একটি স্ত্রী মাকড়সা যখন ডিম দেয়, তখন সে ডিমটি অন্য কোন প্রাণী খেয়ে ফেলার ভয়ে অন্য কোথাও না রেখে নিজের বুকের সাথে আকড়ে ধরে রাখে। সে সময় বাচ্চারা তার মায়ের রক্ত-মাংসগুলো খেয়ে খেয়ে বড় হয় এবং অবশেষে তার "মা" কে শুকনো খোসায় পরিণত করে মৃত দেহটি ফেলে রেখে চলে যায় অন্যত্রে। এটিই হল "মা"। যে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে সন্তানের জন্য। “রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সগিরা" -আমিন।
❖ কোন সেই নামাযী, যে নামাযী হওয়া সত্ত্বেও পবিত্র কুরআনে তার জন্য “অয়েল জাহান্নামের” কথা উল্লেখ করা হয়েছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ উপরের সবগুলোই। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, " অতএব, দুর্ভোগ (অয়েল জাহান্নামের) সেই নামাযীদের জন্য, যারা নিজদের সালাতে অমনোযোগী। যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে" (সূরা আল-মাউন (৩-৪)। ব্যাখ্যাঃ- নামাযে অমনোযোগী বা উদাসীন বলে ঐ সমস্ত লোকদেরকে বোঝানো হয়েছে, যারা মোটেই নাযায পড়ে না অথবা প্রথম দিকে পড়ত অতঃপর তাদের মধ্যে অলসতা এসে পড়েছে অথবা নামায যথাসময়ে আদায় করে না; বরং যখন মন চায় তখন পড়ে নেয় অথবা দেরী করে আদায় করতে অভ্যাসী হয় অথবা বিনয়-নম্রতার (ও একাগ্রতার) সাথে নামায পড়ে না ইত্যাদি। এই সমস্ত প্রকার ত্রুটি ঐ অর্থের শামিল। অতএব নামাযের ব্যাপারে উক্ত সকল আচরণ হতে বাঁচা প্রয়োজন। এখানে এ উল্লেখ করাতে এ কথা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, এ সমস্ত বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত ঐ সব লোকই হতে পারে, যারা আখেরাতের হিসাব ও প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে না। এ জন্যই মুনাফিকদের একটি গুণ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, "যখন তারা (মুনাফিকরা) নামাযে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে, কেবল লোক-দেখানোর জন্য দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে থাকে। (সূরা নিসা ৪:১৪২ আয়াত)
যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে অর্থাৎ, এই শ্রেণীর লোকেদের নিদর্শন এই যে, তারা লোক মাঝে থাকলে নামায পড়ে নেয়; নচেৎ তারা নামায পড়ার প্রয়োজনই বোধ করে না। অর্থাৎ, তারা কেবলমাত্র লোক প্রদর্শন করার জন্যই নামায পড়ে। এটা মুনাফিকদের অবস্থা। তারা লোক দেখানোর জন্যে এবং মুসলিম হওয়ার দাবী সপ্রমাণ করার জন্য সালাত পড়ে। কিন্তু সালাত যে ফরয, এ বিষয়ে তারা বিশ্বাসী নয়। ফলে সময়ের প্রতিও লক্ষ্য রাখে না এবং আসল সালাতেরও খেয়াল রাখে না। লোক দেখানোর জায়গা হলে পড়ে, নতুবা ছেড়ে দেয়। আর সালাত আদায় করলেও এর ওয়াজিবসমূহ, শর্ত ইত্যাদি পূর্ণ করে না। আসল সালাতের প্রতিই ভ্ৰক্ষেপ না করা মুনাফিকদের অভ্যাস এবং ساهون শব্দের আসল অর্থ তাই। সালাতের মধ্যে কিছু ভুল-ভ্ৰান্তি হয়ে যাওয়ার কথা এখানে বোঝানো হয়নি। কেননা, এজন্যে জাহান্নামের শাস্তি হতে পারে না। এটা উদ্দেশ্য হলে عَنْ صَلَاتِحِمْ এর পরিবর্তে فِىْ صَلَا تِهِمْ বলা হত। সহীহ হাদীস সমূহে প্রমাণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনেও একাধিকবার সালাতের মধ্যে ভুলচুক হয়ে গিয়েছিল। [কুরতুবী, ইবন কাসীর]
Comments
Post a Comment