কথায় আছে, প্রিভেনশান ইজ বেটার দ্যান কিওর। আসুন জেনে নেই ক্যান্সার প্রতিরোধে আমাদের কী কী করণীয়ঃ ১। যত দ্রুত সম্ভব সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। এমনকি প্যাসিভ স্মোকিংও যথেষ্ট ক্ষতিকর। তাই, আপনার কাছের মানুষদেরও সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে খুব কম অঙ্গই আছে যেটির ক্যান্সারের সাথে স্মোকিংয়ের সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে পুরুষদের সবচেয়ে বেশি হয় ফুসফুসের ক্যান্সার। যা স্মোকিংয়ের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এছাড়াও, স্মোকিং মুখ, ঠোঁট, নাক, সাইনাস, স্বরতন্ত্র, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কিডনী, মূত্রথলী, গর্ভাশয়, জরায়ুমুখ, কোলন, মলাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি ক্যান্সারেরও কারণ। ২। মদ্যপান করা যাবে না। কারণ এটি মুখ, গলা, লিভারের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। ৩। যারা বেশি স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী, তাদের ওজন কমাতে হবে। নাহলে স্তন, বৃহদান্ত্র বা মলাশয়ের ক্যান্সার হতে পারে। ৪। রোদে গেলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নি ত্বকের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। ৫। স্তন, কোলন, মলাশয়, প্রোস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া। তাই, চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে ফেলতে হবে। ৬। প্রচুর পরিমাণে ফ্রেশ ফলমূল ও শাক-সবজি খেতে হবে। এসবে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ৭। নিয়মিতভাবে সারভাইকাল স্মিয়ার টেস্ট করতে হবে (জরায়ুমুখের একটা পরীক্ষা)। বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় জরায়ুমুখের ক্যান্সারে। যাদের একের অধিক সেক্সুয়াল পার্টনার থাকে, খুব ঘনঘন বাচ্চা জন্ম দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, জন্মনিরোধক পিল সেবন করে তাদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ৮। প্রতি মাসে একবার স্তন পরীক্ষা করতে হবে, যেটা নিজে নিজেও করা সম্ভব। যাকে বলা হচ্ছে Breast Self Exam (BSE)। সারা বিশ্বে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি নারী আক্রান্ত হয় স্তন ক্যান্সারে। যাদের পরিবারে অন্য কারো স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তুলনামূলক কম বয়সে মাসিক শুরু হয় এবং বেশি বয়সে মাসিক বন্ধ হয়, যাদের বাচ্চা নেই, বেশি বয়সে প্রথম বাচ্চা নেয়, বুকের দুধ বাচ্চাকে কম পান করায় ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খায় তাদের স্তন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বেশি থাকে।

Comments
Post a Comment