"#রাগী_মানুষের_মন_ভালো_হয়" কথাটা খুবই বাজে একটা কথা। এবং এই জঘন্য কথা দিয়ে রাগকে গ্লোরিফাই করা বন্ধ হওয়া উচিত।রাগ ভালো কোন জিনিস না। রাগের সাথে মনের কোনো সম্পর্কও নাই। বরং রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য মানুষ জানোয়ারের চেয়েও খারাপ। এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে বললেন, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন, “তুমি রাগ করো না। ওই ব্যক্তি কয়েকবার তা বললেন। নবীজি (সা.) প্রতিবারই বললেন, “রাগ করো না(বুখারি, খণ্ড: ৮, অধ্যায়: ৭৩, হাদিস: ১৩৭) এ ছাড়া নবীজি (সা.)-এর জীবন থেকে এমন অসংখ্য ঘটনা আমরা দেখতে পাই, যেগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি, যখন রাগ আমাদের গ্রাস করতে চায় কিংবা আমরা রাগান্বিত অবস্থায় থাকি, তখন আমাদের কী করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, যদি তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তবে তার উচিত বসে পড়া। যদি তার রাগ কমে যায়, তবে ভালো; নয়তো তার উচিত শুয়ে পড়া। (তিরমিজি) ধারণা করি, "রাগী মানুষের মন ভালো হয়" কথাটার প্রচলন করা হয়েছিলো ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সকে জাস্টিফাই করার জন্য। মানুষ কোন কাজ করার পর নিজের কুকর্মের দায় তারা চাপায় রাগের উপর।আবার সাধারণত নির্যাতিত হওয়ার পরে ঘরের বৌ বা ছেলে মেয়ের জবাব এমন হয়, আমার বাবার রাগটা একটু বেশি, কিন্তু মনটা কিন্তু অনেক ভালো। রাগের মাথায় বৌ পেটানো, বাচ্চা পেটানো, ছাত্র ছাত্রী পেটানো, এমনকি রাগের মাথায় তিন ত্বালাক দেওয়া, এই "রাগের" দোহাই দিয়ে কোন কাজটি করতে বাকি রাখি আমরা? আপনার বাপ হোক আর দাদা হোক বা ভাই -বোন বা প্রিয়জন রাগী যেই হোক না কেন, তাকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, রাগ একটা খারাপ জিনিস, বাজে জিনিস। এটা ভালো মানুষের গুণ না। নিজের চেষ্টায়, পরিবারের চেষ্টায় বা সাইকিয়াট্রিস্ট এর সাহায্য নিয়ে রাগ কমিয়ে ফেলা যায়। রাগের মাথায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলাও একটা মানসিক অসুস্থতা। একটা মানসিক অসুস্থতাকে সুন্দর মনের দোহাই দিয়ে গ্লোরিফাই করা বন্ধ করেন। (সংগৃহীত)

Comments
Post a Comment