Skip to main content

প্যারেন্টিং

 


আমাদের সমাজে বাবা-মার দায়িত্ব হিসেবে মনে করা হয় শুধুমাত্র "ম্যাটেরিয়্যালিস্টিক" ভরণপোষণকে এবং যেখানে সাইকোলজিক্যাল ব্যাপারটি একরূপ অবহেলিত থাকে!

বেশিরভাগ বাবা-মা প্যারেন্টিং বিষয়টিকে দেখেন একটা "পারফেক্ট" সন্তান তৈরির মিশন হিসেবে। সন্তানকে পড়াশুনায় ফার্স্ট হতে হবে, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, তাকে সব কাজ নিখুঁতভাবে করতে হবে! সর্বোপরি আমরা চিন্তা করি "ভুল" নামক কোন জিনিষ সন্তান কখনো করতেই পারবে না! দেখা যায় আমরা যেভাবে বড় হয়েছি সেই অতীতকে ভুলে গিয়ে একই জিনিষের পুনরাবৃত্তি আমরা আমাদের সন্তানের উপর করে যাই। সেটা সন্তানের জন্য কতটুকু কার্যকরী এটা নিয়ে আমরা দুদণ্ড চিন্তাও করিনা! একবারের একটি ঘটনা এমন যে এক মা তার দেড় বছর বয়সী বাচ্চা কতকিছু পারে এটা বোঝাতে অনেক মানুষের সামনে বাচ্চার চোখ কোনটা, কান কোনটা, নাক কোনটা এসব জিজ্ঞাসা করছেন। বাচ্চাটা সবই পারছিল কিন্তু যখন বলা হয় হাত কোনটা সে বারবার পা দেখাচ্ছিল! এটা দেখে মা প্রচণ্ড "অপমানবোধ" করেন এবং সবার সামনে বাচ্চাকে শাসন করেন! তখন আসলে জানতে ইচ্ছা হচ্ছিল ওই বয়সে তিনি কি হাত কে পা মনে করতেন না চোখ দেখিয়ে আরেকটু অন্যরকম ভুল করতেন! সন্তানের ভুলগুলোকে মেনে নিতে শিখুন। সে বিশাল জ্ঞানের ভাণ্ডার নিয়ে দুনিয়াতে আসেনি বরং একটি "সম্ভাবনা" নিয়ে দুনিয়াতে এসেছে যা আপনার একটু সহানুভূতি এবং সহনশীল মানসিকতার ছোঁয়া পেলে আরো বেশি "উজ্জ্বল" হবে! আপনার গুরুতর কিছু ভুল তার এই সম্ভাবনাকে সহজেই নষ্ট করে দিতে পারে! আমরা জোর করে নিজেদের ইচ্ছাকে চাপিয়ে তাদের "ক্যারিয়ার" ঠিক করে দেই। নিজেদের কথা ভাবুন তো আপনি কি ম্যাথ, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি সব বিষয়েই একশোতে একশো? তাহলে যে সন্তান ম্যাথ করতে ভালোবাসে তাকে আপনি ডাক্তার বানানোর "পণ" করেই বসে আছেন! কখনো জানতেও চাননি তার ইচ্ছাটা কী! যে পিতা-মাতা সন্তানের সবকিছু "ডিসাইড" করে দেন তার মতামত না নিয়েই সেসব বাচ্চারা সবথেকে "লো" সেল্ফ এস্টিমে ভোগে! তার মানে হল জীবনের প্রতি পদে তারা আর নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, সব বিষয়ে দ্বিধান্বিত থাকে। এবং তখন আপনিই তাকে প্রশ্ন করেন "এত বড় হয়েও এই সহজ সিদ্ধান্ত নিতে পারছো না?"। আর এভাবেই আমাদের সন্তানদের মানসিক শক্তি সহজেই লোপ পায় যা তাদের বাকি জীবনে প্রতিকুলতা সৃষ্টি করে... তাই এরকম সম্ভাবনাদের নিয়ে কাজ করার তাগিদ থেকেই LifeSpring আয়োজন করে আসছে "Training on Positive Parenting" যেখানে আমরা চেষ্টা করি প্যারেন্টিং এর "ব্রাইটসাইডকে" তুলে আনতে যা নতুন প্রজন্মকে একটি "স্বতঃস্ফূর্ত" জীবন সুনিশ্চিত করবে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...