ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর ম্যানেজমেন্ট অফ হাইপারটেনশান ইন বাংলাদেশ জানাচ্ছে:
১. সারা বিশ্বজুড়ে ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভোগে উচ্চ রক্তচাপে। ২. স্ট্রোক এবং হৃদপিণ্ডের অসুখের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় উচ্চ রক্তচাপ। ৩. ৬৪ শতাংশ স্ট্রোক এবং ৪৯ শতাংশ করোনারি হৃদপিণ্ডের অসুখের সাথে পাওয়া গেছে এর সম্পৃক্ততা। ৪. আমাদের এই বাংলাদেশে ১১-১৮% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং ৪০-৬৫% বৃদ্ধ মানুষ ভোগে এ রোগে। ৫. উচ্চ রক্তচাপের ভালো চিকিৎসার সহজলভ্যতা থাকা সত্ত্বেও সারা পৃথিবীজুড়েই এর নিয়ন্ত্রণের হার অত্যন্ত কম। ৭. প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩২.৯%) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কখনও তাদের রক্তচাপ পরিমাপ করেননি। ৮. উচ্চ রক্তচাপের মাত্র অর্ধেক রোগী (৫২.৯%) ওষুধ সেবন করেন। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশান কী? রক্তচাপ হচ্ছে রক্তনালীর ওপর রক্তের প্রদেয় চাপ। স্বাভাবিকভাবে সমস্ত দিনে বিভিন্ন সময়ে রক্তচাপ বাড়তে বা কমতে পারে। যখন এই রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। সব বয়সের লোকেরই উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লোক জানেই না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনযাপনের পরিবর্তন অথবা প্রয়োজনভেদে ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রক্তচাপ মাপার সময় প্রথম বা উপরের পরিমাপকে সিস্টোলিক (Systolic) এবং শেষ বা নিচের পরিমাপকে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) ব্লাড প্রেশার বলা হয়। পূর্ণ বয়স্কদের ক্ষেত্রে সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ মিমি মার্কারি বা তার উপরে এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিমি মার্কারি বা তার উপরে হলে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়ে থাকে। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১২০ মিমি মার্কারির কম এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৮০ মিমি মার্কারির কম রাখাই কাম্য। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১২০- ১৩৯ মার্কারি এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৮০-৯০ মিমি মার্কারি হলে, এই গ্রুপের রোগীদের পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ হবার সম্ভাবনা বেশি। যদিও সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক দুটো ভিন্ন রকমের রক্তচাপ, তবুও যেকোনো একটির বৃদ্ধিকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়। যেমন: কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে সিস্টোলিক উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপের রোগী নির্ণয়ের আগে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে দুই বা তার বেশিবার উচ্চ রক্তচাপ পাওয়া বাঞ্চনীয়।collected
Comments
Post a Comment