব্যাচের বাকি ৫জন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। আবার ১০ বছর পর। ১০ জন ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক হয়, ৩ জন বিসিএস ক্যাডার, ১০ জন উদ্দোক্তা, ১০ জন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার। ৫ জন এন জিও কর্মী, ৩ জন জাতিসংঘ এর বিভিন্ন অর্গান এ। ২ জন রাজনীতিবিদ। রহিম স্যারের আজ বয়স হয়েছে। তার ছেলেও গ্রামের একই প্রাইমারি স্কুলে পড়ে গুগলে কাজ করছে। এগুলো আমার স্বপ্ন। এদেশে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই কথা বলে। কিন্তু কেউ বলে না প্রাইমারি শিক্ষার কথা। প্রাইমারি শিক্ষার উন্নতি না হলে উচ্চ শিক্ষার মান বাড়বে না। আমি এইদিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন ঢাবির কোন ছেলে প্রাইমারি স্কুলে চাকরী করলে তাকে শুনতে হবে না " অন্য চাকরী পায় নাই, তাই প্রাইমারীতে আইছে।" গ্যারান্টি দিচ্ছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে কাজ করুন, মানব সম্পদ এমনিতে তৈরি হবে। লেখাটি লিখেছেন: দিদার স্যার লেকচারার, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments
Post a Comment