Skip to main content

উন্নত ক্যারিয়ার

 


বর্তমান আধুনিকতার যুগে পুরুষদের মত নারীরাও চায় তাদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে, লেখাপড়া শিখতে। কেউই নিজেদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখতে চায় না। আর অবশ্যই যদি নারিরা ইসলামের বিধান লঙ্ঘিত না করে, শতভাগ ইসলামের বিধান মেনে তা করতে পারে, তবে এখেত্রে ইসলাম কখনো নারীদেরকে এই উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বাধা দেয় না বরং এতে উৎসাহিত করে। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, একজন পুরুষের জন্যও বিধান হল, ক্যারিয়ার গঠন করতে গিয়ে যদি আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করতে হয় তখন তাকেও সে পথে থেকে ফিরে আসতে হবে। কেননা, মুমিনের জন্য দুনিয়ার আয়-উন্নতি, সাফল্য ও সমৃদ্ধির চেয়ে আখিরাতের সাফল্য ও মুক্তি বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

তাই, যতক্ষণ পর্যন্ত শরীয়তের সীমা-রেখার মধ্যে থেকে ক্যারিয়ার গঠন, চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য দুনিয়াবি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা যায় ততক্ষণ তাতে ইসলাম কোনভাবেই বাধা দেয় না। সুতরাং একজন নারীও ইচ্ছা করলে নারী অঙ্গন (যেখানে শুধুমাত্র নারীরাই কাজ করে, কোন পুরুষ নয়) এমন পরিবেশে নিজেকে উন্নত করার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করতে পারে। যেখানে তার সম্ভ্রম ও ঈমান রক্ষা করা সম্ভব হয়। মোটকথা, পরপুরুষের সংমিশ্রণ ছাড়া সম্পূর্ণ হিজাব রক্ষা করে একজন মহিলা নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। ইসলাম এতে বাধা দেয় না। তবে খুব গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যে, পরিপূর্ণ পর্দা করে হলেও পুরুষ কাজ করে এমন কোন প্রতিষ্ঠানে কোন নারী কাজ করতে পারবে না। তাই যদি পর্দা রক্ষা করে কাজ করার মত কোন নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া যায়, তাহলে একান্ত বাধ্য না হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত পর্দার ফরয বিধান লঙ্ঘন করার (অর্থাৎ হিজাবকে জলাঞ্জলী দিয়ে পরপুরুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে কাজ করার) কোন সুযোগ ইসলামে নেই। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং জীবিকা ও উপার্জনের বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। কেউ যদি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন যা সে কল্পনা করতে পারে না। যেমনঃ- আল্লাহ তা‘আলা বলেন:‎ “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।” (সূরা তালাক: ৪) তিনি আরও বলেন: “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন ‎যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (সূরা তালাক: ২ ও ৩)‎

*****************************
একটি যাত্রী ভরা বাস চলতেছিলো। হঠাৎ ড্রাইভার বাসটিকে থামালেন...। সমস্যা কি জানতে চাইল যাত্রীরা। সে উত্তর দিল, "ওই যে বৃদ্ধ লোকটি বাসে উঠার জন্য হাত নাড়াচ্ছেন, তার জন্য আমি বাস থামাচ্ছি।" যাত্রীরা বিষ্মিত হয়ে বলল, "আমরা তো কাউকে দেখছি না।" সে বলল, "ঐ যে ওখানে তার দিকে তাকান।" আবারও যাত্রীরা বলল, "কাউকে দেখা যাচ্ছে না।" এবার ড্রাইবার বলল, "এখন দেখুন লোকটি বাসে উঠছে!!" যাত্রীরা বিষ্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চিৎকার করে বলছে, "আল্লাহর কসম! আমরা কাউকে দেখছি না।" তারপর এক মুহুর্তের মধ্যেই ড্রাইভার তার আসনেই মারা গেলো। হতে পারে এই বৃদ্ধ লোকটিই ছিলেন মালাকাল মউত! ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন মিসরের প্রখ্যাত আলেম, লেখক আলী তানতাভী [তথ্যসুত্রঃ লা তাহযান, লেখকঃ ড. আয়িদ আল ক্বারণী, ৫২৬পৃষ্ঠা] আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! হে আল্লাহ ! আমাদের সবাইকে তুমি ঈমানের হালতে মৃত্যু দান করিও। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...