Skip to main content

আমাদের সমাজে নারী

 


আমাদের সমাজে নারী হয়ে জন্মানোই একটি যুদ্ধের নাম! কেন যুদ্ধ বলছি? এই যুদ্ধ আসলে অন্য কারো সাথে নয়, বরং প্রতিটি নারীর নিজের মনের সাথে, নিজের শক্তির সাথে, সমাজের মানসিকতার সাথে, এবং সবশেষে সেই সবগুলো বিপরীতমুখী টানের সাথে, যা প্রতিনিয়ত নারীদের পিছনে টানছে! যদিও আমাদের মূল ফোকাস থাকে পুরুষের দিকে, তবু বলতে হয় পিছন থেকে টেনে ধরা মানুষগুলো কিন্তু সবসময় শুধুমাত্র পুরুষ সমাজ নয়, বরং অন্যান্য নারী ও কিছু আপনজনও এই দলভুক্ত।

নারী এগিয়ে নাকি পুরুষ এগিয়ে? নারী পুরুষ কি সমান? - এই প্রশ্নগুলোর পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় আমরা প্রত্যেকেই নষ্ট করে দিচ্ছি! কিন্তু কেন এই তুলনা?! যদি জিজ্ঞেস করা হয়, লাল রঙ ভালো নাকি নীল? সাগর যদি লাল হত, আর সূর্য যদি নীল, তবে কেমন লাগতো বলুন? যদি প্রতিটি রঙের আলাদা গুরুত্ব, মহিমা ও কাজ থাকতে পারে, তাহলে মানুষের কেন নয়!? প্রত্যেকেরই নিজস্ব দায়িত্ব, ব্যক্তিগত সত্তা আছে, যার ফলে সে নিজে সুন্দর, হোক তা নারী, পুরুষ, কিংবা তৃতীয় লিঙ্গ! সম্মান, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। মানুষ নিজের প্রতি এই অনুভূতিগুলো প্রদর্শন করলে, বাকিরা সয়ংক্রিয়ভাবেই করবে। নারী হিসাবে, নিজেকে ভালবাসার জন্য কোন কারণ, অর্জন, স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, দরকার নেই কোন নির্দিষ্ট দিবসেরও!

বর্তমান আধুনিকতার যুগে পুরুষদের মত নারীরাও চায় তাদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে, লেখাপড়া শিখতে। কেউই নিজেদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখতে চায় না। আর অবশ্যই যদি নারিরা ইসলামের বিধান লঙ্ঘিত না করে, শতভাগ ইসলামের বিধান মেনে তা করতে পারে, তবে এখেত্রে ইসলাম কখনো নারীদেরকে এই উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বাধা দেয় না বরং এতে উৎসাহিত করে। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, একজন পুরুষের জন্যও বিধান হল, ক্যারিয়ার গঠন করতে গিয়ে যদি আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করতে হয় তখন তাকেও সে পথে থেকে ফিরে আসতে হবে। কেননা, মুমিনের জন্য দুনিয়ার আয়-উন্নতি, সাফল্য ও সমৃদ্ধির চেয়ে আখিরাতের সাফল্য ও মুক্তি বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই, যতক্ষণ পর্যন্ত শরীয়তের সীমা-রেখার মধ্যে থেকে ক্যারিয়ার গঠন, চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য দুনিয়াবি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা যায় ততক্ষণ তাতে ইসলাম কোনভাবেই বাধা দেয় না। সুতরাং একজন নারীও ইচ্ছা করলে নারী অঙ্গন (যেখানে শুধুমাত্র নারীরাই কাজ করে, কোন পুরুষ নয়) এমন পরিবেশে নিজেকে উন্নত করার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করতে পারে। যেখানে তার সম্ভ্রম ও ঈমান রক্ষা করা সম্ভব হয়। মোটকথা, পরপুরুষের সংমিশ্রণ ছাড়া সম্পূর্ণ হিজাব রক্ষা করে একজন মহিলা নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। ইসলাম এতে বাধা দেয় না। তবে খুব গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যে, পরিপূর্ণ পর্দা করে হলেও পুরুষ কাজ করে এমন কোন প্রতিষ্ঠানে কোন নারী কাজ করতে পারবে না। তাই যদি পর্দা রক্ষা করে কাজ করার মত কোন নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া যায়, তাহলে একান্ত বাধ্য না হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত পর্দার ফরয বিধান লঙ্ঘন করার (অর্থাৎ হিজাবকে জলাঞ্জলী দিয়ে পরপুরুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে কাজ করার) কোন সুযোগ ইসলামে নেই। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং জীবিকা ও উপার্জনের বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। কেউ যদি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন যা সে কল্পনা করতে পারে না। যেমনঃ- আল্লাহ তা‘আলা বলেন:‎ “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।” (সূরা তালাক: ৪) তিনি আরও বলেন: “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন ‎যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (সূরা তালাক: ২ ও ৩)‎

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...