Skip to main content

স্কুল কলেজগুলোতে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা

 


আমাদের দেশে স্কুল কলেজগুলোতে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আপনার ছেলে-মেয়েরা কি অশিক্ষা কুশিক্ষা গ্রহণ করছে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

(১) “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” – এমন কুফুরী বাক্য শিখানোর দ্বারা তাওহীদের চেতনাকে নষ্ট করে শিরকের প্রতি দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। মুশরিকদের পূজা-পার্বণ উপলক্ষ্যে মুসলমানদেরকে উৎসব করার জন্য দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে।

(২) “অধিক সন্তান নেওয়া একটা সমস্যা। জন্ম নিয়ন্ত্রন না করার কারণে দেশ দরিদ্র হচ্ছে” – এমন কথা-বার্তা দ্বারা আল্লাহ তাআ’লা এই বিশ্ব জাহানের প্রতিটা জীবের পালনকর্তা, রিযিক্বদাতা; এই বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।

(৩) বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে “Evolution বা বিবর্তনবাদ” নামক নাস্তিকতা ও কুফুরী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

(৪) “সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ” – এই কথা বলে গণতন্ত্র নামক ইসলাম বিরোধী মতবাদে দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। 

(৫) প্রাইমারী স্কুল থেকেই মুসলানদের সন্তানদেরকে সুদের মতো ধ্বংসাত্মক গুনাহর হিসাব কিভাবে করতে হয় সেই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

(৬) নারী ও পুরুষের সহশিক্ষা কার্যক্রম দ্বারা নারীদের পর্দাহীনতা, নারী-পুরুষের অবাধ দেখা-সাক্ষাৎ, উঠা-বসা, অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা, জেনা-ব্যভিচার, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার দরজা উন্মুক্ত করা হয়েছে।

(৭) জাতীয় পতাকাকে স্যালুট, জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকা পবিত্র কাজ এবং অবশ্য পালনীয় বলে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অথচ, ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অনুকরণে পতাকাকে স্যালুট করা, জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় দাঁড়ানো নিকৃষ্ট বিদআ’ত।

(৮)  বিভিন্ন দিবস উদযাপন বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নাজায়েজ গান-বাজনা, গল্প-কবিতা নৃত্য বা কৌতুকের তালীম দেওয়া হচ্ছে। 

(৯) ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, মহামারী ইত্যাদি বিপদ-আপদকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হচ্ছে। অথচ, এইগুলো হচ্ছে আল্লাহর আজাব।

(১০) পিকনিক, স্টাডি ট্যুর উপলক্ষ্যে মাহরাম ছাড়া মেয়েদের অরক্ষিত অবস্থায় দূর-দূরান্তে সফর করানো হচ্ছে।

(১১) ভাগ্য বলতে কিছু নেই, মানুষ নিজেই তার ভাগ্যের নিয়ন্ত্রনকারী। Man is the architect of his own fate. এমন নাস্তিকতার তালিম দেওয়া হচ্ছে।

(১২) আপনার মেয়ে হিজাব পড়ে পরীক্ষা দিতে গেলে বা কাজের ডিউটিতে কোন দুশ্চরিত্রবান শিক্ষক বা সুপারভাইজার নিয়মের অযুহাতে পুরুষদের সামনে নিকাব বা হিজাব খুলতে বাধ্য করছে। আপনার মেয়ের হিজাব ধরে টানাটানি করছে (০৯/০২/১৯ এর ঘটনা, কিশোরী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট)। 

(১৩) ক্লাসরুমে টীচার বা অফিসে স্যার প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

(১৪) কাফির, মুশরিক, নাস্তিক লেখক ও সাহিত্যিকদের জীবনী ও কর্ম মুখস্থ করানো হচ্ছে।

(১৫) অবৈধ প্রেম এমনকি পরকীয়া প্রেমের গল্প, উপন্যাস ও কবিতা পড়ানো হচ্ছে।

(১৬) রামায়ন, মহাভারত, মন্দির, গীর্জার গল্প বা কবিতা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

(১৭) শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধ্য করছে। 

(১৮) “ইসলাম শিক্ষা” বইয়ের নাম পরিবর্তন করে “ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা” নাম দেওয়া হয়েছে। যেন ইসলাম শিখলে একজন মানুষের নৈতিক শিক্ষা পূর্ণতা পায়না।

(১৯) পাপাচারী, ধর্মদ্রোহী, নাস্তিক লোকদেরকে সম্মান করতে শিখানো হচ্ছে।

(২০) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর চাইতে কোন  নেতার কর্ম ও চিন্তা-ভাবনাকে জীবন পরিচালনার আদর্শ ও চেতনা হিসেবে দীক্ষা দেওয়া করানো হচ্ছে।


এমন স্কুল কলেজে ১৫-২০ বছর পড়ার পরে আপনার কোন ছেলে/মেয়ে যদি বেনামাযী, মুরতাদ, ড্রাগ এডিক্ট, দুশ্চরিত্র, লম্পট বা বেয়াদব হয়; তাহলে একবার চিন্তা করুন, ইসলাম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে সেকুলার শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে পাপের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য আপনি নিজেই কতটুকু দায়ী? একটু চিন্তা করুন এবং সতর্ক হন।

collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...