Skip to main content

বাংলাদেশে ইসলামের নীরব বি*প্লব


 ইসলাম হচ্ছে চলমান সমস্যা ও সংকটে বাস্তবসম্মত সমাধানের নাম। এ সমাধান আমরা জাতির সামনে যতো বেশি হাজির করতে পারবো, ততোই মানুষ ইসলামের প্রতি ঝুঁকবে এবং সেটা হচ্ছেও আলহামদুলিল্লাহ।

আমার দৃষ্টিতে ইতিমধ্যে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে ইসলামের নীরব বি*প্লব ঘটে গিয়েছে। সাধারণ লোকদের ইসলামকে জেনে-বুঝে মানার চেষ্টা, আরবি ভাষা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ, ইসলামিক কন্টেন্টের সহজলভ্যতা, বাংলা ভাষায় আরব বিশ্বের স্কলারদের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর সরল অনুবাদ, মৌলিক ইসলামি সাহিত্য রচনা, ইসলামি বইমেলাগুলোতে উপচেপড়া ভিড়, তাফসির মাহফিলগুলোতে বিপুল জনস্রোত, সুস্থধারার ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার টিভি শো ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এবং হাল আমলের তরুণ-তরুণীদের ইসলামের প্রতি বিশেষ আকর্ষণবোধ ইত্যাদি সব একাকার হয়ে বাংলাদেশে একটি সফট ইস*লামিক রেভোলুশন হয়ে গিয়েছে। আর এটাই সেকু সমাজের গাত্রদাহের প্রধান কারণ। জ*ঙ্গী, জি*হাদী, দেশ বি*রোধী, স্বাধীনতা বি*রোধী ইত্যাদি বলে যে ট্যাগিং কালচার চালু করা হয়েছে, এগুলো মানুষ আর আগের মতো গিলছে না। ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দ্বীন ও ধর্মকে আলাদা করার প্রজেক্ট ইতিমধ্যেই লস প্রজেক্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে। জনসাধারণের মাঝে ইসলামকে সঠিকভাবে জানার এবং প্র্যাকটিস করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এখন আমাদের কাজ হলো ইসলামের প্রকৃত রূপ ও সৌন্দর্য মানুষের কাছে যৌক্তিকভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা প্রচার ও প্রসারে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রকল্পে মনোনিবেশ করা। ইসলামি শারিয়ার প্রাণসত্তাকে জনপরিসরে যৌক্তিকভাবে হৃদয়ে ধারণ করাতে মানুষকে বোঝাতে হবে যে— ইসলামের পরিধি অনেক ব্যাপক। যেকোনো কিছুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে একোমোডেট করার ক্ষমতা ইসলামের আছে। ইসলামের বিধান সর্বসময় ও সর্বকালের উপযোগী, গতিশীল এবং দুনিয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বহমান। মানুষকে আরো বোঝাতে হবে— জি*হাদ হল মজলুমকে উদ্ধার করার মিশন। ইস*লামি আইনগুলো তুলনামূলক বেশি মানবিক। ইসলামি লাইফস্টাইল মানেই স্মার্টনেস, সুস্বাস্থ্য, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি। শিক্ষা, উন্নয়ন, বিনোদনসহ কোন কিছুতেই ইসলাম বাধ সাধে না বরং ইসলাম সকল ক্ষতিকর, অকল্যাণকর বা হারাম বিষয়ের বিকল্প ব্যবস্থা হাজির করে। ইসলামের এই অল্টারনেটিভ ডাইমেনশনকে আমরা যতো জনপ্রিয় করে তুলতে পারবো ততোই সেটা ধীরে ধীরে মানুষের মনে শেকড় গেড়ে জায়গা করে নিবে।

পরিশেষে বলব, কিছু ইনফ্লুয়েনশিয়াল আলেমদের লিস্ট করে, তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে, মিথ্যা অভিযোগ তুলে কৌশলে জনগণকে ইসলাম থেকে দূরে সরানো যাবে না। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-র বাণী স্বমহিমায় সদা সমুজ্জ্বল থাকবে ইনশাআল্লাহ। কারণ, এ কালিমা নামক বৃক্ষের গোড়া মাটির গভীরে, আর শাখা-প্রশাখা আল্লাহর আরশে। এ বৃক্ষ উপড়ে ফেলা এতো সোজা না!

******************************************************

সাবধান! স্পষ্ট হারাম কাজে জড়িত হয়ে আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করা এবং সাহায্য প্রার্থনা করা এটা আর একটি জাহেলি এবং হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত। কত বড় জাহেল হলে কেউ একজন এমন স্পষ্ট হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং তওবা করার পরিবর্তে, আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে পারে বরং সেই হারাম কাজে লিপ্ত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক। এমন কিছু জাহেলিয়াতের উদাহরণ নীচে দেয়া হলো। ইনশাআল্লাহ।

১! আলহামদুলিল্লাহ! আমার মেয়ে বাংলাদেশী আইডলে চান্স পেয়েছে। ২! "ইনশাআল্লাহ এবার ব্যাংকের জব হয়ে যাবে।" অথবা ভাই দুয়া করবেন ব্যাংক থেকে এবার লোনটা যেন হয়ে যায়। ৩! মাশাআল্লাহ আন্টি আপনার "মেয়ে তো দারুণ নাচতে জানে"। ৪! হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ "স্কুলের ডান্স প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হয়েছে"। ৫! এক ছেলে কলিকের স্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ভাবী, আর বইলেন না আপনি যে সুন্দর মাশাআল্লাহ। ৬! ইনশাআল্লাহ এইবার যদি আর্জেন্টিনা ওয়াল্ড কাপ জিতে আমি নামাজ পড়া শুরু করব। ৭! মাশাআল্লাহ আপনার ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান দারুণ হয়েছিল - যা ডান্স করেছি জোয়ান বুড়ো সবাই। হ্যা দোয়া করবেন যেন দ্বিতীয় ছেলের বিয়েটাও এমন করে পালন করতে পারি। ৮! ছেলে-মেয়ে মিক্স ফ্রেন্ড সার্কেলকে উদ্দেশ্য করে, আলহামদুলিল্লাহ আমার ফ্রেন্ডসরা খুব হেল্প ফুল। ৯! মাশাআল্লাহ তোমাকে তো এমনিতেই সুন্দর দেখায়, দাড়ি রাখবে কেন? ১০! মাশাআল্লাহ আমার মেয়েটা এত সুন্দরী যে সব মানুষ ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। ১১! এক আঙ্কেল আমাকে বললেন, "শুনেছ অমুক ভাইয়ের ছেলের তো আল্লাহর রহমতে খ্রিস্টান মিশনারিতে চাকুরি হয়ে গেল, গাড়ি এসে তাকে নিয়ে যায়!

collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...