একটি রেডিওতে ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন নাইজেরিয়ান বিলিয়নিয়ার ফেমি ওতেদোলা। উপস্থাপক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কি এমন কোনো স্মৃতি আছে, যখন আপনার মনে হয়েছিল আপনি এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ?’- ওতেদোলা উত্তরে বললেন, "আমার জীবনে আমি সুখের খোঁজে চারটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তারপর অবশেষে আমি সত্যিকারের সুখের খোঁজ পেয়েছি। - প্রথম পর্যায় ছিল যত পারা যায় ধনসম্পদ, অর্থখড়ি উপার্জন। কিন্তু সবকিছু অর্জন করেও আমি সুখের দেখা পাইনি। - এরপর দ্বিতীয় পর্যায় ছিল দামি ও বিলাসবহুল জিনিসপত্র কেনা। আমার কাছে মনে হতো এর মাধ্যমে আমি সুখ পাব। একজন মানুষ যা খুশি তাই কিনতে পারছে, আমার কাছে মনে হতো এটাই সুখ। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম দামি ও বিলাসবহুল জিনিসের প্রতি আকর্ষণ, এটাও ক্ষণস্থায়ী। আমি এবারও সুখের দেখা পেলাম না। - এরপর এলো তৃতীয় পর্যায়—বড় বড় প্রজেক্ট নিজের করে নেওয়া। একটা সময় এমন হলো যে, নাইজেরিয়া ও আফ্রিকার ৯৫% ডিজেলের সাপ্লাইয়ার ছিলাম আমি। আফ্রিকা ও এশিয়ায় সবচেয়ে বড় জাহাজ ছিল আমার। কিন্তু এরপরও আমি সুখ পেলাম না। - এই অবস্থায় একদিন আমার এক বন্ধু অনুরোধ করল ২০০ প্রতিবন্ধী বাচ্চার জন্য হুইলচেয়ার কিনে দিতে। - বন্ধুর অনুরোধে আমি তখনই ২০০ হুইলচেয়ার কিনে ফেললাম। কিন্তু আমার বন্ধু বলল আমি নিজেই যেন বাচ্চাদের হাতে হুইলচেয়ারগুলো তুলে দিই। তাই বন্ধুর সাথে আমি সভাস্থলে উপস্থিত হলাম। - আমি গিয়ে বাচ্চাদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দিলাম। হুইলচেয়ার পেয়ে তারা আনন্দের সাথে এখানে ওখানে ছুটাছুটি করতে লাগল। একেকজনের মুখে সে কি অপ্রার্থব হাসি। যেন এর চেয়ে আনন্দের দিন তাদের জীবনে আর আসেনি। - বাচ্চাদের আনন্দ দেখে আমার মনে হচ্ছিল তারা কোনো পিকনিক স্পটে এসেছে, আর সবাই লটারিতে বিশাল অঙ্কের টাকা জিতে নিয়েছে। এসব দেখে নিজের মধ্যে কেমন এক আনন্দ অনুভূত হলো। মনে হলো জীবনে আগের চারটি পর্যায় পার হয়েও, সবকিছু পেয়েও , এতটা আনন্দ কখনও হয়নি। - এরপর যখন আমি অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে যাব হঠাৎ এক বাচ্চা আমার পা জড়িয়ে ধরল। আমি তার কাছ থেকে নিজের পা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু বাচ্চাটি আরও শক্ত করে পা ধরে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। - আমি হাঁটু গেড়ে বসে বাচ্চাটিকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার কি আর কিছু দরকার?’ - জবাবে বাচ্চাটি যা বলল, সেটা শুধু আমাকে আনন্দিতই করেনি, বরং সেদিন থেকে আমার কাছে জীবনের অর্থই পাল্টে গেল। বাচ্চাটি বলেছিল, ‘আমি আপনার চেহারাটা ভালোভাবে মনে রাখতে চাই। যদি জান্নাতে আমাদের দেখা হয় সেদিনও যেন আমি আপনাকে চিনতে পারি আর আজকের এই দিনটির জন্য আরও একবার ধন্যবাদ দিতে পারি।’ - যেদিন আমরা এই পৃথিবীতে থাকব না, মানুষ আমাদের কথা মনে করবে এমন কোনো আমল কি আছে আমাদের? - এমন কেউ কি আছে যে জান্নাতে গিয়েও, সবকিছু আর সবার ভিড়ে আমাদের মুখটা খুঁজে বেড়াবে?❣️
Comments
Post a Comment