Skip to main content

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি

 


বর্তমানে ডিপ্রেশন খুবই কমন একটি সমস্যা। ডিপ্রেশনে থাকা ব্যক্তির মনে হয় জীবনের সব শেষ, তার জীবনে ভালো কিছু হবে না। এর ফলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

জেনে নিন কিভাবে এই ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে পারেনঃ ১. নিজের প্রতি নেতিবাচক চিন্তা ও নিজের ক্ষতি করার মানসিকতা পরিবর্তন করুনঃ ডিপ্রেশনের ফলে নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা জন্মে, নিজেকে ছোট মনে করেন। এর ফলে অনেকে নিজের ক্ষতি করতে চান। এই মানসিকতা বহন করলে তা ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়ে, তাই এসব ভাবনা এড়িয়ে চলুন। ২. কাজের মধ্যে থাকুন ও অ্যাকটিভ হনঃ ডিপ্রেশনের ফলে এনার্জি লেভেল অনেক কমে যায়। সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে। এর ফলে কাজ থেকে বিরত থাকলে ডিপ্রেশন আরও জেঁকে বসে। এটি একটি সাইকোলজিকাল ফ্যাক্ট যে, নিজেকে ব্যস্ত রাখলে তা ডিপ্রেশন রোধে সহায়তা করে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে সপ্তাহে ৫ দিন ২০ মিনিট এক্সারসাইজে মানসিক অবস্থা উন্নত হয়। তাই, কর্মরত থাকুন। ৩. প্রিয়জনদের মাঝে থাকুনঃ এই সময়ে একা থাকতে ইচ্ছে হয়। অন্যদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না। কিন্তু এই সময়ে আরও বেশি মানুষের মাঝে থাকা উচিৎ। ডিপ্রেশনে থাকলে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান। তাদের সাথে আপনার পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যেতেও পারেন, এতে আপনার মন ভালো হবে। ৪. ইচ্ছে না করলেও আগের পছন্দের কাজগুলো করুনঃ ডিপ্রেশনে থাকলে পছন্দের জিনিসগুলো করতেও ইচ্ছে করে না, কারণ তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তবে, চেষ্টা করুন সেগুলো করার যেমনঃ রান্না করা, গান শোনা, ছবি আঁকা ইত্যাদি। যেহেতু, আগে এগুলো করতে ভালো লাগতো, এগুলো আবার করলে মন ভালো হতে পারে। ৫. কমেডি টিভি শো, মুভি বা সিরিজ দেখুনঃ আমরা যখন হাসি, মস্তিষ্কে এই মেসেজটি পৌঁছায় যে আমরা খুশি আছি। ভালো কোনো কমেডি মুভি বা শো সাময়িকভাবে মন ভালো করতে পারে। এর ফলে, জীবনে আবারও সুখী হওয়ার প্রেরণা পাওয়া যায়। ৬. থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুনঃ কথা বলা ডিপ্রেশনের সাথে লড়ার একটি ভালো উপায়। মন খুলে কথা বললে ভিতরের জমানো কষ্টগুলো প্রকাশ পেলে কষ্টের উৎস বের করা যায়। যদি রোগের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায় তবে থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। যিনি আমাদেরকে মন খুলে কথা বলতে সাহায্য করবেন এবং একটি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে গাইড করবেন। প্রয়োজনে ঔষধও প্রেসক্রাইব করতে পারেন। -----------
কেউ যখন কোন সাইকিয়াট্রিস্ট বা সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হন নতুবা কোন সাইকোথেরাপি নেন সেক্ষেত্রে আশেপাশের মানুষজন তাকে "মানসিক রোগী" বলতে থাকে, কেউ কেউ "পাগল" বলেও হেসে উড়িয়ে দেন। এই লজ্জা বা ভয় থেকে অনেকেই বিভিন্ন মানসিক জটিলতার মধ্যে থাকলেও সহজে মেন্টাল হেলথ কেয়ার নিতে চান না! আমরা কখনোই আমাদের জীবনের সবদিন একইভাবে পার করতে পারি না। কখনো কখনো সময়ের বাস্তবতাগুলো আমাদের পথ চলাকে থামিয়ে দেয়। কখনো ডিপ্রেশনে থাকি, কখনো মুড ডিসঅর্ডার হয়, আবার কখনো অতিরিক্ত স্ট্রেস এসে ভর করে! আশেপাশে কাউকে বলার সাহস পাই না যদি কেউ না বোঝে? যদি হাসিতামাশা করে? ঠিক এভাবে করেই নিজের মনের যে আর খেয়াল নেওয়া হয় না... ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) "হেলথ" এর কম্পোনেন্টগুলোর মধ্যে মানসিক সাস্থ্যকেও অন্যতম কম্পোনেন্ট হিসেবে গণনা করে। ভেবে দেখুন আপনার শরীর খারাপ হলে আপনি কতটা "কেয়ারফুল" হয়ে যাচ্ছেন! ডাক্তারের উপর ডাক্তার দেখাচ্ছেন কিন্তু একই জিনিষ "মনের" ক্ষেত্রে হয় না! মানসিক সাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কাউকে দেখানো মানেই আপনি মানসিক রোগী নন! প্রথমে এই ধারণাটি নিজের মনে গেঁথে নিন। বরং বিষয়টিকে এভাবে দেখুন আপনি আপনার জীবনের সমস্যাগুলোর "সমাধানের" পথ খুঁজছেন! একজন কাউন্সেলর আপনাকে নিজের নানারকম বিষয় বোঝাতে সাহায্য করবে। আপনার নিজেকে ডিসকভার করাটা আরো সহজ হবে যা আপনাকে প্রবলেম ডিলিং এ হেল্প করবে। আর নিজেকে ভালোভাবে জানার মধ্যে দোষের কিছু নেয়। তাই লোকমুখের ভয় না করে বিষয়টিকে পজিটিভলি দেখুন কারণ দিনশেষে সেই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনি নিজেই কাজ করবেন, খুব বেশি কেউ এখানে এগিয়ে আসতে পারবে না

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...